Wednesday, July 29, 2009

ফুল হাতে সুন্দরীকে দেখে চরমভাবে টাস্কিত হইলাম

ফুল হাতে সুন্দরীকে দেখে

চরমভাবে টাস্কিত হইলাম

২৬ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:২৪





রাতে বাসায় ঢুকার পরে আম্মু বললেন, রিমন সন্ধ্যা থেকে ৩ বার ফোন করেছিল। বাসায় আসলে তোমাকে কলব্যাক করতে বলেছে। আমি বললাম -- এখন তো অনেক রাত এখন রাতে করতে বলেছে নাকি সকালে করলেও হবে? আম্মু বললেন -- তা তো বলেনি , শুধু বলেছে কলব্যাক করতে। ফ্রেস হয়ে বাথরুম থেকে বের হতেই আবার রিমনভাই এর ফোন, বেশ উৎকন্ঠিত লাগছিল তার কন্ঠস্বর , ফোন ধরে হ্যালো বলতেই বললো -- অনন্ত একটা কঠিন বিপদে পড়ে গেছি রে, তোমার সাহায্য লাগবে।

ঘটনা ১৯৯৮ সালের বন্যার সময়ের, আমরা কয়েকজন ফ্রেন্ড মিলে নিজেদের মাঝে এমন উদ্দেশ্যে একটা সার্কেল তৈরী করেছিলাম যে, কারো কোন সাহায্য প্রয়োজন হলে আমরা ভলান্টিয়ারী কাজ করে দিতাম -- এক কথায় ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মহতী উদ্যোগ। যারা আমাদেরকে জানতেন, চিনতেন তারা প্রায় সবাই আমাদেরকে দিয়ে ছোটখাট অনেক কাজ এমনি এমনি করিয়ে নিতেন, আমরাও পরোপকারী ব্রত বেশ উৎসাহের সাথেই পালন করতাম ... সেই সূত্রে অনেক উচ্চ পদস্হ কর্মকতা, ব্যাবসায়ীর সাথে আমাদের বেশ ভাল পরিচিতি হয়ে গিয়েছিল।

একটানা আধ ঘন্টাখানেক রিমন ভাই এর কথা শুনে সার সংক্ষেপ যা বুঝলাম, তা হলো -- উনার গার্লফ্রেন্ড কোন এখ ছোটখাট সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সংযুক্ত, যারা নাকি ঢাকার ভিতরে বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে কিছু ত্রান সাহায্য করতে চায়, নিজেদের উদ্যোগে কিছু জিনিস , টাকা জোগাড় হলেও সেটা তাদের আইডিয়ার চেয়ে অনেক কম বলে রিমন ভাইকে তিনি বলেছেন হাজার বিশের একটা এ্যামাউন্ট ডোনেশন হিসেবে জোগাড় করে দিতে তাও আবার দুই দিনের মধ্যে, এখন রিমনভাই পড়েছে সমস্যায় , কি করবেন না করবেন ভাবতে ভাবতে তার একদিন শেষ, কালকের দিনের মধ্যে নাকি উনার টাকা যোগাড় করে দিতেই হবে , তা না হলে উনার গার্লফ্রেন্ড যদি ওখান থেকে কোন ধরনের কথা শুনে তাইলে উনার উপর দিয়ে ঘুর্নিঝড় প্রবাহের সমূহ সম্ভাবনা আছে । ঘটনা পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেল ... রিমন ভাই গলা পানিতে দাড়িয়ে, সুতরাং তার জন্য কিছু করতে হবে । উনাকে আস্বস্হ করলাম , কালকের দিনের মধ্যে সম্মানজনক ব্যাবস্হা করা যাবে সমস্যা হবে না, নিশ্চিন্তে ঘুমুতে যান .... এর পরে কয়েক জায়গাতে ফোন করে সবকিছু ঠিকঠাক করে আমিও ঘুমাতে গেলাম।

আগেই বলেছি, এমন সময়ের জন্য আমাদের পরিচিত বেশ কিছু কন্ট্যাক্ট আগেই তৈরী করে ফেলেছিলাম, তাই পরদিন প্ল্যান মতো তাদেরই কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করে বেশ ভাল সংখ্যার একটা এ্যামাউন্ট জোগার হয়ে যাওয়ার পরে ওটা রিমন ভাইকে দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম আপুর কাছে। সেদিন রাতের বেলা আবার রিমন ভাই এর ফোন এলো -- অনন্ত, কালকে ওরা, বিশেষ করে তোমার আপু তোমাকে ওদের কেন্দ্রে ডেকেছে, ওদের এমন একটা বড় সাহায্য করেছ বলে ওরা তোমাকে সাথে করে নিয়ে ত্রান বিতরন করতে যেতে চায়, না করতে পারবে না .... আবার সেই আগের মতোই পজিটিভ উত্তর দিয়ে বললাম -- আচ্ছা ঠিকাছে,যাব কালকে। এরপরে তার কাছ থেকে ওদের ঠিকানা আর কখন ওখানে যেতে হবে জেনে নিয়ে সেদিনের মতো অফ গেলাম .... জানলাম রিমন ভাই ও কালকে সেখানে থাকবেন।

সেদিন আবার আমাদের গ্রুপের একটা ত্রান বিতরনের কাজ ছিল নারায়নগজ্ঞে, সেখান থেকে ফিরে সোজা শাহবাগের একটা কাজ শেষ করে আমি রিক্সা নিচ্ছি আপুদের কেন্দ্রে যাব এমন সময় হঠাৎ এক পরিচিত গলার চিৎকার শুনতে পেলাম, ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি জাদুঘরের সামনে আমার এক খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড ডাকছে ওখানে যেতে ... রাস্তা পার হয়ে ওর কাছে যেতেই বললো -- দোস্ত আজকে একজনরে প্রোপোজ করুম ঠিক করসি, এই দিনে তারে কি গিফট দেয়া যায় বল না ... সারাদিনের ত্রান বিতরনের ধাক্কায় শরীর তখন বেজায় কাহিল, তখন আর বেশী কিছু মনে করতে ইচ্ছা করছিলো না বলে কিছউ চিন্তা না করেই সোজাসুজি বলে দিলাম -- কয়েকটা ফুল নিয়ে যা । এর পরে তার নেক্সট বায়না -- আমি নার্ভাস ফিল করছি, তুই সিলেক্ট করে দে না দোস্ত। মেজাজটা বিলা হওয়ার আগেই কইলাম জলদি মালন্চে চল আমার কাম আছে, তোর ফুল কিনায়ে দিয়ে আমাকে আরেক জায়গায় যেতে হবে ...

এর পরে ওকে নিয়ে ফুলের দোকানে ঢুকে দেখি আরেক কাহিনী, দুই সুন্দরী ফুল কিনছে তাদের একজন একটা সিলেক্ট করলে অন্যজনের পছন্দ হয়না, আবার অন্যজনের যা পছন্দ সেইটা প্রথম জনের পছন্দ হয় না ... দুই সুন্দরীর একই রকম ঝামেলা দেখে মনের অজান্তেই হাসি এসে গেল ....ওদের কান্ড দেখে হাসতে হাসতে আমি বন্ধুর জন্য ফুল নিয়ে দিয়ে কাউন্টারে যাচ্ছি এমন সময় সময় ওদের একজন বললো -- খুব তো হাসছেন, আমাদের একটু ফুল সিলেকশন করে দিতে পারলে বুঝতাম কিছু পারেন । ওদের কথা গায়ে না মেখে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি , অমনি বন্ধু বলে অনন্ত ইজ্জতের প্রশ্ন, দে নে কটা ফুল সিলেকশন করে। আমি বললাম - তোর মন চাইলে তুই দে, আমার টাইম নাই । এর মাঝেই এক সুন্দরী মুখ বেঁকিয়ে বলে উঠলো -- পারলে না দিবে ... ঝামেলা না বাড়িয়ে কয়েকটি রজনীগন্ধার স্টিক আর গোলাপের কম্বিনেশন করে বললাম -- এই নেন। এর মাঝে আমার দোস্তের চাপসে আরেক কু-বুদ্ধি, ও আমাকে ফিসফিস করে বলে -- শোন, ওদের এই ফুল গুলো শুধু সিলেক্ট না কিনে ও দেই, আমি একটা শুভকাজে যাচ্ছি কারো মনে দুঃখ দেয়া ঠিক হবে না ... এই শুনে ওকে বললাম --তুই যা করার কর গিয়ে, আমি নাই এর মধ্যে ... বন্ধু আমার দু জনের ফুল একসাথে নিয়ে টাকা দেয়ার সময় বলে --- অনন্ত, ওরে নিয়ে রাইতে খামু ভাবছিলাম , তুই এই বিলটা দে না দোস্ত । এইটা মনে কর আমি তোর কাছে লোন নিচ্ছি, পরে দিয়া দিমু নে ... আমি আসকাইলাম -- আর ওদের ঐ ফুলের দাম কেডা দিবো ? ... দোস্ত কইলো -- ওটাও তুই দিয়ে দে না প্লিজ। ইজ্জতের সওয়াল ... অবশেষে নিজের মানিব্যাগের পেট কাইটা দুইজনের ফুলের দাম দিয়া সুন্দরীদের ফুল ওদের হাতে দিয়ে বিদায় দিলাম, এর পরে দোস্তরে কইস্যা একখান জীবনমুখী বানী শুনায়া রিক্সা নিয়ে রওনা দিলাম আপুর সেই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দিকে ।

