Wednesday, December 24, 2008

* ~ একদিন স্কুলে...... ~ *

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৫৮




মাঝে মাঝে ছোট বেলার অনেক কথা মনে পড়তেই বেশ একটা আনন্দ অনুভূত হয়ে থাকে ... আর তা যদি হয় কোন দুষ্টুমির কাহিনী তাহলে তো আর কোন কথাই নেই ... স্কুলজীবনের ছোট্ট একটি ঘটনা বলি আজকে --

ছোটবেলায় আমরা দু-ভাই বোন একই স্কুলে পড়তাম ... আমি পড়তাম ক্লাস থ্রি তে ... আমার বোন ক্লাস ৭ এ ... থ্রিতে পড়লে কি হবে ,ঐসময়ে বাদরামীটা কম করেছি বলে মনে পড়ে না .... কোন এক দিন মেজাজ খারাপ করে দেয়ার কারনে ক্লাসের এক লম্বা চুলওয়ালীকে হেড-মিস্ট্রেসের বকা খাইয়েছিলাম ... সেটা ছিল সম্পূর্ন পরিকল্পিত ... এবং সে বকা খেয়ে কানতে কানতে অফিসরুম থেকে বের হতেই দাত কেলিয়ে এমন হাসি দিয়েছিলাম যে সে ঐটা এখনো নাকি ভুলতে পারেনি (অবশ্য সেটা জেনেছি ১৭ বছর পরে ... সে গল্প না হয় আরেকদিন বলা যাবে) ...... যাই হোক ... কয়েকদিন পরে সে আমার উপরে প্রতিশোধ ও নিয়েছিল ...তবে আরো ভয়ংকর ভাবে ...

টিফিন টাইমে আমরা একসাথেই খেলতাম ... কিন্তু ঐ ঝামেলার পরে কয়েক দিন আমরা আলাদা আলাদা ভাবে খেলা করতাম ... সবচেয়ে মজার খেলা ছিল বরফ-পানি খেলা ... স্কুলের সব ছেলে-মেয়েরা ঐ সময় মাঠে খেলতো তাই খেলার সময়ে দৌড়াতে গিয়ে এর ওর সাথে ধাক্কা লেগে যাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল ... একদিন আমাকে একজন তাড়া করছিল আর আমিও বেশ জোরে দৌড়াচ্ছিলাম... এদিকে কে জেনো আমার নাম ধরে ডেকেছে ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি , দৌড়াতে দৌড়াতে পিছনে তাকিয়ে কাউকে না পেয়ে সামনে তাকাতেই হঠাৎ আমার চোখে কোন একজনের হাত এসে লেগেছিল ... সাথে সাথে চোখের কোনে রক্ত জমে গিয়েছিল ... আর সেকি প্রচন্ড ব্যাথা ... এর মধ্যে কেউ একজন আমার আপুকে ও খবর দিলো (আমাদেরকে মোটামুটি সবাই চিনতো)... ও তো শুনে চোখ ফুলিয়ে হাউমাউ করে কানতে কানতে হাজির (আমি আবার তার চরম আদরের বাদর ভাই কিনা ... হে হে )... আমি একচোখে দেখছিলাম আরে ওর চোখে আবার কি হলো ... ওর চোখ লাল কেন ? ...

যাই হোক ও আমাকে নিয়ে গেল হেড মিস্ট্রেসের অফিসে ... বললো আমার ভাইয়া এমন ব্যাথা পেয়েছে ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব তাই আজকে ছুটি চাই ... আমি ওর পাশে একহাতে চোখ ঢেকে চুপ করে তাকিয়ে আছি আর আমার বোন কান্নাকাটি করে একাকার করে দিচ্ছিলো ... টিচার কিছুক্ষন ওর দিকে তাকিয়ে ওর সাথে একটু মজা করে বললেন -- তুমি এমন ভাবে কান্না করছো মনে হচ্ছে ব্যাথা আসলে তোমার ভাই পায়নি ... পেয়েছ তুমি ... (এর পরে অনেক সান্তনা দিয়ে উনি আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন)

সে দিনের কথা মনে পড়লে আজো মনের কোনে অন্যরকম অনুভূতি দোলা দিয়ে যায় ... মনে পড়ে সেই লাইন গুলো ---- সোনার খাঁচার দিন গুলো মোর রইলো না, রইলো না .... সেই যে আমার নানা রং এর দিন গুলি।

