Tuesday, April 28, 2009

কোঁকড়াচুলওয়ালী বকা দিয়ে বলে -> আমি নাকি দুষ্টুমির প্রতিভা

কোঁকড়াচুলওয়ালী বকা দিয়ে বলে -> আমি নাকি দুষ্টুমির প্রতিভা :((

২৫ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪২





কয়েকদিন হলো কোকড়াচুলওয়ালীর সামনে যাইনি ... ফোনে টুক টাক কথা বলে রেখে দেই ... কিন্তু সামনে যাওয়ার সাহস নেই ... আর থাকবেই বা কেমন করে, এমন একটা কাজ করার পরে ওর সামনে কি যাওয়া যায় ? :|

অঘটনটা ঘটেছে কয়েকদিন আগে ...

গিয়েছিলাম একটি আন্তঃবিভাগীয় ভলিবল টুর্নামেন্ট খেলতে ... জ্বরের কারনে শরীর বেশ দুর্বল ছিলো ... তবুও খেলাটা একটা নেশার মতো হওয়াতে যাবনা যাবনা করতে করতে চলেই গিয়েছিলাম প্র্যাকটিসে ... ২ দিন পরে মনে হলো যেন খেলতে পারবো ... যেমন ভাবা তেমন কাজ, চলে গেলাম টুর্নামেন্ট খেলতে ... শরীরটা সেদিন সকালে ভালই ছিল ... প্রথম আর দ্বিতীয় রাউন্ডে পর পর ৫ টা ম্যাচ খেলে সেমিফাইনালে উঠার পরে লান্চ ব্রেক .... লান্চের সময়ে কেমন জানি মাথা ব্যাথা করছিল ... সেমিফাইনালের আধঘন্টা আগে একটা পেইন কিলার খেয়ে একটু ভালো অনুভূত হওয়ায় সেটা খেললাম, ফাইনালে গিয়ে আর পারলাম না .... হেরে গেলাম .... এর পরে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের আগে ভলিবল কোর্টের পাশে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম আমাদের টিম ম্যানেজারের সাথে .... আর কিছু উৎসাহী দর্শক তখন ম্যানেজমেন্টের অনুমতি নিয়ে খেলছিল নিজেরা নিজেরা .... এমন সময় একজন এমনই সার্ভিস করে বসলো যে , বলটি বিপক্ষের কোর্টে না গিয়ে ছুটে আসলো কোর্টের পাশে দাড়ানো আমার দিকে ... আর লাগবি তো লাগ একেবারে আমার চশমার ডাটির উপরে :((

ফলাফল যা হওয়ার তাই ... চশমার ভেঙ্গে নাকে গেথে গেল মোটামুটি গভীর ভাবে ... আর সেই সাথে রক্তপাত ...সাইড থেকে লাগার কারনে কাচ ভেঙ্গে চোখে লাগেনি ... আর কি করা ... এই টুর্নামেন্টের একমাত্র ইনজুরি তাও আবার খেলার বাইরে ... আর হবি তো হ, আমার সাথেই ? ... নাকে ব্যান্ডেজ নিয়ে ফিরলাম বাসায় ... এই অবস্হায় কোঁকড়া চুলওয়ালীর সামনে যাওয়া মানে হলো নগদে বকা খাওয়া ... তাই এটা সেটা কারন দেখিয়ে ওর সামনে যাইনি ... ব্যান্ডেজ খোলার পরেও নাকের উপরে যে কালো দাগ হয়েছে সেটার কারনে আরো ওর থেকে পালিয়ে চলছিলাম ... একে তো জানে না আমি নাকে ব্যাথা পেয়েছিলাম ... তার উপরে যদি দেখে এমন দাগ, নির্ঘাত আমার খবর আছে :| ...

কিন্তু কথায় বলে না, যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয় ? ঠিক তেমনি ওর আম্মু সেদিন একটা কাজ দিয়ে বললো ওটা ওদের বাসায় পৌছে দিতে ... একটু এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম বলে এমন এক বকা দিলো যে অন্য কিছু বলার সাহস ই পেলাম না ... সুবোধ বালকের মতো কাজের জিনিসগুলো নিয়ে এমন সময় ওদের বাসায় গেলাম যখন কোঁকড়া চুলওয়ালীর স্কুলে থাকার কথা ... বাইরে থেকে বেল দিতেই দেখি দরজা খুলে দিলো আমার পুসকি কোঁকড়া চুলওয়ালী ... আমি তো থ ! ... আসকাইলাম তুমি আজকে স্কুলে যাওনি ? ও বললো -- আজকে ওদের স্কুলের টিচাররা কোন একটা মিটিং এ বসবে , এ জন্য নাকি স্কুল ছুটি ... এই বলেই দু হাত উপরে করে এক লাফে চড়ে বসলো আমার কোলে .... এর পরে শুরু হলো তার নানা কীর্তি কলাপের কাহিনী, আজকাল নাকি ইচ্ছে করেই আম্মুকে বেশ রাগিয়ে দেয় আর ওর আম্মু নাকি ওকে আজকাল নতুন নতুন কত দিয়ে বকা দিচ্ছে ... সেটা নাকি শুনতে ভাল লাগে এ জন্য আরো ইচ্ছা করেই সে বেশী দুষ্টুমি করে ..... আমি শুনি আর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেই ....

যত হাসি তত কান্না ... কথাটার ফলতে আমার খুব বেশী দেরী হলো না ... হঠাৎ কোঁকড়া চুলওয়ালী লক্ষ্য করলো আমার চোখে নতুন ফ্রেমের চশমা ... হাত বাড়িয়ে বললো ... দেখি দেখি , তোমার নতুন চশমা ... করে কিনলা ? খুব সুন্দর হইছে ... বলতে বলতে চশমা খুলতে গিয়ে চোখে পড়লো নাকের ডান পাশে বেশ খানিকটা জায়গার কাটা দাগগুলোতে :|

ব্যাস .... আর কৈ যাবো ... যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে কঠিনভাবে আমার ইন্টারোগেশন শুরু হলো ... এটা কবে হলো .... কেমনে হলো ... অসুস্হ শরীর নিয়ে কেন খেলতে গেলাম ... গেলাম ভাল কথা চোখে চশমা পরে কেন খেল্লাম ... চোখে চশমা পরে খেলার সময় লাগেনি ভাল কথা, খেলার পরে লাগলো ক্যান ? ... কোর্টের পাশে না দাড়িয়ে অন্য জায়গাতে কেন দাড়াইনি ... ওখানে দাড়িয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে কেন কথা বলছিলাম ... আরো সাবধানে কেন থাকলাম না ..... এমন সব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৫ সেকেন্ড সময় দেয়া হচ্ছিলো ... আর যে উত্তরগুলো তার পছন্দ হচ্ছিলো না পরের প্রশ্নটা আরো ঝাঁঝের সাথে করা হচ্ছিলো :((

মাথা নিচু করে উত্তর দিতে দিতে একসময় দেখি কোকড়াচুলওয়ালীর প্রশ্নবান থেমে গেল ...আমি ওর দিকে তাকাতেই, সে কয়েকমূহুর্ত চুপ থেকে নিজের ঘরের দিকে দৌড়ে যাবার সময় একবার আমার দিকে ফিরে টলটল চোখে চিৎকার দিয়ে বললো -- তুম এট্টা দুত্তুমির পতিবাX( ...

