Thursday, November 13, 2008

Ekjon RaTrir OpeKkha ......(Bangla)


একজন রাত্রির অপেক্ষা ....







চোখ খুলতেই অজানা এক আশংকায় বুকটা ধক করে উঠলো রাত্রির, চারিদিকের অতি চেনা পরিবেশটাও কেন যেন আজ বড় অচেনা মনে হচ্ছে.... ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই চমকে উঠলো - আরে ওখানে না একটা নতুন টেবিল ছিল, এ পুরনো টেবিল কাচের জগ আর কাসার গ্লাস কোথ্থেকে আসলো ? চির চেনা দেয়ালগুলোর ক্ষয়িষ্নু চেহারা ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে যেন তার হৃদয়ের প্রতিটি বর্গ সেন্টিমিটারকে .... এইতো সেদিন নিজ হাতে কোমরে শাড়ির "ওর" সাথে আচল পেচিয়ে রং করেছিল এই দেয়াল ... "ওর" নামটি মুখে আনতে এখনো লজ্জা করে বলে রাত্রি তার নাম নেয় না ....

পাশের ঘরে কোন একটি বাচ্চা কান্না করছে.... আরে, কেই ধরছে না কেন ? ..... সবাই কি মরে গেছে নাকি এ বাসার ? .... কিরে তোরা কেউ ধর না গিয়ে বাচ্চাটাকে..... জোরগলায় চিৎকার দিতে গিয়ে সে টের পেল গলা থেকে শুধু ঘড় ঘড় আওয়াজ ছাড়া আর কিছু বের হচ্ছে না ..... অনেক কষ্টের সাধনার পরে গলা দিয়ে কিছু শব্দ বের করার পরেও তা পাখির বাচ্চার চিঁ চিঁ থেকে খুব বেশি জোরে না হওয়ার কারনে সে চেষ্টাও বাদ দিয়ে নিজেই উঠে বাচ্চাটিকে সামলানোর পরিকল্পনা করলো .... কিন্তু একি , শরীর দেখি বিছানার সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে চুম্বকের মতো লেগে রয়েছে... নাহ , এভাবে শরীরকে মনের উপরে জয়ী করা চলবে না, মনের জোরে এবার কাজ করতে হবে ....চোখ বন্ধ করে, কম্পমান হাতদুটির উপরে ভর করে এক নিশ্বাসে কিছুদুর উপরে উঠতেই সোজা ধপাস করে গদিবিহীন খাটের উপরে পড়ে কংকালশরীরের মেরুদন্ডে বোধকরি আরেকটি ফাটল ধরালো রাত্রি ....

নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো .... এই তো সেই খাট,এ বাড়িতে এসে যে খাটেই সে প্রথম শুয়েছিল ওর সাথে .... নরম তুলতুলে গদির বিছানার লাল রং এর মখমলের চাদর বিছানো ছিলো ... তার উপরে ছিল হরেক রকম ফুলের পাপড়ি ... ওর বিদায়ের সাথে সাথে সব কিছুর ই বিদায় হয়ে গেছে ..... রয়ে গেছে শুধু কংকালসম এ খাট, জীর্ন-ক্ষয়িষ্নু শরীরের রাত্রি আর তার কিছু বিবর্ন স্মৃতি।


হায় !! ...... কি পরিবর্তন .... সেই দিন .... আর এই দিনে .... এখন শুধু অপেক্ষার পালা ..... ওর সাথে দ্বিতীয় মিলনের।

Tuesday, November 11, 2008

Shaown Ebong Ekti Konthoswar (Bangla)


:| ...... শাওন এবং একটি কন্ঠস্বর ...... :|









গভীর রাতে হালকা টুং টাং শব্দে যন্ত্র সংগীত শুনতে শুনতে কখন যে চোখ লেগে গিয়েছে খেয়ালই নেই শাওনের ... চোখ মেলতেই অদ্ভুত এক রহস্যময় আলোর বিচ্ছুরন যেন ঝলসে দিতে চাইলো ওর কোমল চোখের দৃষ্টিকে .... ভ্রু বাঁকিয়ে, চোখ কুঁচকে আলোটাকে একটু সহ্য করার চেষ্টা করতেই বাতাসে ভেসে এলো একটি অতি পরিচিত মধুর গমগমে কন্ঠস্বর ...বললো -- " কেমন আছো শাওন "


একি.... এ তো সেই অতি পরিচিত কন্ঠস্বর, যা শোনার জন্য প্রতিরাতে সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো ..... আজ সে এত কাছে ? .... ভাবতেই বুকে হৃতপিন্ডের গতি যেন দ্বিগুন হয়ে উঠলো, .... মনে মনে বললো -- হায় আল্লাহ - আমি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছি না তো ? ..... ও বুঝে ফেললে কি মনে করবে .......

-- তুমি অমন করছো কেনো শাওন ?
------ না মানে, আসলে.....

-- লজ্জা করছে ?
------ একটু ........