Saturday, December 13, 2008

Kokra chulwali amake Eidy dise (Bangla blog)

:) * ~ কোকড়া চুলওয়ালী আমাকে ঈদী দিসে ~ * B-)

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৬








আমার ব্লগে যারা আসেন তারা সবাই কোকড়া চুলওয়ালীকে চিনেন .... দেড় ফুটি, লম্বা কোকড়া চুলওয়ালী তার বড় বড় চোখে তাকিয়ে আমাকে বকা দিয়ে কি করেছিল তা আগের একটি পোষ্টে দিয়েছিলাম .... আজকে ওর সাথে আমার ঈদে ঘটে যাওয়া ছোট্ট একটা কাহিনী বলি --

দেশের ঈদ মানেই অন্যরকম আনন্দ ... রাতে যত দেরী করেই ঘুমাই না কেন, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল করে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া, সেখানে ঘন্টা কয়েক ধরে নামাজ পড়ার পরে সবার সাথে কোলাকুলি করা, আনন্দ করা ... খাওয়া দাওয়া, হৈ-হুল্লোড় করা এসব তো ছিল অনেক আনন্দের ব্যাপার ... এর মাঝেও যে জিনিসটা খুব উৎসাহের সাথে করতাম, তা হলো -- সালামী / ঈদী নেয়া ... এই কাজে, বড়দের পকেট কাটায় একরকম ওস্তাদ ছিলাম :P ... কিপটা বড় ভাইদের বুকে বুক মিলাতে মিলাতে ওরা নিজের পকেটে হাত না দিলেও আমরাও ঢুকিয়ে দিতাম ;) .... এখনো সে সব কথা মনে পড়তেই মনের অজান্তে হাসি চলে আসে ....

এবারের কাহিনী হইছে অন্যরকম .... কোকড়া চুলওয়ালীরে সব্বাই আদর করে ... এ জন্য এদেশেও উনি বেশ ভাল ঈদ উপহার এবং ঈদী পান ... এবার ঈদের পরে তার সাথে দেখা হলে পরে কড়া টাইপ আদর আর হাজার খানেক শক্ত চুমু দিয়ে কোলে নেয়ার পরে তার মুখ দেখে বুঝেছিলাম মনে মনে কিছু একটা বলতে চাইছে ...

আমি আসকাইলাম -- কি কাহিনী ? ... :)

বললো -- আমার ঈদী কৈ ? .... X(

শুইনা আমি তো পুরা টাসকি খেয়ে গেছি :| .... কয় কি পিচ্চি .... এর মাথায় ঈদীর কাহিনী ইনপুট করালো কে ? ....

এটা বের করার জন্য আমি আবার আসকাইলাম -- ঈদী কি জিনিস ? ;) .... :|

ও বলে -- ঈদের সময় বড়রা খুশী হয়ে ছোটদেরকে টাকা দেয়...... :)

আবার জিগাইলাম -- ক্যান ? :|

ও বললো -- আম্মু যে চকলেট কিনে দেয়না সেগুলো যেন ওদের ইচ্ছা মত কিনে খেতে পারে :)

আমি আবার জিগাইলাম -- তা আমি তোমারে ঈদি দিবো ক্যান ? :|

ও বললো -- তুমি না আমার বড় ? :)

আমি বললাম -- আমি কোথায় তোমার থেকে বড় বলো ? আমি না এই মাত্র তোমার কাছ থেকে শিখলাম ঈদী কাকে বলে ? ... আমি বড় হলে তো এটা আমার আগেই জানা থাকতো তাই না ? .... তাহলে সত্যিকারের বড় কে বলতো ? B-)

বেচারী কিছুক্ষন চুপচাপ চিন্তা করে বলে --- হুমমম .... ঠিক আছে, এই নাও এবার আমিই তোমাকে ঈদি দিচ্ছি ... এর পরে আর কখনো ভুলবানা কিন্তু X(

আমি কইলাম --- জ্বি বস !!!! B-)


সে আমারে টাকা দিতে চাইছিল, কিন্তু আমি কইছি আমারে তার প্রিয় জিনিসগুলোর মধ্যের কোন একটা দিতে .....ঐ মূহুর্তে ওর হাতে যেটা ছিল সেটাই আমাকে ঈদি হিসেবে দিয়ে দিছিল সোনামনি টা :)

Saturday, December 6, 2008

Er nam Y ki 6th Sense ? (Bangla)

এর নামই কি ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয় ? ....