মেহেদী রাঙ্গানো হাতের ছোঁয়া

মেহেদী রাঙ্গানো হাতের ছোঁয়া

২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:০০





মেকি হাসি টা ফুটিয়ে তুলতে খুব একটা সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাকে ... মনের চাপা অপ্রত্যাশিত সত্যটাকে স্বযত্নে লুকিয়ে অনাবিল হাসিতে চারিদিকের মানুষগুলোকে আনন্দে ভরিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে একপাশে সরে যেতেই বেদনার কালোছায়া ছেয়ে গেল ওর অবয়ব জুড়ে ... অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে আংগুলের অগ্রভাগ দিয়ে চোখের কোন থেকে চিকচিকে পানির ফোটা টি কে দুর করে দিতেই মনে হলো গলাটা বেশ ভারী অনুভুত হচ্ছে ... ওয়েটারের কাছ থেকে ইশারায় এক গ্লাস পানি চাইতেই লক্ষ্য করলো আড়চোখে কেউ কেউ তাকে লক্ষ্য করছে ... হয়তো এখানের কারো কারো গসিপের মধ্যমনি সে ... তবুও আজকে সে এখানে এসেছে শুধু নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষটির জন্য ... তার অনুরোধ কোনভাবেই টলাতে পারেনি সেই দিন যখন সে বলেছিল -- আমার জীবনের সব দুঃখের সময় তোকে কাছে পেয়েছি, আর এমন আনন্দের দিনে তুই পারবি আমার থেকে দুরে থাকতে ?

এক অন্যরকম ঘটনার মাধ্যমে ওদের পরিচয় হয়েছিল একদিন, কাছে আসার সুযোগ থাকলেও তখন কাছে আসা হয়নি, হয়তো সবচেয়ে কাছে আসার জন্যই সেদিন বিধাতা নিজেদের মধ্যে দুরত্বটা বজার রেখেছিলেন ... আর এর পরে যখন কাছে আসা হলো, তখন এতটাই নিবিড় সম্পর্ক তৈরী হয়েছিল যে তখন থেকেই আজকের দিনটির জন্য দুজনের মাঝেই একটি ভয়ের জন্ম নিয়েছিল ... সময়ের সাথে সাথে একজন সেটিকে অতিক্রম করতে পারলেও অন্যজন ধীরে ধীরে গুটিয়ে যাচ্ছিলো নিজের ভিতরের এক অপরিচিত জগতে ... সময়ের সাথে সাথে অপরজন যখন তার পথ চলার সাথীকে বেছে নিল, তখন গুটিয়ে যাওয়া অনুভুতিগুলো বাইরে আসতে চাইলেও সে ওগুলোকে বাইরে আসার অনুমতি দেয়নি ... সযত্নে লুকিয়ে রেখেছিল তার আনন্দ-মুখোশের অন্তরালে ... ঠিক যেমন আজও নিজের সমস্ত আবেগকে কফিন বদ্ধ অন্ধকারে রেখে নিজের প্রানহীন দেহখানিকে টেনে এনেছে এই ঝলমলে আলোকসজ্জা মাঝে ...

ঘাড় ঘুরিয়ে ওদের দুজনের জুটিকে দেখে একধরনের চাপা কষ্ট বুকে অনুভুত হলেও তাকে শক্ত মুঠোবদ্ধ হাতে দমিয়ে ঠোটে একচিলতে হাসি ফুটিয়ে ওদেরকে একসাথে বুকে জড়িয়ে ধরতেই হু হু করে কেদে ওঠা মনটাকে আর দমিয়ে রাখা গেল না ... "তোরা দু জন অনেক অনেক সুখি হ" কথাটা বলেই আনমনে নিজের অসাড় শরীরকে বয়ে নিয়ে গেল ঝলমলে আলোর বাইরের আধো-অন্ধকার কোনে ... আজ বড় একা, বড় অসহায় লাগছে তার ...

ডুকরে কেদে উঠতেই বন্দী আবেগগুলো যেন ফুঁসে উঠতে লাগলো বাইরে বেরুনোর জন্য ... এ সময়ে যেন নিজেকে সংবরণ করা বড় কষ্টকর ... কিছুক্ষন পর --- কাধের উপরে পেল চুড়ির রিনিঝিনি শব্দের সাথে এক মেহেদী রাঙ্গানো শীতল হাতের স্পর্শ, ঘাড় ঘুরিয়ে তার মুখটি দেখতেই যেন মেরুদন্ড বেয়ে নেমে গেল এক অনাবিল শান্তিধারা ... একই সাথে এক অতি পরিচিত কন্ঠস্বর বলে উঠলো -- খুব বেশী কষ্ট পেয়েছিস, তাই না ? আমার দুঃখ যে সবসময় সমানভাবে বেটে নিতো সে আজ আমার আনন্দের দিনে কি মন খারাপ করে থাকবে ?

কয়েক মুহুর্ত নিরবতাকে ভেঙ্গে ও বলে উঠলো -- আমি যে তোর সত্যিকারের বন্ধু, আমি আজ তা প্রমান করে দিবো ... সত্যি সত্যি সত্যি ।।

দুরালাপনীতে স্বপ্নযাত্রা

দুরালাপনীতে স্বপ্নযাত্রা

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ২:২৭






বিপ বিপ ........ ভাইব্রেশনের আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গতেই ---

>> হ্যালো
> কিরে ঘুমায় গেছিস ?

>> হুমম ... তুই ঘুমাস না ক্যান ?
> ঘুম আসছিলো না যে

>> কেন কি হইছে ? কোন সমস্যা ? শরীর খারাপ না তো ?
> নাহ ! এমনি ...

>> তাইলে ?
> তোর সাথে গল্প করতে ইচ্ছা করছিল, তাই কল দিলাম ...