সেখানে পৌছে দেখি গেটের সামনে রিমন ভাই সেই সাথে সেই আপু অপেক্ষা করছে আমার জন্য, উনার সাথে পরিচিত হয়ে একসাথে ভিতরে ঢুকতে গিয়েই পর পর দু বার ধাক্কা খেলাম , প্রথমত ওখানের সবাই আমাকে ঢুকতে দেখে দাড়িয়ে পড়েছে, আর দ্বিতীয়ত আমাকে স্বাগতম জানানোর জন্য ফুল হাতে দাড়িয়ে আছে সেই জন যিনি কিছুক্ষন আগে আমাকে বলেছিলেন -- খুব তো হাসছেন, আমাদের একটু ফুল সিলেকশন করে দিতে পারলে বুঝতাম কিছু পারেন .....

প্রচন্ড গরমে কয়েকজনের টেক্সট রিপ্লাই আর আমি

প্রচন্ড গরমে

কয়েকজনের টেক্সট রিপ্লাই

আর আমি

২৪ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৪:২২




আজকাল কাছে গাড়ি নাই সুতরাং কর্মক্ষেত্রে যাইতে হলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টই একমাত্র ভরসা। যদিও এতে করে সময় বেশী নষ্ট হয়, শরীরেও বেশী কষ্ট অনুভুত হয়, তার পরেও ওতে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যাহার কারনে একলা একলা নিজের গাড়িতে করে যাওয়ার চাইতে অনেকে ;)

আবহাওয়াবিদদের মতে দিনের শুরুটায় অল্প রোদ আর তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও দিন বাড়িবার সাথে সাথে তাহা চরম গরমে পরিনত হইবার সম্ভাবনা আছে জেনে বড়ই বিচলিত হইয়া একখানা হাফ শার্ট আর পাতলা দেখিয়া একখানা সামারের প্যান্ট পরিয়া বাহির হইলাম ... রাস্টা ঘাটে মানুষ তখনো বেশী চলাচল করছিলো না, তাই ঠিকমতো বুঝিতে পারিলাম না গরমটা খুব বেশি নাকি একটু কম ... মাথার মধ্যে ঘুরিতেছিল আজকের তাপমাত্রা ২২° সে. সুতরাং রাস্তাঘাটে আজকে রং বেরং এর প্রজাপতি দেখিতে পাওয়া যাইবার কথা , অথচ রাস্তাঘাট এত ফাকা কেন ?

এই গরমে কপাল দিয়া ঘাম ঝরিয়া পড়িলেও তাহা মুছিয়া দেয়ার তো দুরের কথা জিজ্ঞাসা করারও কেউ নাই যে তোমার কি বেশী গরম লাগিতেছে ? :( মনটা বড়ই ব্যাকুল হইলে একজনকে টেক্সট করিলাম -- বাহিরে প্রচন্ড গরম, এর মাঝেই আমি কাজে যাইতেছি ... উত্তর আসিলো -- তুমি কাজে যাও আমি গোসল করিয়া নিজেকে ঠান্ডা করিতেছি, আহা আহা কি শান্তির ঠান্ডা পানি । বেষ্ট অফ লাক।
মনে মনে তাহাকে রিপ্লাই দিলাম -- তোর উইশ এর খেতা পুড়ি।

দ্বিতীয় জনকে টেক্সট করিলাম -- কি রে খবর কি, এ দিকে আজকে চরম গরম পড়িয়াছে, এখন এই গরমের মাঝে কি পান করিলে দেহ মনে শীতল পরশ পাওয়া যাইতে পারে, কোন আইডিয়া ?
উত্তর আসিলো -- তোমার কি ভালো লাগবে তাহা তো জানি না , তবে আমি ঘরওয়ালীর বানানো টাটকা তরমুজের শরবত খাইতেছি ... তোমাকে ফোনের মধ্য দিয়ে একটু শরবত পাঠাইলাম, দেখতো কেমন হয়েছে, স্বাদ টা কেমন হয়েছে জানাইতে ভুলিও না কিন্তু...
আমি রিপ্লাই দিলাম -- আমার সাথে মশকরা করিতেছ?
তিনি আবার জানাইলেন -- ভ্রাতা, মনে হইতেছে বেহেশতের অমৃত পান করিতেছি, বিশ্বাস না হয় তোমার ভাবীকে ফোন করিয়া জিজ্ঞেস করিতে পারো ...
আমি মনে মনে তাহাকে বলিলাম -- এই দিন দিন না আরো দিন আছে ....

তখনো বাস আসে নাই , এ জন্য আরেকজনকে টেক্সট করিলাম -- কি হে , খবর কি ... শুনেছি ঐ শহরে নাকি আজকাল মরুভুমির মত গরম অনুভুত হয়, তোমরা কেমনে টিকে আছ একটু জানাবা ?
উত্তর আসিলো -- দোস্ত , এখানে গরমে অতিষ্ট সবাই তাই ছুটি নিয়ে বান্ধবী সহকারে বিচের উদ্দেশ্যে রওনা হইয়াছি, আপাতত তাহার সাথে বিজি আছি, পরে রিপ্লাই দিচ্ছি ....

সবাই এমন জবাব দিচ্ছে দেখে মনটা বড়ই বিচলিত হইয়া গেল , ভাবিলাম সবাই আমাকে গরম থেকে বাচার পরামর্শ না দিয়ে বরং আমার শরীরে যেন হিটার গরমের পরিমান বাড়াইয়া দিতেছে .... শেষমেষ সবেধন নিলমনী, আমার যক্ষের ধনকে টেক্সট করিলাম, তাকে বিস্তারিত ঘটনা জানাইয়া বলিলাম -- এখন কি করিবো বলো, তুমি যাহা বলিবে তাহাই আমি করিব।
এবার অপেক্ষার পালা , কোন জবাব আসে না দেখিয়া একই টেক্সট পর পর দুবার পাঠাইলাম ...
অবশেষে জবাব আসিলো --- তুমি না কাজে যাইতেছ , এত কিছু কখন করিলে ? জবাব দিতে বিলম্ব হওয়ার জন্য দুঃখিত , আমি এসি ছেড়ে দিয়ে আমার জননীর কোলে মাথা রাখিয়া ঘুমাইতেছিলাম ... তুমি শান্ত হইয়া কাজে যাও... সাক্ষাতে কথা হইবে।
এর জবাবে কি বলিব , কি বলিব না ভেবে না পাইয়া অবশেষে সেল ফোনটির ঘাড় ধরিয়া পকেটে ঢুকাইয়া দিলাম। কিছুক্ষন পরে বাস আসিলে তাহাতে বসিয়া দেখি সেখানে এসি চালানো হয়েছে .... বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব শরীরের প্রতিটি অনু পরমানুকে ছুয়ে গেল ....