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫১








ছেলেটি বেশ শান্তশিষ্ট , কথাও বলে কম। প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সকলের মত সে - হ্যালো, হাই ডু ইউ ডু বলেনি, সালাম দিয়েছিল। সেদিন থেকেই মনের এক কোনে কেন জানি তার জন্য একটি টান অনুভব করতাম। উপরের ফ্লাটে থাকার দরুন মাঝে মাঝে দেখা হয়ে যেত, সুন্দর করে একটি হাসি উপহার দিয়ে বলতো - ভাইয়া ভালো আছেন ? তার কখনো হাসি ছাড়া মুখ দেখেছি বলে মনে পড়েনা। মা, বাবা ও এক বোনের সংসারের একমাত্র উপার্যনক্ষম সে। শত কষ্টে পড়লেও কখনো কারো কাছে হাত পাততে দেখিনি , অথবা শুনিনি। শহরে এসেছিল কাজের সন্ধানে, পেয়েও গিয়েছে ভাল কাজ, কিন্তু যে বেতন পায় তা দিয়ে শহরে ৪ জনের সংসার চালানো সম্ভব না বলেই একলা থাকে, আর বাকি সকলে গ্রামে। বুকের ভিতরে জমে থাকা ভালবাসাকেও কখনো জাগতে দেয়না, শুধুমাত্র দায়িত্বের কথা চিন্তা করে। বন্ধু বান্ধবও বানায়না, অযথা খরচ এড়ানোর জন্য। মাঝে মাঝে মন খারাপ হলে চলে আসতো আমার কাছে, চুপচাপ বসে কাটিয়ে দিত কিছু সময়, চাপাচাপি না করলে সমস্যার কোন কথা ই বলতে চাইতো না।

সেদিন সকালে ঘুম ভেংগে গেল সেলফোনের কর্কষ আওয়াজে, প্রথমে মেজাজটা নিজের উপরে চরমভাবে বিগড়ে গিয়েছিল রাতে সাইলেন্ট করতে ভুলে যাওয়াতে, পরক্ষনের খবরটি পেয়ে মনে হলো, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন, না হলে খবরটি পেতে হয়তো বেশ দেরী হতে পারতো। ফোন নম্বরটি ছেলেটির , কিন্তু কথা বলছে একজন মেয়ে, শুরুতে আরেকবার খটকা লাগলো ... ব্যাপার কি ? ... পরে শুনলাম উনি একজন নার্স, সেল ফোনে "ভাইয়া" নামে আমার নম্বরটি সেভ করা দেখে এখানেই প্রথম ফোন করেছেন.... কারন ভোরবেলা কাজে যাওয়ার পথে আমার ছোট ভাইটির কোম্পানী থেকে দেয়া মোটরসাইকেলটিকে ঘাতক বাসের মাতাল ড্রাইভার পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। তার অবস্হা আশংকাজনক। ভাইটি এখন আই সি ইউ তে চিকিৎসাধীন আছে ।