-- তাহলে তোমার চোখ দুটো বন্ধ করো, তাহলে এমন লাগবে না ।
------ কিন্তু আমি তোমায় দেখতে পাচ্ছি না কেন ?

-- আমাকে না দেখেই তোমার এমন অবস্হা, দেখতে পেলে কি করবে শুনি ...
------ কিন্তু ..... কিন্তু ....

-- কোনো কিন্তু নয়, তুমি না একদিন সমুদ্র দেখতে চেয়েছিলে ? আজকে চল তোমাকে সমুদ্র দেখাতে নিয়ে যাব
------ আমি যে চলতে পারি না, চোখেও দেখি না ....অতদুরে যাব কিভাবে, গেলেও দেখবো কিভাবে ?

-- তোমাকে কে বলেছে তুমি অনেক দুরে ? একটু মন দিয়ে গভীরভাবে শুনতে চেষ্টা কর তো, সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাও কি ?
------ কৈ না তো ....

-- মনটা কে শান্ত করে আরেকটু চেষ্টা করো, হালকা হাওয়ার নিবিড় স্পর্শে আমরা দুজন হাত ধরে সমুদ্রের গর্জন শুনব....
------ (ঠান্ডা হাওয়ায় মনের মানুষের হাতের ছোয়ার কথা শুনেই কেমন একটা অনুভুতি দোলা খেয়ে গেলো শাওনের সমস্ত ইন্দ্রীয় গুলোতে .... বললো --) তাই তো, আমি তো সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাচ্ছি .....

-- এবার আস্তে আস্তে হুইল চেয়ার থেকে পা নামিয়ে দাও ... দেখতো পায়ে চলার শক্তি ফিরে পেয়েছ কিনা ....
------ (হুইল চেয়ার থেকে পা নামিয়ে দিতেই মনে হলো আরে আমার পায়ে তো আগের মতোই শক্তি ফিরে এসেছে...... অশ্রুসিক্ত ধরা গলায় সে বললো --) আমি মনে হয় এখন হাটতে পারবো

-- একটু চেষ্টা করে দেখ.... বেশী দুরে যাওয়ার দরকার নেই, অল্প অল্প করে চেষ্টা কর
------ (একটু দাড়লো, এরপর অল্প হাটলো, এরপর এমন ভাল লাগলো, মনে হলো এক দৌড়ে সাগরের পানি ছুয়ে দেখবে.... বললো -- ) আমি একটু দৌড়াই ?

-- কিন্তু.... তুমি কি পারবে ?
------ (জেদি গলায়) তুমি কি আমার সক্ষমতাকে ছোট করে দেখছো ? দেখতে চাও আমি পারি কিনা ?

-- আমি জানি তুমি পারবে, কিন্তু এখন কি সেটা ঠিক হবে ?
------ ঠিক বেঠিক সেটা আমি বুঝবো , আমি এখন যাব ব্যাস এটাই শেষ কথা, তুমি কিছু বলবে ?

-- আচ্ছা যাও..... তবে একটু সাবধানে ....
------ হুমমমম ........

প্রথমে ধীর পায়ে , এর পরে অসম্ভব জোরে দৌড়ুতে থাকলো শাওন ..... দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় মনে হলো কেন জানি সে থামতে পারছে না ..... অনেক চেষ্টা করেও নিজের গতিকে থামাতে না পেলে কেমন জানি আনমোনা হয়ে পড়লো .... পিছন থেকে সেই পরিচিত কন্ঠস্বর চিৎকার করে চলেছে....... শাওন থামো ..... স্টপ ..... প্লিজ !!!!

হঠাৎ কিসের সাথে যেন ধাক্কা খেয়ে অচেতন হয়ে পড়লো, পায়ে কেমন যেন অসহ্য ব্যাথা অনুভুত হচ্ছে ..... চোখে বিভিন্ন আলোর ঝলকানীর মাঝে কয়েকটি স্মৃতি যেন চলমান বাইস্কোপের মতো দৃশ্যমান হলো ---- দেখলো --

এক জেদী মনের মানুষের কাছে হার মেনে গাড়ীর চাবি দিতে বাধ্য হলো তার সর্বকালের প্রিয় বন্ধুটি .... কারন শুধু একটাই, শুধু দেখাতে চায় সেও তার মতো জোরে গাড়ী চালাতে পারে.... বন্ধুটির বার বার নিষেধ সত্বেও এক্সিলেটরের চাপ না কমিয়ে জটিল একটি বাঁকে টার্ন নিতে গিয়ে কোথায় জানি চলে যাচ্ছে .... গাড়ির গতিকে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে মাথাটা কেমন জানি ঘুরে গেল..... কানে এল একটি পরিচিত কন্ঠস্বরের চিৎকার --- শাওন থামো ..... স্টপ ..... প্লিজ !!!! .........

এরপর .... সব অন্ধকার !!!!!!

Hellow

Hellow

This is the first blog i m writing here in this site.

hope to be here every day

have a nice day every one.

thank you

Bye.