>> একটু অপেক্ষা কর, আমি ফ্রেস হয়ে এসে তোকে কল ব্যাক করছি
> আচ্ছা !


একটু পরে ....

> ঘুম কেটে গেছে নাকি এখনো আছে ?
>> চোখে এখনো আছে , ইটস ওকে... কিন্তু তুই বল, তোর কি হইছে ?

> নাহ ! তোর সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো , তাই মেসেজ না দিয়ে কল দিয়ে জাগালাম ... রাগ করেছিস নাকি ?
>> তোর কোন কাজে আমি রাগ করি ? ...

> নাহ ! তা করিস না, কিন্তু কালকে সকালে তোর কাজ তবুও ডেকে তুল্লাম যে .... তাই ..
>> এবার মহারানীর আদেশটা শুনি , সে ঠিক কি কারনে এসময়ে ফোন করেছে ?

> তুই বুঝলি ক্যামনে যে আমি কিছু একটা চাই ?
>> সেটা পরে বলবো, আগে তুই বল ... কি করতে হবে ?

> আজকাল কেন জানি খুব বেশী দুঃস্বপ্ন দেখছি ... এ জন্য ঘুমুতে ভয় হয় ....একটা স্বপ্ন দে না, সেটা নিয়ে ঘুমাই .... দিবি , প্লিজ ?
>> আচ্ছা , .... তবে শর্ত হচ্ছে তুই চোখ বন্ধ করে শুনবি, আর হু , অথবা হুমম ছাড়া আর কোন রিপ্লাই দিবি না ... ঠিকাছে ?

> আচ্ছা ঠিকাছে !

>> আয়, আমার হাতটা ধর তো ... আংগুল গুলো দিয়ে শক্ত করে বসিয়ে দে আমার আঙ্গুলের মাঝে ... কোন ভাবেই যেন এটি না ছাড়ায় ... ধরেছিস ?
> হুম ....

>> আরেকটি হাত আলতো করে রাখ আমার আরেক হাতের উপর ... চোখ বন্ধ করে বুক ভরা নিঃশ্বাস নিয়ে একটু থেমে অল্প অল্প করে ছেড়ে দে ... দেখতো বুকের ভিতরের চাপা কষ্ট টা কমে গিয়েছে না ?
> হু ...

>> সবুজ ঘাস ছুয়ে ছুটে আসা দুষ্টু বাতাস তোর লম্বা চুলকে এলোমেলো করে দিচ্ছে ... ওগুলোকে সামলানোর দরকার নেই, ওরা আজ মন খুলে খেলতে থাকুক একে অন্যের সাথে ... তুই শুধু ঝিরঝির বাতাসের আনন্দটাকে নিজের গায়ে মেখে নে ... কিরে একটু কেপে উঠলি নাকি ?
> উমমম ....

>> গাছের পাতায় এক অন্যরকম সুরের মূর্ছনা বেজে চলেছে অবিরাম, কান পেতে দেখ তো শুনতে পাস কি না .... একটু মনোযোগ দিয়ে শুনতে চেষ্টা কর .... পাচ্ছিস ?
> হু ....

>> ভোরের সূর্যকীরনের মিষ্টি আলো জড়িয়ে দিচ্ছে তোর গায়ে ভালোবাসার উষ্ম চাদর ... গাছের ডালে কতশত পাখি গেয়ে চলেছে ... এখনো কি কারো পক্ষে মন খারাপ করে থাকা সম্ভব ?
> উহু !!!

>> তাহলে আয় এবার আমার বুকে মাথা দে , কান পেতে দেখ তো শুনতে পাস কিনা সেই কথা ... যা তুই শুনতে চাস ...দিন রাত ... সবসময় .... পাচ্ছিস ?
> আমি সত্যি সত্যি শুনতে পাচ্ছি ... তোর বুকে হৃৎপিন্ডের ধুকপুকানীতে সেই শব্দ ... এতো সেই শব্দ যা আমি .....

>> শসসসসসস ...... বলতে হবে না , শুধু শুনতে থাক .... চুপ চাপ, এক মনে ... যতক্ষন খুশী ... আর কোন কথা না .... শুধু ঐটা শোন ....


খানিক্ষন দু জনেই চুপ চাপ ... এক সময় ফোন লাইনটা কেটে গেল

এবং,

একজন ঘুমিয়ে পড়ে ঠোটে একটি মিষ্টি হাসি আর চোখে একটা স্বপ্ন নিয়ে ... অন্যজন শক্ত হাতে সেল ফোন হাতে বসে থাকে , সেই স্বপ্ন পূরনের প্রতীক্ষায় ...


আমার মেয়েবেলা (রটনা নয় ঘটনা সত্যি )

আমার মেয়েবেলা

(রটনা নয় ঘটনা সত্যি )

২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:০৫





শিরোনাম দেখে টাশকী খাওয়ার কিছু নাই ... কাহিনী সত্য ... :|

ঘটনা সংক্ষেপে এইরকম --- (বড় হয়ে যেভাবে শুনেছি তাই লিখে দিলাম)

তখন আমি অনেক ছোট, স্কুলে যাওয়া শুরু করিনি তখনো ... প্রতিদিন সকালে দেখতাম আমার আপুনি স্কুলে যায়, ও যতক্ষন স্কুলে থাকে ততক্ষন আমাকে বাসায় একলা খেলা করা লাগে ... কারন বাসাতে ও আমার একমাত্র খেলার সাথী ... সুতরাং এ সময়টাতে আমার মন বড়ই আঁই-টাঁই করতে থাকতো .... ও স্কুলে গিয়ে কি করে না করে সবকিছু এসে বলতো, আর আমিও গোগ্রাসে সে সব গল্প গিলতাম ... মনে হতো যেন , বাসায় আমি সারাদিন খেলা করে যত মজা করি তার চেয়ে বেশী মজা ও স্কুলে করে ... কল্পনাতে এক অন্যরকম জগৎ বলেই মনে হয়েছিলো স্কুল কে ...... সুতরাং একদিন আম্মু আব্বুর কাছে বায়না দিলাম, আমি আপুনির সাথে স্কুলে যাব ক্লাস করতে ... উনারা তো :|:P

এর পরে একদিন আপুনি বললো ওদের স্কুলে কি জানি প্রোগামের কারনে ১ - ২ টা ক্লাস হওয়ার পরে সেদিনের স্কুল ছুটি হয়ে যাবে, আমি ওর সাথে যাব কি না ... আমি তো শুনে ২ পায়ে খাড়া .... আম্মুর কাছে গিয়ে বললাম -- আমাকে মেয়ে বানায়ে দিতে , আমি আপুনির সাথে স্কুলে যাব B-)