সাথে সাথে রেডি হয়ে চললাম হাসপাতালে, টানা ৩ দিন যমদুতের সাথে মরনপণ লড়াই করে নিতান্ত ভাগ্যের জোরে এবারের যাত্রায় সে বেচে গেলেও ডাক্তার বললেন - হাসপাতালে থাকতে হবে কমপক্ষে আরো ৩ সপ্তাহ। প্রাইভেট ক্লিনিক হওয়ায় খরচ ও আকাশচুম্বী, এর উপরে মরার উপরে খাড়ার ঘা হিসেবে শুনলাম, সামনের সপ্তাহে ছোট বোনকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে। অনেক কষ্ট করে সে বেশকিছু টাকা জমিয়েছিল তাদের বসতভিটাকে পুনর্নিমান করবে বলে, যাতে করে ছেলে পক্ষ মেয়ের বাড়ীর কোন খুত না ধরতে পারে, সে কাজও প্রায় শেষ কিন্তু পেমেন্ট সব বাকী। তাও নাকি করতে হবে এ সপ্তাহের ভিতরে। এত ভোরবেলা সে নাকি ঐ টাকা একই গ্রামের এক লোক যিনি সেদিন বাড়ী যাচ্ছিলেন তাকে দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথের মধ্যে এ্যাক্সিডেন্টের কারনে সে টাকাও হারিয়ে গেছে। ...... কানতে কানতে ছেলেটি বলছিল -- এ জীবন রেখে কি লাভ ভাইয়া, নিজের চোখের সামনে বোনের জীবনের অঘটন, বাবা মা কে টাকার জন্য অন্যের কাছে ছোট হতে দেখার চেয়ে মরে যাওয়াই অনেক ভাল .... এতকিছুর পরেও আত্মসন্মানবোধে পরিপূর্ন ছেলেটির মুখ থেকে একবারের জন্যও সাহায্যের প্রয়োজন কথাটি না শুনে তার প্রতি সন্মানে চোখ ভিজে এলো ... সান্তনাসুচক একটি কথাও বলতে পারছিলাম না, শুধু তার হাতে আলতো চাপ দিয়ে চলে আসছিলাম, ওমনি সে মিষ্ট করে হেসে বলে উঠলো...... ধন্যবাদ ভাইয়া ।

( সে কিভাবে বুঝেছিল সে রাতে আমি কি করতে যাচ্ছি, তা আমি আজো বুঝতে পারিনি .......)

Shikarokti (Bangla poem)


স্বীকারোক্তি .....

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:০৭








কাল সারাদিন ঝির ঝির বৃষ্টিতে
সিক্ত হৃদয়ে তোমায় ভালবেসেছি,

সন্ধ্যার গোধুলী আলোর আবীরে রাঙ্গীয়ে
তোমায় ভালবেসেছি,

গভীর রাতে কাল বৈশাখীর ঝড়ের সাথে
যুদ্ধ করে তোমায় ভালোবেসেছি ...

ভোরের শিশির সিক্ত ঘাসের নরম ছোঁয়ায়
ঘুম ভাঙ্গিয়ে তোমায় ভালবেসেছি

সূর্য় কিরণের ঊষ্ম আদর মাখিয়ে
তোমায় ভালবেসেছি

আজকের ঝলমলে দিনের
ঊজ্বল আলোর ভেলায় ভাসিয়ে তোমায় ভালোবাসছি .....

তোমাকে ভালবাসছি বলেই পেয়েছি স্বনির্ভরতা
তোমাকে ভালোবেসেছি বলেই পেয়েছি পরিপূর্নতা
তোমাকে ভালোবেসে হারিয়েছি নিজের অস্তিত্ব

তবুও অনাবিল শান্তি এই বুকে...
কারন........
তোমাতে আমি হারিয়ে গিয়েই পেয়েছি আজ
সত্যিকারের স্বাধীনতা ....

Aaj Unlucky 13 Er Purnima (Bangla)

~ | | আজ আনলাকি (থারটিন) ১৩ এর পূর্নিমা ~ | |

১৪ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৩২





( একটু আগে কনকনে ঠান্ডায় বাইরে গিয়েছিলাম শুধু সেল ফোনে এ ছবিটা তোলার জন্য )



কিছুকাল আগের কথা ......... প্রবাস জীবনের যান্ত্রিকতার চাপে আমি যখন একজন রোবট টাইপ মানুষ ছাড়া আর কিছুই ছিলাম না , তখনই হঠাৎ একদিন এক ঝিরঝির মিষ্টি হাওয়া আমার কানে কানে ফিসফিস করে বলেছিল .... আজ পুর্নিমা .... এসো তোমাকে নিয়ে যাই দিগন্ত পারের ঐ বালুকা বেলায় ....... খালি পায়ে দুজনে হেটে বেড়াবো নদীর পাড়ে, হাতে হাত ধরে .... নিঃশব্দে চুপচাপ .... কথা হবে শুধু আমাদের চোখে চোখে, নিঃশ্বাসে আর হৃৎপিন্ডের ধুকপুকানিতে ..... মূহুর্তেই কেপে উঠেছিল শরীরের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোষবিন্দু ..... আত্মা যেন পেয়েছিল নতুন জীবনীশক্তি ......