কিছুক্ষন পরে মনের কোনে এক বিচিত্র ভাবনার উদয় হলো --- আমার চারপাশের এত উত্তপ্ত আগ্নেয়গিরির মাঝে কতক্ষন যে এই ঠান্ডা পরিবেশ অনুভুত হবে তাহা অনিশ্চিত মনে হইতে লাগিলো ....

নিজেকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি এসির আবহাওয়াকে স্হির রাখার নিমিত্তে অবশেষে আবার পকেট থেকে সেল ফোনটি বাহির করিয়া পরবর্তি টেক্সট লিখিতে শুরু করিলাম ....

কোঁকড়া চুলওয়ালী বলে আমি নাকি খুব যন্ত্রনা করি

কোঁকড়া চুলওয়ালী বলে

আমি নাকি খুব যন্ত্রনা করি

২১ শে মে, ২০০৯ রাত ১০:০০







অনেক দিন পরে একটি এমন দিন পাওয়া গেল যেদিন কোন কাজ নেই ... সুতরাং নেই কাজ তো খই ভাজের প্ল্যান করছিলাম ...হাতে আপাতত কাজ নেই, ইনফ্যাক্ট বড় একটা প্রোজেক্টের কাজ করার পরে এখন আমার একটু রেষ্টের সময় চলছে , তাই আর নতুন কাজে একটা দিন হাত দিতে ইচ্ছে করছিল না ... কি করি চিন্তা করছি ... আজকে একটা সেই রকম রান্না দিলে হয়, অথবা বাইরে ঘুরি কোথাও ... অথবা সারা দিন শুয়ে বসে টিভি দেখি ... ঘুম থেকে ওঠার পরে এমনই হাজারো চিন্তা মাথার ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছিলো ... আলসেমিটা এমন ভাবে আকড়ে ধরেছিল যে বেড থেকে নেমে চলে গেলাম ড্রইংরুমে সেখানে গিয়ে সোফার উপরে ধপাস করে পড়লাম ... উহু , বসে না ... একেবারে শুয়েই পড়লাম ... রিমোট দিয়ে টিভি টা অন করতেই ডোরবেলের শব্দ ... ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে ৯ টা বাজে ... এই অবেলায় কে আসবে আমার কাছে, তাও আবার ফোন না করে :| ... যাই হোক, চোখ ডলতে ডলতে দরজা খুলতেই আমার চোখ এক্কেবারে ছানাবড়া হয়ে গেল ... ওমা , এ কাকে দেখছি আমি ? ... মায়ের পাশে ভ্রু কূচকে দাড়িয়ে আছে আমার জানের টুকরা কোঁকড়া চুলওয়ালী ... কোন ঘটনাই বোধগম্য হলো না ... প্রথমটা হলো এত সকালে ওরা এখানে কেন, আর দ্বিতীয় হলো জানের টুকরা টা এমন করে গাল ফুলিয়ে আছে কেন :|

এতসব চিন্তা করছি দেখে ওর আম্মু বললো -- কি হলো ঘরে ঢুকতে দেয়ার আগে এত কি চিন্তা করছো ? .... অমনি কোঁকড়া চুলওয়ালী বলে উঠলো --- আরেক্টু চিন্তা করতে দেও ওকে X((

সকাল সকাল দুই জনের বকা একসাথে খেয়ে কাচুমাচু মুখে দরজা থেকে সরে দাড়ালাম ... ওরা ভিতরে আসলে পরে দরজা বন্ধ করতে করতে ভাবছি পুচকিটার রাগ কিভাবে কমানো যায় ... আমরা সোফায় বসতে না বসতেই কোঁকড়া চুলওয়ালী আমার ঘরগুলো ঘুরতে ঘুরতে ঢুকলো গিয়ে আমার কিচেনে ... গত কয়েকদিনের এলোমেলো অবস্হার কারনে কিচেনটা একরকম জঙ্গলের পরিনত হয়েছিল ... সেটা দেখতেই ও বলে উঠলো --- দেখ দেখ আম্মু ও কত নোংরা করে রেখেছে ...

আমি বললাম -- কয়েকদিন একটুও সময় পাইনি পরিষ্কার করার, এ জন্য এমন হয়ে আছে ... এক্ষুনি পরিষ্কার করছি, ঠিকাছে ?
অমনি সে বলে উঠলো -- আমি বলেছি বলে পরিষ্কার করছো ? দরকার নেই এখন করার... একদম হাত দিবানা ওতে ... একদম না

এমন সময় পরিষ্কার না করলেও সমস্যা আবার ও মানা করার পরে যদি হাত দেই তাহলেও আমার খবর আছে .... তাই পড়লাম মহা বিপদে ... সময়ের সাথে সাথে কোঁকড়া চুলওয়ালীর রাগ বেড়েই চলেছে ... ওকে এক্ষুনি না সামলালে নিশ্চিত বিপদ আছে আমার কপালে ... ভাবলাম একটু আদর করে দিলে হয়তো ঠান্ডা হবে ... তাই ওর হাত ধরে আদর করে কোলে নিতে গেছি আবার ধমক দিলো -- আমাকে আদর করা লাগবে না ... বলেই দুরে গিয়ে বসলো ...

এর পরে তাকে কত কিছু দিতে চেষ্টা করলাম , চকলেট, আইসক্রিম, চিপস, ও দেখি কোনটাই ধরা তো দুরের কথা ছুয়েও দেখে না ...অসহায় চোখে ওর আম্মুর দিকে তাকিয়ে দেখি সে বেশ উপভোগ করছে ব্যাপারটা ... বুঝলাম সেও কোকড়াচুলওয়ালীর পক্ষে ... সুতরাং আমার কোন রক্ষা নেই আজকে :|

বললাম, এক কাজ করি চল আমরা তিনজনে মিলে আজকে লং ড্রাইভে যাই অথবা কোনো পার্কে যাই .... কোকড়াচুলওয়ালী দেখি একেবারে চুপ ... হ্যা ও বলে না , নাও বলে না ... ওর আম্মু মুচকি হেসে বললো -- ছুটির দিনে বেড়ানোর জন্যই আমরা এসেছিলাম, তুমি ওর মন খারাপ করে দিয়েছ এইবার আগে ওকে সামলাও তার পরে অন্য প্রোগ্রামের চিন্তা করা যাবে ...

কোকড়াচুলওয়ালী কে আমি বললাম --- দেরি করে ডোর খুলেছি বলে রাগ করেছ ? আমি শুয়ে ছিলাম তো এ জন্য উঠতে দেরি হয়েছিল, আর এমন হবে না .. সর‌্যি :|
এবার কোকড়া চুলওয়ালী বলে ---- হুমমমমম

বুঝলাম সে কিছুটা মেনে নিয়েছে .... এবার ভাবছি আর কি করেছি যার কারনে ও এখনো মুখ ভার করে আছে ? এমন সময় পোষ্ট ম্যান এসে কয়েকটা চিঠি ডাকবাক্সে ফেলে গেলে পরে ওগুলো নিয়ে ঘরে আসতে আসতে দেখছিলাম ওগুলো কোথা থেকে এসেছে ... এর মধ্যে একটা দেখি টেলিফোনের বিল ... গত মাসেও ওরা আমার গলাকাটা বিল পাঠিয়েছিল , এবার ও কি করেছে কে জানে , ভাবনাটা মনে আসতেই ওটা খুলছি আর কোকড়াচুলওয়ালীর আম্মুকে বলছি -- কে জানে এ মাসে টেলিফোনের বিলটা কত এসেছে :(

অমনি দেখি সে চোখের ইশারায় চরমভাবে কিছু একটা মানা করে যাচ্ছে ... আমি বেকুব ইশারাটা বুঝতে না পেরে বিলটা বের করে পড়লাম ... এর পরে বললাম --- কি যে অবস্হা এত ফোন করা লাগে এত্ত যায়গায় ; একদিকে যেমন সময় নষ্ট অন্যদিকে টাকা ও লাগে এত্ত এত্ত ...