আম্মু আব্বু সবাই বললো মেয়ে হওয়া লাগবে না তুমি এমনিতেই যাও ... আজকে কোন সমস্যা নেই ... তবুও আমি আমার এক কথার মানুষ কি না , এ জন্য শেষমেষ আমাকে সাজুগুজু করে মেয়ে বানিয়ে এর পরে আপুনির সাথে পাঠানো হলো B-)

সেদিন স্কুলে আপুনির ক্লাসে আমি কয়েকটা ক্লাস করেছিলাম ... আর স্কুলের সবাই নাকি সবাই আমাকে সত্যি সত্যি মেয়ে ভেবেছিল... আমাকে অনেক আদর ও করেছিল আপুনির ফ্রেন্ড রা ...এর পরে তারা নাকি প্রায়ই আমার কথা আপুনির কাছে জিজ্ঞেস করতো .... (এসব কথা ওর বান্ধবীদের কাছে শুনেছি) :P

আপুনির এক বান্ধবীর ছোট বোনের জন্ম দিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে আরেক কঠিন অবস্হার মধ্যে পড়তে হয়েছিলো .... (তার মাত্র কিছুদিন আগে আপুনি ওর ফ্রেন্ডদেরকে বলেছিল যে আমি তার ভাইয়া) ... আমি যাওয়ার পরে ওর বান্ধবী আমাকে তার ছোট বোনকে দেখিয়ে বলেছিল --- বলোতো এ আমার ভাইয়া নাকি আপু ?

প্রশ্ন শুনে আমি তো থ ! .... বললাম -- দেখে তো মেয়ে বলেই মনে হয় :|

পরে ঐ আপু হাসতে হাসতে বললো -- ভাল করে দেখো,বেশী কনফিউশন থাকলে *** খুইলা দেখো , নাইলে কয়দিন পরে দেখা যাবে এ ও তোমার মতই ***** :P :P :P
....বললেন -- ওটা তো গার্লস স্কুল,ছেলেদের ভিতরে ঢোকা মানা .... ওখানে গিয়ে সারা দিন বসে থাকতে হবে ... খেলা করা যাবে না ... হাবিজাবি আরো কত কিছু ... কিন্ত আমার ঐ এক কথা স্কুলে আমি যাবই যাব ....ওরা আমার কথা শোনে না দেখে আম্মুর লিপস্টিক, ফেস পাউডার এমন আরো কি কি জানি এনে দিয়ে বলেছিলাম -- এটা মেখে গেলে তো আর কেউ আমাকে চিনবে না .... সুতরাং প্রয়োজন হলে আমি মেয়ে সেজে হলেও স্কুলে যাব ..... কিন্তু আমাকে যেতেই হবে

অন্ধকারের কান্না

অন্ধকারের কান্না

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১১:৪২




অন্ধকারের মানুষ আমি... নিকষ কালো অন্ধকারে বসবাস আমার ... অন্ধকারে থাকার কারনেই বুঝি আমার চোখ দুটির কার্যক্ষমতাও ক্রমশ লোপ পেতে বসেছে, সেই সাথে মনের চোখেও পড়েছে অমোচনীয় কালীমা ... পর্দার এপাশে থাকি বলে ওপাশের জগৎটাকে অন্য রকম মনে হয় ... কখনো মনে হয় ঐখানেই বুঝি সব সুখ থাকে, কখনো মনে হয় এপাশে একলা থাকার আনন্দটাই অন্যরকম... দুঃসহ অন্ধকারকে কখনো বড় অচেনা মনে হয় কিন্তু পরক্ষনেই ওপাশের উজ্বল আলোর ভয়ে গুটিয়ে ফেলি নিজেকে ... একলা থাকায় একাকিত্বের সাথে এক নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে গিয়েছি, এর মাঝে কেউ কাছে আসতে চাইলে তার সাথে ওপাশের আলোকিত পৃথিবীতে না গিয়ে তাকেই অন্ধকারের অতল গহ্বরে টানতে চাই... পাছে ভয় হয়, উজ্বল আলোতে আমার কুৎসিত হাতে যদি সে হাত না রাখে ... যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় এই কদর্য চেহারা থেকে ... বিভৎসতায় যদি ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় দীগন্তের ওপারে ... কিন্তু কোথাও একটা চিনচিনে ব্যাথা অনুভুত হয় ... হয়তো অন্ধকারের মানুষ হলেও আমার একটি পোড়া হৃদয় আছে ... তাই কখনো কখনো ওপাশের আলোকিত জগৎটাকে দেখার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়... আলোকিত কাউকে ছুয়ে দেখতে মন চায় ... আর অন্ধকারের পর্দা ছিড়ে আলোর মাঝে দাড়িয়ে চিৎকার করে কান্না করতে মন চায় ... কিন্তু অন্ধকার মানুষের সব ইচ্ছাও যে অন্ধকারেই লুকিয়ে থাকে ... তাই সূর্য কীরণে আসার প্রচেষ্টায় দমবন্ধের উপক্রম হতেই সে অনির্বান ইচ্ছাকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করা ছাড়া আর যেন কোন উপায় থাকে না ... শৃংখলিত অন্ধকার মানুষ তাই অমাবশ্যার অন্ধকারে বসে বুকের চাপা ব্যাথা প্রশমিত করার প্রয়াসে গগনবিদারী কান্নায় ফেটে পড়লে, পাথরচোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে দু ফোটা কালো রক্ত বিন্দু ...