সে বলেছিল.... আমরা দুজনে প্রতিটি পূর্নিমা দেখবো..... ঠিক এইভাবে ... মনে থাকবে তো ? .... কারন সে জানতো ....শত ব্যাস্ততার মাঝে এ জিনিসটার কথা আমার কখনোই মনে থাকে না ....

আজ ১৩ নভেম্বর ...... কাল রাতেই দেখেছিলাম তারিখটা .... দেখতেই কেন জানি হঠাৎ মনটা মুচড়ে উঠেছিল অজানা আশংকায় ..... আনলাকি থার্টিন বিষয়টাকে আমি সেইভাবে মানি না কিন্তু কালকে কেন জানি মনে হচ্ছিল.... এ দিনটা ঠিকভাবে কেটে গেলেই বাঁচি ..... তার পরে হঠাৎ চোখ পড়লো ক্যালেন্ডারের অন্য অংশে .... সেখানে দেখলাম আজকে পুর্নিমা .... মনে হয়েছিল কাল ঐ মিষ্টি সুরের ঝিরঝির বাতাসকে একটা মজার সারপ্রাইজ দিব .... ও যখন জানতে পারবে আজকে পুর্নিমা, আর আমার সেটা মনে আছে.... কেমন চমকে উঠবে চিন্তা করতেই মনটা আনন্দে ভরে উঠেছিল ....

কে জানতো আসল চমক তো আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল .... সারা দিন অপেক্ষার পরে যখন তাকে পেলাম.... জানলাম .... আজ সে আরেক জনের মনের খাঁচার বন্দি হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

Thursday, December 4, 2008

Kokra chulwali amake boka dise (Bangla)



:| :| কোকড়া চুলওয়ালী আমাকে বকা দিসে :| :|

০৫ ই ডিসেম্বর,






সকাল সন্ধ্যা গাধার খাটুনির পরে বাসায় এসে পিসিতে বসে সময় কাটানো এর পরে ঘুম সকালে উঠে আবার ঘড়ির কাটা ধরে সেই ছুটে চলা, জীবনকে যান্ত্রিক করে তুলেছিল ... এ কারনেই সেদিন আমরা এক হয়েছিলাম কয়েকজন বড় ভাই, বন্ধু বান্ধব ... এর মাঝে বেশ কয়েকজন বিবাহিত, কিছু ছিলেন হাফ ব্যাচেলর (নিজ নিজ দোকলা সহ) এবং আমার মতো কিছু কপাড় পোড়া ব্যাচেলর (যাদের দোকলাও নাই, বউ ও নাই) :(

সেদিন বিকেলে এক বড় ভাই এর বাসায় আড্ডাটা জমেছিল মুলত সময়ের কাটা ধরে চলার নিয়মকে ভেঙ্গে একটু আনন্দ করা, খাওয়া দাওয়া করার জন্য। সময়মত সবাই উপস্হিত হতেই এক এক করে দেখি দল আলাদা হওয়া শুরু হলো .... বাচ্চারা সব নিজেদের জন্য আলাদা যায়গা বানিয়ে খেলা শুরু করলো ... ভাবীরা রান্নাঘরে তাদের আসর জমালেন .... আর আমরা এদিকে ড্রইংরুমে .... আমাদের মাঝে কয়েকজন ছিলেন যারা নিউজ-ভক্ষক ... আনন্দ করতে এসেও কোন চ্যানেলে কোন নিউজ দিচ্ছে তা না দেখলে মনে হয় দুনিয়া উল্টে যাবে X((... কয়েকজন আবার রাজনীতিবিদ ... বাউন্ডারির বাইরে বসে বাংলাদেশের নির্বাচনের খেলায়- ক্রিজে কে কিভাবে খেললে ভাল হয় তা নিয়ে গবেষনা না করলে মনে হয় ওদের পেট ফেটে যাবে X((... কেউ কেউ আবার গলা চড়িয়ে তাদের দোকলার গুনগান করছিলেন ... যাতে করে রান্না ঘরেও তাদের মন্তব্যগুলো পৌছে যায় এবং অন্যান্যদের চেয়ে নিজেরা উপরে থাকতে পারেন ... :-*