অমনি পাশ থেকে কোকড়াচুলওয়ালী বলে উঠলো --- কাউকে ফোন না করলেই পারো ? X((

ওর মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম , ফোনের বিল দেখে ও রাগ করছে কেন :| ...ঘটনা কি ? ... পরক্ষনেই মনে পড়লো ... সর্বনাস , কি করেছি আমি :| গত পরশু রাতে ঘুমানোর আগে না, আমার ফোন করে ওকে নতুন গল্প বলার কথা ছিল, কাজের চাপে আমি তো একেবারেই ভুলে গিয়েছিলাম .... :| :|

ওর সবচেয়ে আদর লাগার মতো, দু হাতে ওর গুল্লু গুল্লু গাল দুটো ধরে বললাম -- লক্ষি বাবু , আমি সেদিন কাজের চাপে এক্কেবারে ভুলে গিয়েছিলাম গল্প বলতে , আজকে দুটো গল্প বলি ?

আমার জানের টুকরাটা একটু মুখ ঘুরিয়ে নিতে চেষ্টা করতেই ওর কপালে টুক্কুস করে একটা চুমু দিয়ে বল্লাম -- তাহলে তিনটা ?
ও তখনো মুখ ভার করে বলে -- সরে যাও ...
আমি বললাম -- তুমি আজকে আমার কাছ থেকে কয়টা গল্প শুনতে চাও না বললে আমি সরবো না ..

ও আবার বলে --- একটাও শুনবো না ...
আমি বললাম -- আমি তো আজকে গল্প না শুনায়ে ছাড়বো না আমার জানের টুকরাটাকে ...

এই বলে ওকে দু হাতে তুলে কোলে নিতেই দেড়ফুটি কোকড়াচুলওয়ালী বলে উঠলো -- " উফফ , তুম খুব যনতনা কলো "

আমি ছাড়া তোমাকে এমন যন্ত্রনা আর কেউ কি করতে পারে বলো, বলতে বলতেই তাকে টেনে নিলাম একেবারে নিজের বুকের ভিতরে, এমনভাবে যেন আমার বুকে এসে জমা হয় তার সবটুকু অভিমান আর কষ্ট ..... আর তার বুকে জমা হয় আমাদের দু জনের সবটুকু ভালবাসা আর আনন্দ ...

পাত্রীর নানীর ক্যাতা -- তাও আবার আমার সাথে ?

পাত্রীর নানীর ক্যাতা --

তাও আবার আমার সাথে ?

১৮ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:০২





কয়েক বছর আগের কথা ... আমার এক বন্ধুর বিয়ের কথা বার্তা চলছিল ... দু পক্ষ আগে থেকেই পারিবারিক ভাবে কিছুটা পরিচিত হলেও ছেলে মেয়ে দুই আলাদা দেশে থাকার কারনে মধ্যে আগে দেখা হয়নি কখনো ..... শুধু নামে পরিচয়, ছবিতে দেখা আর অল্প সল্প ফোনে কথা হয়েছিল ওদের মাঝে ... তাই ফাইনাল ডিসিশনের আগে সবার ইচ্ছা হলো ছেলে মেয়ে দুজনের নিজেদের মধ্যে একটু আলাপ করে নিক এর পরে ওরা নিজেরা ফাইনাল ডিসিশন জানাবে সবাইকে ...

যেমন কথা তেমন কাজ , পাত্রীর খালা এ দেশে থাকে সেই সুবাধে ওরা সেখানে বেড়াতে আসলো ... পাত্র আবার একলা একলা যেতে একটু কেমন কেমন করছিল বলে আমাকে বললো দোস্ত আমাদের সাথে চল, অনেক কিছু হয়ত বাবা মা' র সামনে বলতে পারবো না সেগুলো তোকে বলবো তুই সবাইকে বলে দিস ... আমিও ফ্রি আছি দেখে রাজি হয়ে গেলাম ... এর পরে এল সেই দিন, পাত্রের বাবা মা ভাই বোন আরো কয়েকজন আর আমি একসাথে রওনা দিলাম পাত্রীর বাড়ির উদ্দেশ্যে .... সময় মতো আমরা ওখানে পৌছে দেখলাম ওদের বাড়িতেও তাদের আত্মীয় স্বজনে গমগম করছে ...চারিদিকে বেশ একটা উৎসব উৎসব ভাব আছে ... সবাই বেশ সমাদর করে আমাদেরকে ভিতরে নিয়ে যেতেই দেখি ঘরে পাত্রীর মুরুব্বীর অভাব নেই ঘরে ... তবে সবাই যাদেরকে বেশ সমীহ করছে তারা হলেন ওর নানা, নানী ... তারা যা বলছে সবাই সেটা অক্ষরে অক্ষরে মানছে ... উনারা আবার কয়েকদিনের জন্য এসেছেন দেশ থেকে ...

ঘরে ঢুকে সবাই কিছুক্ষন কথা বলা হলে পরে একসময় বলা হলো ছেলে মেয়ে আলাদা এক জায়গাতে কথা বলতে যাক ... মুরুব্বীরা এখানে থাকুক , কিন্তু মেয়ে সেই ভিতর থেকে সামনে আসে না আর বন্ধু আমার পাশ থেকে নড়ে না ... এই না দেখে পাত্রীর খালা আমাকে বলে - অনন্ত, তোমার বন্ধুকে নিয়ে বাইরের বাগানে আসো তো ... উনার সাথে আমরা দুজনে বাইরে যেতেই দেখি চরম সাজে সেজে বাগানের এক কোনে দাড়িয়ে আছে পাত্রী ... এদিকে তাকে দেখে আমার বন্ধুর পালস এমন বেড়ে গেল যে সে ফিসফিস করে আমাকে বললো --- দোস্ত আর যাই করিস, এখান থেকে যাসনে যেন, প্লিজ ... তাকে আস্বস্ত করলাম , আমি কোথাও যাচ্ছি না... এখানেই খালার সাথে কথা বলছি, তুই যা কথা বল গিয়ে ... এই কথা আবার শুনতে পেয়েছে পাত্রীর খালা ... তিনি আমাকে বললেন -- ঐদিকে মেয়ের ও নাকি একই অবস্হা ... কি করা যায় বলোতো ? .... আমি বললাম -- চলেন দুইটারে ধাক্কা মেরে বাগানের একটা গর্তে ফালায়া দেই সেইখানেই কথা বলুক, নাইলে এরা যা নাটক শুরু করসে তাতে সারা রাত পার করে দিবে এভাবে দাড়ায়ে দাড়ায়ে ...

চারিদিকে আস্তে আস্তে অন্ধকার নেমে আসছে, তখনো একদিকে আমার বন্ধু দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমার ধৈর্য্য পরিক্ষা নিচ্ছে , ওদিকে পাত্রীও দেখি অন্যদিকে তাকিয়ে আঙ্গুল মোচড়াইতেসে আর তার খালার কথা শুনতেসে ... একসময় পাত্রীর খালা এসে আমারে বলে -- অনন্ত এইবার কি করি ? এ দুইটারে নিয়ে তো বহুত ভ্যাজালে পড়া গেল ... কিছু করা যায় না এদের ? আমি বললাম -- আপনি বড় আছেন, আপনি ওদেরকে এক জায়গাতে আনেন, ... এর পরে উনি বললেন -- এক কাজ করো তুমি গিয়ে *** (পাত্রী) সাথে একটু কথা বলো এর পরে আমি (বন্ধুটাকে দেখিয়ে বললো) এই গাধাটারে পাঠাচ্ছি .... উপায়ন্তর না দেখে আমি বললাম -- আচ্ছা , যাচ্ছি ... :|

এদিকে আমি পাত্রীর কাছে গেছি কথা বলতে, আর ওদিকে ভিতরে পাত্রীর মুরুব্বিরা নিজেদের মাঝে গবেষনা করছে - বাইরে ওরা এত কি কথা বলছে ? ... একসময় পাত্রীর নানী নিজেই কি কথা বলা হচ্ছে তা দেখতে এসে দেখলো আমি দাড়ায়ে কথা বলছি পাত্রীর সাথে আর তার খালার পাশে দুরে দাড়িয়ে আমার বন্ধু ... নানী আর কোন দিক না তাকিয়ে সোজা আমাদের পিছন দিক থেকে হেটে এসে আমার হাত ধরে বললো -- নানাভাই আর কত কথা বলবা , কোন চিন্তা কোরো না ... আমার দোয়া আছে তোমাদের সাথে ... চল ভিতরে যাই ।

আচমকা এই ঘটনায় পাংশু মুখে পাত্রী, বাকরুদ্ধ আমি একদিকে দাড়িয়ে আছি আর ওদিকে চমকে ওঠা খালার সাথে হৃদয়ে চাপ খাওয়া গাধাটা দৌড়ে আসলো আমাদের কাছে ... পাত্রীর খালা , নানীকে বললো -- আম্মা আম্মা কি করেন, পাত্র তো এইটা (বলে আমার বন্ধুকে দেখালো)

অমনি পুরো কথা না শুনেই নানীর চিৎকার করে উঠলো -- তাইলে ও এইখানে কি করছে ?