হারিয়ে যাওয়া দুটি চোখের খোঁজে

হারিয়ে যাওয়া

দুটি চোখের খোঁজে

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:৫০




সূর্য মামা জাগার আগেই এ্যালার্মের শব্দে ওঠা, জলদি জলদি শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে নাকে মুখে কিছু দিয়েই বাস স্টপে দৌড় ... ক্লাস এ্যাটেন্ড করতে হবে সময় মতো।
বাসার পাশের বাস স্টপে যেতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট। কিন্তু অভি আরো মিনিট ১০ হেটে এর আগের স্টপ থেকে ওঠে, কারন - পিক আওয়ার হওয়ার কারনে বাসার পাশের স্টপ থেকে উঠলে অনেক সময় দাড়িয়ে যেতে হয় পুরোটা পথ আর ঐ স্টপ থেকে উঠলে সিটে বসে যাওয়া যায়, আর সিটে বসতে পারলে ভার্সিটি পর্যন্ত যাওয়ার সময়টুকুতে নোটগুলোর উপরে চোখ বুলিয়ে নেয়া সম্ভব হয় যা ক্লাসের পড়াগুলো বুঝতে বেশ সহজ হয়ে থাকে। ২৯ নং বাসে অভি সবসময় তৃতীয় সারির জানালার পাশের সিটে বসে পড়ে, মাঝে মাঝে চোখ চলে যায় জানালার বাইরে আবার চোখ ফিরিয়ে আনে ক্লাসের নোটগুলোর উপরে.. আশে পাশে কত শত মানুষ উঠছে নামছে সেদিকে বিন্দুমাত্র আগ্রহ যেন নাই তার, কখনো ওদের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মন যেন পড়ে থাকে নোটগুলোর পাতায় ... বাস থামে ভার্সিটির সামনেই , ওটাই এ প্রান্তের শেষ স্টপ.... এর পরে ক্লাস শেষ করে লাইব্রেরীতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটিয়ে ক্লান্ত হয়ে আবার বাসে চড়ে নোটে চোখ বুলাতে বুলাতে বাসায় এসে ডিনার করে পরের দিনের জন্য কিছু গোছগাছ করে গভীর রাতে শুতে যাওয়া। এই ছিল অভির দৈনন্দিন রুটিন এ সবের বাইরে যে অন্য কোন কিছু করার থাকতে পারে তা ও একপ্রকার ভুলেই গিয়েছিল ... এমন করেই কাটছিল ওর জীবন...

এক শীতের সকালে, বাইরে বেরিয়েই দেখে বৃষ্টি হচ্ছে... সেই সাথে কনকনে ঠান্ডা বাতাস যেন জ্যাকেটের উপর দিয়েই সুচের মতো বিধছিলো গায়ে ... উপায়ন্তর না দেখে ঐদিন বাসার কাছের বাস স্টপ থেকে উঠে বসার জায়গা পেয়ে দাড়িয়েই রইলো। বাইরে বৃষ্টির শব্দ কেমন এক অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল সেদিন নাকি অন্য কোনোদিন বৃষ্টিকে ও এমনভাবে দেখেনি - কে জানে, এমন সময় কি মনে করে বাসের ভিতরের মানুষগুলোর মাঝে চোখ বুলাতে গিয়েই হঠাৎ দেখলো এক জোড়া অসম্ভব সুন্দর চোখ ওর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ... মানুষের চোখ এত মায়াময় আর গভীর হতে পারে ওর কখনো জানা ছিলো না ... কিছুটা লজ্জায়, আড়ষ্টতায় ও বার বার সেই দুটি চোখ থেকে নিজের চোখকে সরিয়ে নিলেও কোন এক দুর্নিবার আকর্ষনে বার বার তা আবার ফিরে যাচ্ছিলো ঐ দিকেই ... ক্লাস শেষে, লাইব্রেরী ওয়ার্ক শেষ করে বাসে চড়তেই আজকে ওর চোখ দুটো বই এর পাতায় না থেকে কেন জানি বারবার চারিপাশে সেই অসম্ভব দুটি চোখকে খুজে ফিরছিলো ... কিন্তু নাহ ! সেদিন আর ঐ চোখ দুটোকে খুজে পাওয়া গেল না ....

এর পর কয়েকটা দিন কেটে গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো দুরের স্টপ থেকে বাসে উঠে নিজের চোখের সামনে নোট খুলে রাখলেও অভির চোখ দুটো মাঝে মাঝে এদিক সেদিক খুজে ফেরে সেই দুটি চোখকে ... কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে না পেয়ে ও একরকম ধরেই নিয়েছিল যে আর কখনো পাবে না সেই অসম্ভব সুন্দর চোখের দেখা ...

কয়েকদিন পরে টার্মের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে, তাই আজকাল প্রচন্ড পড়ার চাপ... অভি আগের চেয়ে অনেক বেশী পড়ছে এসময়ে, তাই প্রাই রাতে ঘুমের কমতি হয়ে যাচ্ছে ... এমনই একদিন সময়মত ঘুম ভাঙ্গলেও আলসেমীর কারনে একটু লেট হওয়াতে বাসার কাছের স্টপ থেকে বাসে উঠে যথারীতি সীট না পেয়ে দাড়িয়ে যাচ্ছিলো ... চোখের সামনে নোট না থাকলেও মাথায় তার পড়ার বিষয়গুলোই ঘুর-পাক খাচ্ছিল ... এমনই সময় হঠাৎ পাশে দাড়ানো এক জোড়া চোখ তার চিন্তার গতিকে মুহুর্তে এলোমেলো করে দিলো ... আরে ! এ তো সেই দুটো চোখ , হৃদয়ের সব অনুভুতি গুলো যেন এক মূহুর্তে মিষ্টি আবেশে দোলা দিয়ে গেল ... এক অনাবিল সুখানুভুতিতে ছেয়ে গেল আত্মার প্রতিটি অংশ ... মুখের কথা হারিয়ে শুধু একদৃষ্টিতে তাকিয়েই রইলো ওই চোখের দিকে ... এর পরে নির্দিষ্ট স্টপে সে নেমে গেলে বাকি পথটা ঐ ভালোলাগাকে সাথে নিয়েই চললো, আর ভাবতে লাগলো কেন এমন হচ্ছে তার সাথে ? ... সে রাতেই অভির ঘুমে সিধ কেটে হানা দিলো সেই দুটি চোখ...... অপূর্ব এক ভাললাগা ছড়িয়ে তিড়িং বিড়িং করে দুষ্টুমি ভরা চোখদুটি নেচে বেড়ালো ওর চারিদিকে ঘাস ফড়িং এর মতো ... এর পর থেকে ঐ মায়াবী চোখ দেখার অদম্য নেশায় আচ্ছন্ন অভি প্রতিদিন বাসার পাশের স্টপ থেকে বাসে উঠতে শুরু করলো আর ঐ অপূর্ব চোখে চোখ রেখে অন্যরকম সুখের আচ্ছন্নে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে লাগলো ....

এর পরে এলো পরীক্ষা, অভির আম্মু বললেন - পরীক্ষার দিন গুলোতে ওকে ইউনিতে ড্রপ করে এরপরে তিনি কাজে যাবেন ...... এতে অভি একদিকে যেমন খুশী হয়েছিল যে, পরীক্ষার সময় আর বাসে কষ্ট করে যেতে হবে না , পড়ার ও একটু সময় পাওয়া যাবে ... কিন্তু মনটা কিছুটা মুষঢ়ে পড়েছিল ঐ চোখ দুটোকে অসম্ভব মিস করবে বলে .... কিন্তু মাত্র ২সপ্তাহের ব্যাপার চিন্তা করেই আম্মুকে ও জানিয়ে দিলো আচ্ছা, তোমার সাথেই আমি পরীক্ষার সময় যাবো ... মেধাবী স্টুডেন্ট অভি, তার অধ্যাবসায় আর কষ্টের ফল হিসেবে আশাতীত ভাল পরীক্ষা দিতে থাকলো ....