এসব আজাইরা কান্ড দেখে আমাদের কয়েকজনের লেগে গেল চরম ক্ষুধা :|... দিলাম শুরু করে চিল্লা পাল্লা ...খাওয়ার সময় না হলেও কয়েকজনের সমর্থন পাওয়াতে আমাদের আন্দোলন টা বেশ কাজে দিলো ;)... আমাদের জন্য সব খাবার কিছু কিছু করে সামনে এনে রাখা হলো আর বলা হলো এখন অল্প করে খাওয়ার জন্য পরে সবাই একসাথে খাবো ... কিন্তু এ কথা বলে চলে যাওয়ার সময় ভাবীদের চোখের অগ্নিদৃষ্টি X( আর দোকলা ভাবীদের হুমকীমাখা গম্ভীরতার X(( সামনে ফ্রেস ব্যাচেলররা ছাড়া ঐ খাবারে আর কেউ সেইভাবে হাত দিতে সাহস পেল না ... এক দুই টুকরা নামকাওয়াস্তে মুখে দিয়ে কুলুপ এটে বসে থাকলো ... এদিকে আমাদের তো পোয়া বারো ... আমাদের আর ঠেকায় কে B-).... পেটে ধরুক আর না ধরুক ... ডিশের শেষ টুকরা টাও আমরা ছাড়িনি B-)... আমাদের খাওয়া শেষ হওয়ার কিছু পরেই ভাবীরা ডাইনিং টেবিলে সব খাবার গুছিয়ে ফেললেন.... এবার সবাইকে ডাকা হলো ... আমরা বললাম যে খাবার তো গলায় এসে ঠেকছে ... আপনারা খান ... আমরা এখন ডেজার্ট খাবো ...:)

আমি কেবল ডেজার্টের একটা বাটি হাতে নিয়েছি ... ততক্ষনে বাচ্চারাও খাওয়ার জন্য এসে পড়েছে ... তখন দেখি এক দেড় ফুটি - কোকড়া লম্বা চুল ওয়ালী, তার বড় বড় চোখ দিয়ে আমার দিকে অগ্নি বর্ষন করছে :|...

ও বললো -- খেতে চলো ... X((
আমি বললাম - খেয়েছি তো ... :|

এবার তার চোখের দৃষ্টিতে আমি মনে হলো যেন মূহুর্তেই ভষ্ম হয়ে যাব ... X(

বললো -- কি ? ... X(
আমি বললাম -- না মানে , আমি ... :|
সে আরেকবার বললো -- তুমি এখন আমার সাথে খাবা .... X(

মূহুর্তের মধ্যে অনন্ত দিগন্তের হাতের বাটি সামনে টি টেবিলে পৌছে গেল এবং সুবোধ বালকের মতো কোকড়ানো চুলওয়ালীর প্রতিটি কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে থাকলো ... কারন ... পৃথিবীতে সে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা মানুষের জন্য সবকিছু করতে পারে ... এবং তার মধ্যে কোকড়াচুলওয়ালী একজন।:)

Thursday, November 13, 2008

Ekjon RaTrir OpeKkha ......(Bangla)


একজন রাত্রির অপেক্ষা ....







চোখ খুলতেই অজানা এক আশংকায় বুকটা ধক করে উঠলো রাত্রির, চারিদিকের অতি চেনা পরিবেশটাও কেন যেন আজ বড় অচেনা মনে হচ্ছে.... ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই চমকে উঠলো - আরে ওখানে না একটা নতুন টেবিল ছিল, এ পুরনো টেবিল কাচের জগ আর কাসার গ্লাস কোথ্থেকে আসলো ? চির চেনা দেয়ালগুলোর ক্ষয়িষ্নু চেহারা ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে যেন তার হৃদয়ের প্রতিটি বর্গ সেন্টিমিটারকে .... এইতো সেদিন নিজ হাতে কোমরে শাড়ির "ওর" সাথে আচল পেচিয়ে রং করেছিল এই দেয়াল ... "ওর" নামটি মুখে আনতে এখনো লজ্জা করে বলে রাত্রি তার নাম নেয় না ....