:| :| :|

এর পরে খালা তাকে পুরো ঘটনা বুঝিয়ে বলার পরে হেসে দিয়ে তিনি আমার গায়ে মাথায় হাত বুলায়ে বললেন -- কিছু মনে কইরো না নাতিন, তোমার সাথে হালকা মিস্টেক হয়ে গেছে ...

বেয়াঈন আমার আয়না দেখে চমকে উঠলো

বেয়াঈন আমার আয়না দেখে চমকে উঠলো

১৬ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:৫৪




শহরে জন্ম, সেখানেই বড় হয়েছি, আর গ্রামে যেতাম বেশী হলে বছরে একবার, তাও ২ - ৩ দিনের জন্য ... কখনো কখনো ২ - ৩ বছরে ১ বার ... একবার, অনেকদিন পরে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছি এক কাজিনের বৌ ভাতে ... সেখানের বিয়ে বাড়ির আনন্দ আর শহুরে আনন্দের মাঝে বেশ পার্থক্য ছিল বলে প্রথম প্রথম ওদের সাথে তাল মিলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিলো ... বিয়ে বাড়ি সাজানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় আমাদের কয়েকজনের উপরে বাড়ি সাজানোর দায়িত্ব দেয়া হলো ... বিশাল বড় বাড়ি, ক্যামনে কি করি সেই নিয়ে আমরা অস্হির ... ভাবীর বাড়ি কাছেই হওয়ায় ও বাড়ির লোকজন দিন রাত এখানে আসা যাওয়া করছে ... এর মাঝে রয়েছিল আমাদের এক দল বিয়াঈন ... ওদের মাঝে একজন আবার ঢাকা থেকে যাওয়ার কারনে ও বাড়িতে বেশ আধিপত্য বিস্তার করে চলছিল ... হুট হাট এ বাড়িতে এসে আমাদের কাজে ডিস্টার্ব করাই যেন ওদের ঐ দিনের একমাত্র কর্মপরিকল্পনা বলেই মনে হচ্ছিলো ... বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ এসে একবার বললো - এহ ! এটা কোন ধরনের ফুল , ঘর সাজানোর জন্য এমন ফুল কখনো ব্যবহার হয় নাকি ? ...... আল্পনা করছে, আল্পনার "আ" কি জিনিস তা জানা আছে নাকি এদের ... সেই সাথে ইচ্ছে করেই হাটতে গিয়ে হাতে পায়ে জড়িয়ে পেঁচিয়ে কাজের / সাজানোর জিনিসগুলোকে ফেলে দেয়াটা একসময় একেবারে সহ্যের বাইরে চলে গেলে উনাদেরকে বললাম --- এত যখন ভাল সাজাতে পারেন তবে পারলে আপনারাই সাজান তো আমরাও একটু দেখি কি মহান শৈল্পিন জ্ঞানের আধার হয়ে এ ধরাভুমিতে এসেছেন আপনারা ... ওদের মুখ দেখে বুঝলাম কথাটা বেশ গায়ে লেগেছে ... অন্ধকার মুখ করে ওরা চলে গেল ওদের বাড়িতে ... কয়েক ঘন্টা পরে যখন ফিরে এলো তখন ওদের মুখ ঝামটা বিহীন হাসিমুখ দেখে যতটা না ভালো লাগলো তার চেয়ে আশংকা হতে লাগলো ওদের সাহায্য করার মহানুভবতা দেখে ... যদিও বাকি কাজটুকু বেশ ভালভাবেই একসাথে করে ফেললাম , তার পরেও হঠাৎ ওদের এই পরিবর্তন দেখে মনের মাঝে একটা খচখচানী থেকেই গেল .....

ঘটনার শানে নুজুল তখনই বুঝতে পারলাম যখন আমি শাওয়ার নিতে গিয়েছি ... ঝর্না দিয়ে পানি মাথা বেয়ে নিচে পড়তেই চমকে উঠলাম ... এত্ত রক্ত কোত্থেকে আসলো, হায় হায় ... মাথা ফাটছে আমি নিজেই টের পাইনি ... এ কেমন কথা :| ... মাথায় যত পানি ঢালি ততই দেখি লাল রক্তের মতো পানি পড়ে,অথচ মাথায় কোন কাটা নেই, ব্যাথা নেই ... কিছুক্ষন পরেই বুঝতে পারলাম আসল কাহিনী ... কাজের ফাঁকে আমার মাথায় রং দিয়ে গেছে শয়তানের নানীগুলোর কোন একজন .... যতই পানি ঢালি ততই রং মিশানো পানি পড়তে থাকে .... শ্যাম্পু দিতে দিতে সেইটা শেষ, সাবান ও ঘষতে ঘষতে হাফ হলে পরে দেখি মাথা থেকে রং একটু কম পড়া শুরু করেছে ... এভাবেই সেদিনের মতো শাওয়ার থেকে বের হয়ে রেডি হলাম X(

অনুষ্ঠান শুরু হতেই ওবাড়ির মানুষজনের আনাগোনার মাঝে খুজে বেড়াচ্ছি সেই জনকে যিনি আমার চুলের ১২টা বাজিয়েছেন ... সবাই আসার পরেও বুঝতেই পারলাম না আসলে কে করেছিল সে কাজটি ... এদিকে সেই মানুষটাকে কিছু একটা করার জন্য মনটা বড়ই আইটাই শুরু করে দিয়েছিল ... একসময় ওবাড়ীর ছোট এক পুচ্চিকে চকলেট দিয়ে বের করে নিলাম সেই নাম, যাকে আমি অনেকক্ষন থেকেই বাত্তি জ্বালায়ে খুজতেছিলাম ... জানা গেল ঐ কাজের কাজি হলেন সেই জন যিনি ঢাকা থেকে গিয়েছিলেন ... আমিও মনে মনে বলি বেয়াঈন সাহেবা ... আমি ও সেইখান থেকেই এসেছি, আপনারে সাইজ না করলে তো আমার চলবে না ... ব্যাস , এক কাজিনকে ডেকে কয়েকটা জিনিস আনতে বললাম .... এর পরে অপেক্ষা করতে থাকলাম সেই মাহেন্দ্রক্ষনের ..... রাতে সবাই মিলে আড্ডা দিতে বসেছি, সবাই বেশ মজা করছে ... এর মাঝেই হঠাৎ করে লোডশেডিং এর কারনে কারেন্ট চলে গেল ... তার পরে ও মোমবাতির আলোয় চলতে থাকলো আমাদের আড্ডা ...

এমন সময় এক কাজিন বলে উঠলো অনন্ত তুমি জাদু দেখাবে না ? ... এ কথা শোনার সাথে সাথে সবাই বলে উঠলো জাদু দেখবো জাদু দেখবো .... আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে ... জাদু দেখাচ্ছি ... তবে একজন আমাকে সাহায্যকারী দরকার হবে ... অনেকেই বলে উঠলো আমি করবো , আমি করবো ... সবার দিকে ঘুরে ঘুরে তাকিয়ে একসময় তাকেই এ্যাসিস্টেন্ড হিসেবে পছন্দ করলাম যিনি ছিলেন সেই ঢাকাইয়া বেয়াঈন ... তাকে বললাম --- শুনেন এই জাদুর সব কিছু আপনি করবেন আমি খালি জাদুমন্ত্র পড়বো ঠিকাছে ? ... উনি সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলেন .... উনার খুশী খুশী মুখ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো আমাকে তিনি আমাকে কোন না কোন বিপদে ফেলতে চান ...