এর মাঝেই একদিন বাসে ফেরার পথে দেখা দিল সেই চোখ দুটি ... কেমন জানি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে , কিছুক্ষন পরে খেয়াল করলো অবাক চোখ দুটিতে একধরনের অভিমানের মেঘ জমতে শুরু করেছে ... আর নিজের মনের মাঝে অসম্ভব এক ভালো লাগার সূচনা হয়েছে ... এক সময় অভিমানী মেঘ বালিকা নিজে থেকেই বললো -- তুমি আর সকাল বেলা বাসে আসো না ? ... উত্তরে অভি অনেক কিছু বলতে চাইলেও কেন জানি সব কথা এমোলেমো হয়ে গেলো, গলার স্বর যেন নিজের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গিয়েছে .... শুধু বলতে পারলো -- পরীক্ষা চলছে তো, তাই :| .... এর পরে নিঃশব্দে চোখে চোখ রেখে কেটে গেল বাকিটা পথ ... এরপর থেকে প্রতিটি পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে অভি খুজে ফিরেছে সেই দুটি চোখ .... কিন্তু .....

অতঃপর....... দিন যায়, মাস যায়, বছর কেটে যায় কিন্তু অপেক্ষার প্রহর যেন আর কাটে না, কত শত বাসে ঘুরেছে সে, কত দিন কাজ ছাড়াই সকালের বাসে উঠেছে বাসার কাছের স্টপেজ থেকে শুধুমাত্র ভালোবাসার ঐ দু চোখের খোজে ... আর কানে বাজতে থাকে একটি অভিমানী কন্ঠস্বর -- তুমি আর সকাল বেলা বাসে আসো না ?

অপেক্ষার শেষপ্রান্তে দাড়িয়ে


অপেক্ষার শেষপ্রান্তে দাড়িয়ে

২৮ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ৯:৩২





আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা
থমথমে নিস্তবদ্ধতা চারিদিক
পাখিরা সব নিড়ে ফেরে
উই পোকারা ছাড়ে নিজের ঘর

পাশের বাড়ীর কুকুরটা
ডেকে চলেছে অবিরাম
ঝিরিঝিরি ঠান্ডা বাতাসে
দাড়িয়ে যায় গায়ের লোম

খরতাপে ফাটা মাটিতে দাড়িয়ে
দু-হাত মেলি আকাশ পানে
নিষ্প্রান দুই আশাহত চোখে
শুকিয়ে গিয়েছে সব নোনাজল

শুষ্ক ঠোটে কেঁপে ওঠে
অনুচ্চারিত প্রার্থনা
শেষ কবে হবে অভিশপ্ত সময়
এক পশলা বারিধারায় ....

Tuesday, April 7, 2009

কোকড়াচুলওয়ালী আমার জন্য লেবুর সরবত বানিয়ে দিয়েছে

কোকড়াচুলওয়ালী আমার জন্য

লেবুর সরবত বানিয়ে দিয়েছে

২২ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ১০:৩০





জ্বরের ঘোরে উদ্ভ্রান্তের মতো কাটাচ্ছি কয়েক দিন... রাত দিন সব কেমন যেন অসহ্য মনে হচ্ছে ... একলা থাকার কষ্ট টা ঠিকমতো টের পাওয়া যায় এ সময়েই ... যাই হোক না কেন নিজেকে রান্না করতে হবে, নিজেকেই নিয়ে খেতে হবে, নিজের মাথায় নিজে পানি ঢালতে হবে, সময়মতো নিজে ঔষধ খেতে হবে, আবার অনেক সময় অনেক কিছু ইচ্ছা হলেও বানিয়ে দেয়ার কেউ নাই বলে খাওয়াও যাবে না... জ্বরের কারনে কিছু খেতে ইচ্ছা করছে না ... পানি পর্যন্ত না ... কেমন জানি বমি বমি লাগছে ... এমনই এক দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল সময়টা ... খুব মনে পড়ছিল এমন অসুখ হলে পরে আম্মুকে কতটাই না জ্বালাতন করতাম ... দেশে থাকতে এমন সময়ে আম্মু লেবুর সরবত বানিয়ে দিতো , সেটা খাব না খাব না করতে করতে খেতাম কিন্তু সেটার পরে ঠিকই খুব ভাল লাগতো ... কথাটা মনে পড়ার পর থেকেই খুব লেবুর সরবত খেতে ইচ্ছা করছিল ...

সেদিন রাতে কথা হচ্ছিলো কোকড়াচুলওয়ালীর আম্মুর সাথে ... কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলো অনেক বেশী জ্বর নাকি ? ... এক কাজ করো - চলে এসো আমাদের বাসায়... বললাম - নাহ থাক, আমার জ্বর , এমন অবস্হায় যদি কোকড়াচুলওয়ালী বেশী কাছে আসে তো ওর জ্বর হতে পারে... পারলে আমাকে কিছু রান্না করে দিয়ে যাও ড্রাই ফুড আর ভাল্লাগছে না খেতে ...

ও জিজ্ঞেস করলো - লেবুর সরবত খেতে এত্তো ইচ্ছা করছে ?
আমি বললাম -- কে বলেছে এ কথা তোমাকে ?
ও বললো -- ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছ দেখলাম ... সারা দুনিয়ার মানুষ তোমার সান্তনা দিচ্ছে , আমাদেরকে একবার ফোন করে বললে কি বানায়ে দিতাম না ? দাড়াও তোমার কোকড়াচুলওয়ালীর কাছে এর বিচার দিচ্ছি ....

আমি বললাম -- আরে করো কি , প্লিজ না ........ :|
আমার কথা তখন কে শোনে, উনি ততক্ষনের কোকড়াচুলওয়ালীকে বলে দিয়েছেন X((

(তখনো জানি না আমাদের সব কথা নাকি কোকড়াচুলওয়ালী স্পিকারে শুনছিল , এ জন্য সে ঐ সময় আমার সাথে কথাও বলেনি :(()

পরের দিন দুপুরের দিকে দেখি ওরা বিশাল ব্যাগ হাতে করে আমার দরজায় দু জনেই গম্ভীর মুখে দাড়িয়ে আছে ... কোন রকমে সেখান থেকে সোফা পর্যন্ত এসে শুয়ে পড়লাম...... ড্রইংরুমের অন্য সোফায় ওরা দু জন বসতে বসতেই কোকড়াচুলওয়ালীর আম্মু জিজ্ঞেস করলো সকালে কিছু খেয়েছি কি না .....
আমি বললাম -- উহু ! :|

ও বললো - তোমার পছন্দের কিছু খাবার রান্না করে আনলাম, একটু গরম করে দেই... খাবার খাওয়ার পরে ঔষধ খেয়ে নিও... এ বলেই উনি চলে গেলেন কিচেনে ...