পাশের ঘরে কোন একটি বাচ্চা কান্না করছে.... আরে, কেই ধরছে না কেন ? ..... সবাই কি মরে গেছে নাকি এ বাসার ? .... কিরে তোরা কেউ ধর না গিয়ে বাচ্চাটাকে..... জোরগলায় চিৎকার দিতে গিয়ে সে টের পেল গলা থেকে শুধু ঘড় ঘড় আওয়াজ ছাড়া আর কিছু বের হচ্ছে না ..... অনেক কষ্টের সাধনার পরে গলা দিয়ে কিছু শব্দ বের করার পরেও তা পাখির বাচ্চার চিঁ চিঁ থেকে খুব বেশি জোরে না হওয়ার কারনে সে চেষ্টাও বাদ দিয়ে নিজেই উঠে বাচ্চাটিকে সামলানোর পরিকল্পনা করলো .... কিন্তু একি , শরীর দেখি বিছানার সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে চুম্বকের মতো লেগে রয়েছে... নাহ , এভাবে শরীরকে মনের উপরে জয়ী করা চলবে না, মনের জোরে এবার কাজ করতে হবে ....চোখ বন্ধ করে, কম্পমান হাতদুটির উপরে ভর করে এক নিশ্বাসে কিছুদুর উপরে উঠতেই সোজা ধপাস করে গদিবিহীন খাটের উপরে পড়ে কংকালশরীরের মেরুদন্ডে বোধকরি আরেকটি ফাটল ধরালো রাত্রি ....

নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো .... এই তো সেই খাট,এ বাড়িতে এসে যে খাটেই সে প্রথম শুয়েছিল ওর সাথে .... নরম তুলতুলে গদির বিছানার লাল রং এর মখমলের চাদর বিছানো ছিলো ... তার উপরে ছিল হরেক রকম ফুলের পাপড়ি ... ওর বিদায়ের সাথে সাথে সব কিছুর ই বিদায় হয়ে গেছে ..... রয়ে গেছে শুধু কংকালসম এ খাট, জীর্ন-ক্ষয়িষ্নু শরীরের রাত্রি আর তার কিছু বিবর্ন স্মৃতি।


হায় !! ...... কি পরিবর্তন .... সেই দিন .... আর এই দিনে .... এখন শুধু অপেক্ষার পালা ..... ওর সাথে দ্বিতীয় মিলনের।

Tuesday, November 11, 2008

Shaown Ebong Ekti Konthoswar (Bangla)


:| ...... শাওন এবং একটি কন্ঠস্বর ...... :|









গভীর রাতে হালকা টুং টাং শব্দে যন্ত্র সংগীত শুনতে শুনতে কখন যে চোখ লেগে গিয়েছে খেয়ালই নেই শাওনের ... চোখ মেলতেই অদ্ভুত এক রহস্যময় আলোর বিচ্ছুরন যেন ঝলসে দিতে চাইলো ওর কোমল চোখের দৃষ্টিকে .... ভ্রু বাঁকিয়ে, চোখ কুঁচকে আলোটাকে একটু সহ্য করার চেষ্টা করতেই বাতাসে ভেসে এলো একটি অতি পরিচিত মধুর গমগমে কন্ঠস্বর ...বললো -- " কেমন আছো শাওন "


একি.... এ তো সেই অতি পরিচিত কন্ঠস্বর, যা শোনার জন্য প্রতিরাতে সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো ..... আজ সে এত কাছে ? .... ভাবতেই বুকে হৃতপিন্ডের গতি যেন দ্বিগুন হয়ে উঠলো, .... মনে মনে বললো -- হায় আল্লাহ - আমি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি না তো ? ..... ও বুঝে ফেললে কি মনে করবে .......

-- তুমি অমন করছো কেনো শাওন ?
------ না মানে, আসলে.....

-- লজ্জা করছে ?
------ একটু ........

-- তাহলে তোমার চোখ দুটো বন্ধ করো, তাহলে এমন লাগবে না ।
------ কিন্তু আমি তোমায় দেখতে পাচ্ছি না কেন ?

-- আমাকে না দেখেই তোমার এমন অবস্হা, দেখতে পেলে কি করবে শুনি ...
------ কিন্তু ..... কিন্তু ....

-- কোনো কিন্তু নয়, তুমি না একদিন সমুদ্র দেখতে চেয়েছিলে ? আজকে চল তোমাকে সমুদ্র দেখাতে নিয়ে যাব
------ আমি যে চলতে পারি না, চোখেও দেখি না ....অতদুরে যাব কিভাবে, গেলেও দেখবো কিভাবে ?