এর পরে তাকে আগে থেকেই পাশে রাখা এক জগ পানি দিয়ে বললাম, এই নেন পানি এটা দিয়ে ঠিকমতো ওজু করে আসেন এর পরে সবাইকে আমরা জাদু দেখাবো ... তিনি অন্ধকারের মধ্যেই বারান্দায় গিয়ে ওজু করে ঘরে আসতেই বললাম ... এই নেন আয়না ... এবার দেখেন তো আর মধ্যে কিছু দেখতে পান কি না ... আয়নায় মুখ দেখতেই তার ফর্সা মুখের যে হাল হয়েছিল তা দেখে আমরা হেসে গড়িয়ে পড়লাম ... কারন আমার ঢাকাইয়া বেয়াঈন সেই আয়নাতে এক কালো ভুতের ছবি দেখতে পেয়েছিল ...... :P :P :P

অনন্ত প্রতীক্ষায় দাড়িয়ে... সুমি


অনন্ত প্রতীক্ষায় দাড়িয়ে... সুমি

১৪ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:৩৬



মধ্যবিত্ত পরিবারে একমাত্র ছোট ভাই আর বাবা মা কে নিয়ে বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলো কলেজ পড়ুয়া সুমি ... খুব মেধাবী না হলেও নিজের রেজাল্ট নিয়ে বাবা মা এর মত সে নিজেও সন্তুষ্ট ... খুব বেশি চাহিদা তার কখনোই ছিল না, এখনো নাই ... এ কারনেই জীবনের প্রতি পদক্ষেপে অন্য উচ্চাকাংখী বান্ধবীদের মতো তাকে কখনো কষ্ট পেতে হয়না ... বাবার চাকুরীর বদলীর কারনে নিজের প্রিয় শহর ছেড়ে কিছুদিন আগে এসেছে ওরা এই শহরে ... নতুন বাসা, নতুন শহর, নতুন কলেজ এখনো ঠিক আপন করে নিতে না পারায় নিজেকে মাঝে মাঝে বেশ অসহায় মনে হয়, বিশেষ করে সেই দিনের পর থেকে যেদিন কলেজ থেকে ফেরত আসার সময় এলাকার কয়েকটা ছেলে ওর পিছু পিছু হেটে এসেছিল ওদের বাসা পর্যন্ত ... বাবা, মা এবং সে নিজে সবরকম ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চায় বলেই কোনোদিন কাউকে কিছু বলেনি ... শুধু অস্বস্হিকর অসহায়ত্ব মনের মাঝে রেখেই বাইরে চলাফেরা করতে থাকে ... কিন্তু সেখানেই শেষ নয় ... পাড়ার মোড়ের দোকানে একদিন নিজের ফোনটা ফ্লেক্সি করার পর থেকেই অজানা সব নম্বর থেকে তার কাছে দিন রাত ফোন / ম্যাসেজ আসতে থাকে ... এ কারনে সেই অসহায়ত্বটা আজকাল ভয়ে পরিবর্তিত হয়ে চলেছে ...

একদিন কলেজ থেকে রিক্সায় ফেরার পথে হঠাৎ ফোন এলো , নাম না জানা কেউ একজন বললো --- ঠিক যেখানে আছ সেখানেই রিক্সা থামাতে বল ... আর একটু সামনে গিয়েছ কি তোমার ******* ..... আমরা আসছি, জরুরী কথা আছে তোমার সাথে ...
ভয়ে থর থর কম্পমান সুমি রিক্সাওয়ালাকে থামতে বলে চাপা কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো ... ওদিকে রিক্সাওয়ালাও কিছু না বুঝে বোকার মতো তাকিয়ে রইলো ওর দিকে ... কিছুক্ষন পরে রাস্তার এক দিক দিয়ে কয়েকজনকে দেখা গেল , এরা তো সেই সব ছেলে যারা সবসময় তার পিছু নেয় ... ওরা যতই কাছে আসছে সুমীর যেন ততই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে ... আকষ্মাৎ দেখলো ওরা আস সামনে আসছে না ... একটি দোকানের সামনে দাড়িয়ে নিজেদের মাঝে কি জানি কথা বলছে .... এমন সময় একটি খুব সাধারন ছেলে ওর রিক্সার পাশ দিয়ে যেতে যেতে ওর ভয়ার্ত কান্না দেখে জিজ্ঞেস করলো -- কি হয়েছে আপনার ... আমি কি আপনাকে কোন সাহায্য করতে পারি ?
কথা বলার মত শক্তি তখন সুমির নাই, রিক্সাওয়ালা যতটুকু বুঝেছে তাই ছেলেটিকে বলতেই সে বললো -- আচ্ছা আপনি আপনার বাসায় যান আমি এখানেই থাকি ওদের সাথে আমি কথা বলছি ...

এ কথা শুনে রিক্সাওয়ালা চালানো শুরু করতেই সুমির আতংক যেন আরো কয়েক গুন বেড়ে গেল ... বাকি পথটুকু চোখ বন্ধ করে পার করে বাসার সামনে এসে যখন রিক্সাওয়ালা বললো -- আপা আপনার বাসায় এইখানে ? ... তখন চোখ খুলে কোন রকমে ভাড়াটা দিয়েই ঘরে গিয়ে দরজা আটকে দিলো ... এর পর থেকে বেশ কয়েকদিন সে ঘরের বাইরে যাওয়া তো দুরের কথা, জানালা দিয়ে পর্যন্ত বাইরে দেখেনি ....

কিছুদিন পরে, কলেজের পরীক্ষা এগিয়ে আসার কারনে নিরুপায় সুমীকে আবার বেরুতেই হলো ... তবে সে লক্ষ্য করলো রাস্তার মোড়ের ছেলেগুলো তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও আগের মতো কিছু বলছে না ... আর আরো অবাক কান্ড হলো এ কয়দিনে অজানা নম্বরের ফোন গুলো আসা বেশ কমে গিয়েছে ... এর পর থেকে সুমী আগের চেয়ে বেশ সাচ্ছন্দ্যে সব যায়গাতে চলাফেরা করতে লাগলো, মাঝে মাঝে মনে হতো, সেই ছেলেটা কে যার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকে সে এমন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে ... অন্তঃত একবার তাকে ধন্যবাদ দেয়া প্রয়োজন ... কিন্তু বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলেও তার কোন দেখা সে পেল না ...

মা কে নিয়ে একদিন শপিং এ গিয়ে কিছু কেনাকাটার মাঝে দেখা হয়ে গেল সেই ছেলেটির সাথে ... মা কে ডেকে বললো -- মা দেখ এই সেই ছেলে যার সাথে আমার সেদিন দেখা হয়েছিল ... বলেই ও তাকে ডাকলো -- এই যে একটু শুনেন ...
ছেলেটি কাছে এল , নিজের পরিচয় দিলো ... জানালো এই এলাকায় সে জন্মেছে , বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে ... ওরা তার পরিচিত , তাই নিষেধ করে দেয়ায় তারা সুমীকে আর ডিস্টার্ব করবে না বলেছে .... সাথে সাথে এটাও বললো -- এর পরে ও যদি ওরা বা অন্য কেউ কখনো সমস্যা করে তাহলে যেন ওকে বলা হয় ...
সুমী বললো -- কিন্তু আপনাকে শুধু ধন্যবাদ দেয়ার জন্য এতদিন লেগেছে খুজে পেতে , সমস্যার পড়লে আপনাকে কোথায় পাবো ... ছেলেটি তার ফোন নং দিয়ে বললো এটা হিমেল নামে সেভ করে রাখতে ...

পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছে যাদেরকে প্রথম দেখাতেই ভাল লেগে যায়, হিমেল তাদের ই একজন বলে মনে হয় সুমীর ... প্রথম দিনের সহযোগীতা আর পরের দিনের অমায়িক ব্যবহারের কারনে হিমেল কে একজন উপকারী বন্ধু হিসেবে ভাবতে শুরু করে সে ... তার মাও মাঝে মাঝে ঘরে কোন ভাল রান্না হলে বলে -- ছেলেটিকে একবার ডাক, খাইয়ে দেই ... ও আমাদের অনেক উপকার করেছে ... অথচ সে কখনোই সুমীদের বাসায় কোন না কোন বাহানা করে আসেনি, এমনকি কয়েকবার সুমি ওকে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রন জানালেও কখনো সাড়া দেয়নি বরং মুচকি হেসে বলেছে -- আমার কাছে আসার চেষ্টা কোরোনা সুমী, আমি তোমার মত ভালো মেয়ের বন্ধু হওয়ার যোগ্য না ....

তার পরে সুমি মুখে না বললেও মনে মনে হিমেল কে বন্ধু হিসেবে পেতে চায়, এর মাঝেই কোন এক সময় নিজের অজান্তে হিমেলের প্রতি ভাল লাগা কোনসময় ভালবাসায় পরিনত হয়েছে সে নিজেও জানে না ... যখন সে উপলব্ধি করলো তখন থেকেই যেন হিমেল ছাড়া আর কোন কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না ... একদিন আর না পেরে হিমেলকে ফোন করে বলেই বসলো , তার সাথে জরুরী কিছু কথা আছে কলেজের সামনে যেন হিমেল তার সাথে দেখা করে ... সুমির গলার স্বরের কম্পনে যা বোঝার বুঝে নিয়ে হিমেল নির্লিপ্ত ভাবে একটুকরো হাসি দিয়ে বললো -- আমার মনে হয় তুমি ভুল করছো সুমি ... আমি আসতাম তবে আমার একটু জরুরী কাজ আছে, এজন্য আমি আসতে পারবো না সর‌্যি ....

প্রচন্ড রাগ আর অভিমানে সেদিন সুমি কিছুই খায়নি , খালি ভাবতে লাগলো কিভাবে হিমেলের সাথে দেখা করা যায়, বলা যায় তার মনের কথা ... চোখে চোখ রেখে , সামনা সামনি ... এমন সময় একটি উপায় যেন ঝিলিক মেরে গেল ওর মাথায় ... ঠোটের কোনে মুচকি হাসি নিয়ে অন্যরকম এক স্বপ্নের ঘোরে ও বাকি রাতটা কাটিয়ে দিলো....

এর পরে সকালে ; কলেজ ছুটির পরে সামনের ফুলের দোকান থেকে কয়েকটি রজনীগন্ধা আর একটি লাল গোলাপ কিনে হঠাৎ ফোন করে বসলো হিমেল কে ...
কান্না কান্না কন্ঠে বললো --- আমি ভয়ংকর বিপদে পড়েছি কলেজে, হিমেলের পক্ষে এক্ষুনি আসা সম্ভব কি না ...
হিমেল বললো --- তুমি একটা রিক্সা নিয়ে শুধু ঐ এলাকা ছেড়ে বাইরে আসো এর পরে বাকিটা আমি সামলে নিচ্ছি ...
অভিমানী সুমি বললো - সে না আসা পর্যন্ত সুমী কলেজের সামনে থেকে এক পা ও কোথাও যাবে না ....
এমন করে একসময় সুমি হিমেলকে বুঝাতে সক্ষম হলো সে আসলেই বিপদে পড়েছে ... আর হিমেল ও যখন বললো সে আসছে তখন থেকে প্রতিটি সেকেন্ড যেন সুমির কাছে এক একটি যুগের মতো মনে হচ্ছে ...

কিছুক্ষন পরে হিমেলের কল এলো--- তুমি এখনো ঠিক আছো তো সুমি, আমি মটরসাইকেল নিয়ে আসছি, তোমাকে নিয়েই ওখান থেকে চলে আসবো, ঠিকাছে ?

কলেজ গেইটে সুমি অপেক্ষা করছে ... হঠাৎ দেখলো ১০ - ১৫ জন ছেলে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছুটে যাচ্ছে এক দিকে ... আর এর মাঝে একজন বলছে --- আজকে নিজেদের এলাকায় পেয়েছি ওরে, কোনোমতেই বেচে যেন না যেতে পারে , দেখিস ...

কিছুক্ষন পরে ওদিক থেকেই বিকট আর্তনাদের সাথে বেশ কিছু গুলির আওয়াজ আসতে থাকে ... পর পর বেশ কয়েকটা ... এর পরে থেমে থেমে আরো কয়েকটি ... এর পরে চারিদিকে নেমে এলো শুনশান নিস্তব্ধতা ... এসবের মাঝেই নিঃসঙ্গ সুমি তখনো কলেজ গেটে দাড়িয়ে রয়েছে হিমেলের প্রতীক্ষায় ....

এক টুকরো উজ্বল আলোর হাতছানি

এক টুকরো উজ্বল আলোর হাতছানি

১৪ ই মে, ২০০৯ ভোর ৪:৫৮




মোটা কালো ফ্রেমের চশমাটির কাঁচগুলো আজকাল কেমন বড় বেশী ঝাপসা লাগে ... বার বার মুছেও সেই আগের মতো স্পষ্ট দেখা যায় না ... চোখ দুটো ও যেন বড় বেশী বেয়াড়া হয়ে গিয়েছে ... বলা নেই কওয়া নেই যখন তখন, বয়ে চলা নদীর মতো জলের ধারা বইয়ে দিতে থাকে ... ইজি চেয়ারটাতে দোল খেতে বেশ ভালই লাগে ... তবে এখান থেকে উঠতে গেলে শরীরটাকে যেন আজকাল অনড় পাথরের মত ভারি অনুভূত হয় ... সামনের জানালায় ভারী পর্দা দেয়ার কারনে বাইরের কড়া রোদ ঘরে প্রবেশ করে না ... এতে অবশ্য খুব বেশী সমস্যা না হলেও মাঝে মাঝে হালকা শীত অনুভূত হলেই জীর্নশীর্ন শালটি আকড়ে ধরে নিজের শরীরের গরমটাকে ভিতরে ধরে রাখার আপ্রান চেষ্টা করে যান তিনি ... দু ছেলে এক মেয়ের সবাই আজ বড় হয়েছে ... মেয়েকে তার মনের মত জায়গাতে বিয়ে দিতে পেরেছেন, আর বেশ সুখেই আছে সে ... ছেলেগুলোও আজ যার যার জীবনে প্রতিষ্ঠিত... একসাথে দু ভাই থাকলেও কখনো তারা একে অপরের সাথে ঝগড়া করে না, তবে দিন দিন কেমন যেন একটা দুরত্বের কালো ছায়া গ্রাস করে নিচ্ছে ওদের সম্পর্ক কে ... এ বাড়ীতে দু বৌ ছাড়াও তার ৪ - ৫ জন নাতি নাতনী আছে ... ওদের সবার কোলাহলে বাড়ীটি সবসময় গমগম করলেও একটি ঘরে থাকে জমাট নিঃস্তব্ধতা ... এ ঘরের একমাত্র বাসিন্দাটা যেন সবার মাঝে থেকেও আলাদা এক জগতে বসবাস করে ... বৌ-মা রা ঠিক কি কারনে এখানে আসে না, তা তার জানা নেই ... তবে একদিন ওদের একে অপরকে বলতে শুনেছিলেন তার ঘরে ঢুকলে নাকি ওদের দম বন্ধ হয়ে যায় ... ছেলে গুলো আজকাল সারা দিন বাইরে থাকে, অনেক রাতে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরে, তাই ওরাও সময় করে উঠতে পারে না তার কাছে আসার ... আগে মাঝে মাঝে বাড়ীর বাইরের লনে তিনি হাটতেন, কিন্তু ওটা এভাবে নিজের দখলে থাকলে নাকি নাতি নাতনীদের খেলায় অসুবিধা হয় ... তাই তিনি আর ওখানে হাটতে ও যান না আজকাল ... এক সময় পর্যন্ত সবাই একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসে রাতের খাবার খেতেন ... কিন্তু তিনি অন্যদের মতো কাটা চামচ দিয়ে খান না বলে অন্যরা নাকি ঠিকমতো খেতে পারে না , ওরা আধুনিক সমাজে বড় হচ্ছে, তাই হাত দিয়ে খাওয়া দেখলে ওদের ঘেন্না করে ... এ জানার পরে থেকে তিনি আর ওদের সাথে বসে খান না ... কাজের বুয়ার দিয়ে যাওয়া খাবার একলা একলা নিজের ঘরে বসে খান ... তার শুধু একটাই শখের জিনিস আছে , আর তা হলো একটা পুরোনো ভাঙ্গা রেডিও, যারা উনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি অনেক দিন ধরে পয়সা জমিয়ে কিনেছিল ... প্রতিদিন রাতে তারা এই রেডিও তে গান শুনতে শুনতে ঘুমুতেন ... তাই আজও তিনি এই ভাঙ্গাচোরো রেডিওটিতে গান শোনার চেষ্টা করেন ... আর মনে মনে তার কথা মনে করেন যিনি তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন দুর কোন এক অজানা দেশে ... কিন্তু আজকে যেন কার উচ্চস্বরের কথা তার কানে আসলো ... কেউ বলছে -- ঐ বুড়ো না মরলে এই টিনের বাক্সের আওয়াজ বন্ধ হবে না ... এর শব্দের জন্য তো ঘরে মেহমান পর্যন্ত আনতে লজ্জা হয় ... মুখে কয়টি অপ্রতিরোধ্য কষ্টের ভাজ ছাড়া তিনি আর কোন রকমের বিমর্ষতার ছাপ আসতে দিলেন না নিজের মাঝে ... শুধু কাপা দু হাতে পুরোনো সে রেডিওটাকে তার বিবর্ন চামড়ার কভারে মুড়ে ঠিক সেভাবেই দাফন করে দিলেন একটি কংকালসার টিনের বাক্সে যেভাবে তিনি তার সকল কষ্টগুলোকে পিতৃত্বের মমতায় মুড়ে বন্ধ করে রেখেছেন নিঃশব্দে ....