দেখি কোকড়া চুলওয়ালীও গুটি গুটি পায়ে মায়ের সাথেই কিচেনে চলে গেল :((

অনেক ইচ্ছা করছিল কোকড়াচুলওয়ালীকে একটু কাছে বসিয়ে আদর করি, ওর ফোলা ফোলা গালে দুটো চুমু দিয়ে চুলের ঝুটিতে দুটো টান দিয়ে রাগিয়ে দেই ... তবে জ্বরের কারনে ওকে কাছে ডাকছিলাম না , সেই সাথে আগের রাতে সে কথা বলেনি এখনো সে আমার সাথে কথা না বলে গম্ভীর হয়ে আছে দেখে খুব বেশী কষ্ট লাগছিল ...

মনটা যেন হঠাৎ করেই অনেক বেশী খারাপ হয়ে গেল ... আর সহ্য করতে না পেরে চোখ বন্ধ করে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেললাম ... ও দিকে মা-মেয়ে কিচেনে কি জানি ঘুটঘাট করেই চলেছে ... মাঝে মাঝে ওখান থেকে শুনছিলাম খসখস, টুং টাং এমন বিভিন্ন রকম আওয়াজ আসছিল,সেই সাথে ওভেনের টাইমার ও টুঊঊউট করে সংকেত দিয়ে বলছে খাবার গরম হয়ে গিয়েছে ...




কিছুক্ষন পরে আমার মাথায় ভিজে একটা ছোট্ট ঠান্ডা হাতের স্পর্শে চোখ খুলে দেখি কোকড়াচুলওয়ালী গাল ফুলিয়ে টলটল চোখে তাকিয়ে আছে, পিছনের ওর আম্মু এক জগ লেবুর সরবত হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে ...

আমাকে চোখ খুলতে দেখে বললো -- নাও তোমার ছোট আম্মুর নিজের হাতে বানানো সরবত খাও , কাল রাত থেকে ওর ঘুম হচ্ছে না তোমাকে নিজের হাতে লেবুর সরবত খাওয়াবে বলে, তোমার খেতে ইচ্ছে করছে বলে রাতে আমার কাছে কতবার যে জিজ্ঞেস করেছে কিভাবে বানায় তার ঠিক নাই ...এখন, আমার থেকে শুধু লেবুটা কেটে নিয়েছে , বাকি সবটুকু নিজে করেছে ... নিজে নিজে পানি ঢেলেছে জগে, লেবু চিপে দিয়েছে, আর এত্তোখানিক চিনি দিয়ে জগে চামচ আর হাত দুটো একসাথে ডুবিয়ে সেগুলো গুলেছে ...:P

কথাগুলো শুনতে শুনতে মনের অজান্তেই চোখ ভিজে আসছিল, কোকড়াচুলওয়ালীকে কাছে টেনে নিয়ে একটু আদর করতেই আমাকে বকা দিয়ে উঠলো
বললো -- আমাকে কেন আদর করছো, আমার জ্বর আসবে বলে তুমি না বলে আমাকে আদর করবে না ? X((

আর অমন কথা বলবো না --- কথাটা বলতে বলতে ওরে বুকে টেনে নিতেই ছোট্ট দু হাতে আমাকে শক্তভাবে জড়িয়ে ধরে কাজল দীঘির মতো গভীর বড় বড় চোখ দুটিতে অভিমানের অশ্রুবন্যা বইয়ে দিলো জানের টুকরা টা .......

বৃষ্টির ফোটায় আঁকা স্মৃতি

**|| *~** বৃষ্টির ফোটায় আঁকা স্মৃতি **~* ||**

২৯ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:৫১




দুপুরে জ্বরের ঘোরে ঘুমাচ্ছিলাম, এক সময় ঘুমটা ভেঙ্গে যেতেই বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছিল ... কাচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখি ঝমঝম বৃষ্টি হচ্ছে। পাশের বাসার নিচু ছাদটাতে পানি জমে গড়িয়ে পড়ছে নিচে ... আস্তে আস্তে ড্রাইংরুমের গিয়ে জানালার পাশে দাড়ালাম ... বাসার সামনের রাস্তায় কোন পথচারী নেই, গাড়িগুলো হুসসসস করে পানি ছিটিয়ে ছুটে চলেছে ... এমন সময় দেখি ফাকা রাস্তায় ভিজতে ভিজতে অল্প বয়সী দু-জন হাতে হাত ধরে গল্প করতে করতে হেটে চলেছে ... ওদের হাতে হাত ধরে হেটে চলা দেখতে দেখতে নিজেই যেন হারিয়ে গেলাম ঐ বয়সে নিজের স্মৃতি পাতায় ...


তখন বর্ষাকাল , আকাশ ফেটে যখন তখন বৃষ্টি নামে ... সামনে টেষ্ট পরীক্ষা তাই পর পর কয়েক রাত ঘুমাইনি, একটানা জেগে পড়াশুনা করার কারনে শরীরটা বেশ কাহিল হয়ে পড়েছিল...শরীর মন একটু ঘুমের জন্য আকুপাকু করছিল.... বাইরে বেরুতে একেবারেই ইচ্ছা করছিলো না ... তবুও তার মাঝেই একজনের ফোনের কারনেই বের হতে হয়েছিলো সেদিন --- উপলক্ষ্য - তার বান্ধবীর জন্মদিনের গিফট কিনতে হবে এবং তার একটি ই কথা গিফট কিনতে হবে আমাকে সাথে করে ...

একটানা পড়ার পরে একটু ঘুরে আসলে মন্দ হয় না ভেবেই সেদিন বেরিয়েছিলাম ওর সাথে ... ঘর থেকে বের হতেই দেখি আকাশ মেঘলা... বৃষ্টি হতে পারে ... ঠান্ডা বাতাসে একটু শীত শীত করছিল ... এ জন্য গায়ে রেইন কোট টা হাতে নিয়েই বের হলাম ... ওর বাসায় গিয়ে কলিংবেলে ডিং ডং দিতেই হাসিমুখে বের হয়ে বললো ভিতরে আসবি নাকি এখনই বেরুবি ? ...