-- তোমাকে কে বলেছে তুমি অনেক দুরে ? একটু মন দিয়ে গভীরভাবে শুনতে চেষ্টা কর তো, সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাও কি ?
------ কৈ না তো ....

-- মনটা কে শান্ত করে আরেকটু চেষ্টা করো, হালকা হাওয়ার নিবিড় স্পর্শে আমরা দুজন হাত ধরে সমুদ্রের গর্জন শুনব....
------ (ঠান্ডা হাওয়ায় মনের মানুষের হাতের ছোয়ার কথা শুনেই কেমন একটা অনুভুতি দোলা খেয়ে গেলো শাওনের সমস্ত ইন্দ্রীয় গুলোতে .... বললো --) তাই তো, আমি তো সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাচ্ছি .....

-- এবার আস্তে আস্তে হুইল চেয়ার থেকে পা নামিয়ে দাও ... দেখতো পায়ে চলার শক্তি ফিরে পেয়েছ কিনা ....
------ (হুইল চেয়ার থেকে পা নামিয়ে দিতেই মনে হলো আরে আমার পায়ে তো আগের মতোই শক্তি ফিরে এসেছে...... অশ্রুসিক্ত ধরা গলায় সে বললো --) আমি মনে হয় এখন হাটতে পারবো

-- একটু চেষ্টা করে দেখ.... বেশী দুরে যাওয়ার দরকার নেই, অল্প অল্প করে চেষ্টা কর
------ (একটু দাড়লো, এরপর অল্প হাটলো, এরপর এমন ভাল লাগলো, মনে হলো এক দৌড়ে সাগরের পানি ছুয়ে দেখবে.... বললো -- ) আমি একটু দৌড়াই ?

-- কিন্তু.... তুমি কি পারবে ?
------ (জেদি গলায়) তুমি কি আমার সক্ষমতাকে ছোট করে দেখছো ? দেখতে চাও আমি পারি কিনা ?

-- আমি জানি তুমি পারবে, কিন্তু এখন কি সেটা ঠিক হবে ?
------ ঠিক বেঠিক সেটা আমি বুঝবো , আমি এখন যাব ব্যাস এটাই শেষ কথা, তুমি কিছু বলবে ?

-- আচ্ছা যাও..... তবে একটু সাবধানে ....
------ হুমমমম ........

প্রথমে ধীর পায়ে , এর পরে অসম্ভব জোরে দৌড়ুতে থাকলো শাওন ..... দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় মনে হলো কেন জানি সে থামতে পারছে না ..... অনেক চেষ্টা করেও নিজের গতিকে থামাতে না পেলে কেমন জানি আনমোনা হয়ে পড়লো .... পিছন থেকে সেই পরিচিত কন্ঠস্বর চিৎকার করে চলেছে....... শাওন থামো ..... স্টপ ..... প্লিজ !!!!

হঠাৎ কিসের সাথে যেন ধাক্কা খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লো, পায়ে কেমন যেন অসহ্য ব্যাথা অনুভুত হচ্ছে ..... চোখে বিভিন্ন আলোর ঝলকানীর মাঝে কয়েকটি স্মৃতি যেন চলমান বাইস্কোপের মতো দৃশ্যমান হলো ---- দেখলো --

এক জেদী মনের মানুষের কাছে হার মেনে গাড়ীর চাবি দিতে বাধ্য হলো তার সর্বকালের প্রিয় বন্ধুটি .... কারন শুধু একটাই, শুধু দেখাতে চায় সেও তার মতো জোরে গাড়ী চালাতে পারে.... বন্ধুটির বার বার নিষেধ সত্বেও এক্সিলেটরের চাপ না কমিয়ে জটিল একটি বাঁকে টার্ন নিতে গিয়ে কোথায় জানি চলে যাচ্ছে .... গাড়ির গতিকে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে মাথাটা কেমন জানি ঘুরে গেল..... কানে এল একটি পরিচিত কন্ঠস্বরের চিৎকার --- শাওন থামো ..... স্টপ ..... প্লিজ !!!! .........

এরপর .... সব অন্ধকার !!!!!!