বললাম -- উহু , বসলে দেরী হবে, এর চেয়ে চল যাই ...

হালকা কলাপাতা রঙ্গের জামায় ওকে বেশ সুন্দর লাগছিলো সেদিন ...

আমি বললাম --- কিরে নতুন জামা নাকি ?
ও বললো -- হু , আম্মা কিনে দিয়েছে , আজকে প্রথম পরলাম
আমি বললাম --- সুন্দর জামা,.... নে চল যাই,.... বাইরে বৃষ্টি হতে পারে কিন্তু সাথে কিছু নিয়ে নিস...
বান্দরনীটা হেসে বললো --- বৃষ্টির ভয়ে সুন্দর জামাটার উপরে কিছু পরা কি ঠিক হবে বল ?
এর পরে তাকে যে আর এ ব্যাপারে কিছু বলে লাভ হবে না তা নিশ্চিত জেনেই আমি ও ওর কথা মেনে নিলাম .... রিক্সা করে একের পর এক কয়েকটি মার্কেট ঘুরে এ দোকান সে দোকান দেখে কিছুই তার পছন্দ হচ্ছে না দেখে বললাম আর কত ঘুরবি, কোথাও একটু বসি চল ... ওমা ! যেই না এ কথা বলেছি মুখটা একেবারে অন্ধকার করে বলে --- আমার সাথে ঘুরতে তোর বোর লাগে ?

আমি বললাম -- না না বোর লাগে না, একটু ক্লান্ত লাগছে ... চল কিছু খেয়ে নেই এর পরে না হয় আবার ঘুরলে হবে...

এর পর অনিচ্ছা স্বত্বেও মুখ ভার করেই চললো আমার সাথে ... হঠাৎ বলে --- আজকে চল মধুর ক্যান্টিনে ছানার মিষ্টি খাব । ওর মন ভাল হবে ভেবে আর দ্বিতীয় কথা না বলেই রিক্সা নিয়ে নিলাম ... মেঘ গুড়গুড় করছিল বেশ কিছুক্ষন ধরেই, আমাদের রিক্সা নীলক্ষেত পার হতেই যেন আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামলো ... আমার হাতের রেইনকোট টা এগিয়ে দিয়ে ওকে বললাম গায়ে দিতে ... সেটা দুরে সরিয়ে দিয়ে আমায় জানালো --- তার শখ চেপেছে, বৃষ্টিতে ভিজবে ...

আমি বললাম --- তুই গায়ে দিবি না ? ...তাইলে এটা আমিই গায়ে দিলাম কিন্তু
ও বললো -- আজকে তোরসাথে ভিজতে ইচ্ছা করছে .... আমার সাথে আজকে একটু বৃষ্টিতে ভেজ না .... দেখ খুব ভালো লাগবে...

একটু আগেই মন খারাপ করেছে , তার উপরে এমন আদুরে আবদার ক্যামনে না করি ? ..... তাই বললাম -- আচ্ছা চল ভিজি .... তখনই সে রিক্সাওয়ালাকে থামতে বলে রিক্সাও ছেড়ে দিলো ... তার কথা হলো -- হেটে হেটে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দই আলাদা তাই আমাদের হাটা উচিৎ....

এরপরে অনেক্ষন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দুজনের হেটে বেড়ালাম ক্যাম্পাসের ভিতরের প্রায় সব জায়গাতে ... শুরুতে আমার একটু শীত শীত লাগাটা কেমন যেন বেশী শীত লাগায় পরিনত হয়ে যাচ্ছিলো ... তবুও ভিজেই চললাম আর অবাক নয়নে দেখতে থাকলাম বৃষ্টি পাগলীর মিষ্টি মুখের উচ্ছল আনন্দের বাহার।

বৃষ্টি একটু কমতেই ওকে বললাম --- গিফট হিসেবে তোর বান্ধবীকে বই উপহার দিলে কেমন হয় ? ....

ওমা ! এক কথাতেই সে রাজি হয়ে গিয়ে কয়েকটা উপন্যাসের বই কিনে বললো -- চল বাসায় যাই, সব ভিজে আছে , এভাবে গায়ে শুকালে ঠান্ডা লাগতে পারে ... চেন্জ করতে হবে...

আবার রিক্সার করে ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে দেখি আমার কেমন জানি খারাপ লাগছে...তাই আর কোথাও না দাড়িয়ে সোজা চললাম নিজের বাসায়। আসার সময় বললাম -- শোন, একেবারে পরীক্ষা শেষ করেই তবে দেখা করবো এর মাঝে আসবো না কিন্তু। সে ও বললো -- পরীক্ষার যেন ভাল হয় নাইলে খবর আছে , আর এর মাঝে সে আর ফোন ও করবে না, দেখাও করতে বলবে না। এর ২ - ৩ দিন পরেই টেষ্ট পরীক্ষা শুরু হলো ...যথারীতি পরীক্ষা দিলাম এবং সপ্তাহ খানেক পরে রেজাল্ট আসলে দেখা গেল প্রথম দুটো পরিক্ষায় পাস মার্কের অল্প কিছু বেশী পেয়েছি ...বাকিগুলো ঠিক আছে...

এই না দেখে আমার সুইট দোস্ত রনাঙ্গিনীর রূপ ধারন করে একদিন আমাকে কঠিন বকা দিয়েছিল ... বলেছিল --- আমি পরিক্ষার কয় দিন তোর খবর নেইনি বলে তুই ঠিক মতো পড়িসনি নাকি ? ... নাকি অন্য কিছু নিয়ে এমন ব্যস্ত ছিলাম যে রেজাল্ট খারাপ হয়েছে ? ... সেই সাথে আরো হুমকী দিলো ---- এমন খারাপ রেজাল্ট আর কখনো করলে সে নাকি আমার সাথে আর কখনো কথাই বলবে না। :|



এতদিন পরে ওর বকার কথা মনে পড়তেই মনের মাঝে অন্য রকম এক আনন্দের দোলা দিয়ে গেল, মনে হলো আহা ! কি মধুর ছিল সেই গাল ফোলানো অভিমানের বকা গুলো ...

তবে আজ পর্যন্ত ওকে যে কথাটা বলা হয়নি, তা হলো --- বৃষ্টিতে সেদিন ভিজে বাসায় ফেরার পরে সেদিন রাত থেকেই আমার অনেক জ্বর হয়েছিল যা আমাকে প্রায় সপ্তাহ খানিক ভুগিয়েছিল ......এবং আমাকে প্রথম দুটো পরীক্ষা দিতে হয়েছিল ১০২° - ১০৩° জ্বর নিয়ে ...