আজ তিনি বড় ক্লান্ত ... কাঁপাকাঁপা দুটি হাতে মোটা ফ্রেমের চশমাটা মুছে চোখে দিতেই যেন হঠাৎ এক রঙ্গীন আলোর ঝলকানিতে যেন উদ্ভাসীত হয়ে উঠলো চারিদিক ... আলোর তীব্রতা কমতেই দেখতে পেলেন তার প্রিয় মানুষটি হাসিমুখে দু হাত বাড়িয়ে তাকে ডাকছেন নিজের দিকে ..

Saturday, June 6, 2009

কলেজ ফাঁকি দিয়ে সংসদ ভবনে কিছুক্ষন ....

কলেজ ফাঁকি দিয়ে সংসদ ভবনে কিছুক্ষন ....

১৩ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৫০





তখন কলেজে উঠেছি, পাংখা গজাইতে শুরু করছে মাত্র ... পড়ালেখা তো দুরের কথা, কলেজের ক্লাসগুলো যেন বন্ধ কারাগার বলেই মনে হতো ... ম্যাডামরা যথেষ্ট আদর করলেও উনাদের দিকে তাকানোর টাইম নাই তখন ... স্যার গুলো ও আপাতত আমাদেরকে ঘাটায় না,তাই আমরাও তাদের সাথে কোন পাঙ্গা নেই না, শুধু সোজা একটা হিসাব আমাদেরকে তারা ক্লাস শুরুর সময় বলে দিসে ... ক্লাস ফাকি দেয়া চলবে না, অনুপস্হিত থাকলে কঠিনরকম ফাইন দিতে হবে ... তবে বাপের ট্যাকা বেশী থাকলে ফাইন দিও ... আর পরীক্ষায় খারাপ করলে টি সি দিয়া কলেজ থেকে ভাগায়া দিবে ... কাহিনী শেষ।

এই শুনে তো যাও একটু ক্লাস করার ইচ্ছা ছিল তাও শেষ হয়ে গেছিলো, কি আর করা ... রেগুলার ক্লাস ফাকি দিয়ে ছাদে অথবা কলেজের ওপাশের কোন ধোয়া উৎসব পালন করা হতো .... ক্লাসে রেগুলার কোন একজন বাকিদের প্রক্সি দেয়া আর কোনোভাবে মিস হয়ে গেলে সুজোগ মতো প্রফেসর রুমে গিয়ে আমাদের গ্রুপের পোলাপানের হাজিরা দেয়া একরকমের চোর-পুলিশ খেলা বেশ ভালভাবেই চলছিল ...

একদিন আমাদের গ্রুপের পোলাপাইন সব দেখি এই রুটিনে টায়ার্ড হয়ে গেছে বলে বোরড হয়ে সবাই ক্লাসে বসে আছে, কেউ একজনে বললো -- চল আজকে সংসদ ভবনে যাই ... ব্যাস আর কৈ যাবা ... বাথরুমের নাম করে একে একে পোলাপাইন বের হতে লাগলো বাইরে আর সবচেয়ে পিছনের জানালা দিয়ে একে একে সবার ব্যাগ বাইরে রপ্তানী করা হলো .... পিছনের দেয়াল টপকে বাইরে বের হতেই দেখি কয়েকজন স্হানীয় রিক্সাওয়ালা হাসতে হাসতে আসকাইলো -- মামারা আজকে এত দেরী করে বের হলেন যে ?
আমরা বললাম -- ম্যুড তৈরী হতে লেট হইছে আজকে ....

উনাদের একজন বললো -- তাইলে মামা চলেন আপনাগো ঘুরায়া আনি ...
আমরা বললাম -- নাহ , সবতে মিলে আজেক সংসদ ভবন যামু ....

এর পরে এক রিক্সায় ৪ জন করে বসে একরকম রিক্সা মিছিল নিয়েই দুপুরের কড়া রোদের মধ্যে সংসদ ভবনে পৌঁছালাম ... গিয়া দেখি পুরা এলাকা খালি ... কিছু কিছু দোকলা এক একটি গাছের ছায়া দখল করে নিজেদের মধ্যে ফুসুর ফুসুর ঘুটুর মুটুর করে যাচ্ছে ... কয়েকজন চা - মামা / ভাইগ্না ফ্লাক্স হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ... আর বেশ অল্প মানুষজন হেটে বেড়াচ্ছে ... কিছু ইউনিফর্ম পরা ছেলেমেয়েদেরকেও দেখা গেল ... চটপটি মামা একমুখ হাসি দিয়ে কইলো --- মামা আজকে এখন আইলেন যে, আইজকা সন্ধ্যার আইবেন না ?
কইলাম -- কলেজের থেকে আইছি মামা, সন্ধ্যায় আসব কিনা ঠিক নাই ...

এদিক ওদিক তাকায়া সুবিধামত কোন ছায়ার জায়গা না পেয়ে ত্যাক্ত হয়ে যে এখানে আসার বুদ্ধি দিয়েছিল তাকে কঠিন কথা শুনানো শুরু করেছি অমনি কৈথ্থেকে দুই পোলা আইসা কয় --- ভাইয়া একটু এই দিকে আসবেন ?
আমি কইলাম --- ক্যান ?
ওরা কইলো --- আমাদের এক বান্ধবী আপনারে খুব পছন্দ করছে ... কিন্তু কাছে আইতে পারতেছে না ... আপনি একটু যাবেন ওর কাছে ?
আমি কইলাম --- ওরে এইখানে আইতে কও, আমি যামু না ....

ওরা আবার প্যাচড়াপ্যাচড়ি টাইপ ডায়লগ দিতাছে দেইখা কইলাম -- মিঞা কার লগে হাংকি পাংকি করো ... তোমাগো বান্ধবীরে এইখানে আইতে কও ...
এ কথা বইলা ওগোর একটারে আমগো কাছে রাইখা বাকিটারে পাঠাইলাম সেই কইন্যারে আননের জন্য .....

কিছুক্ষন পরে দেখি সত্যই ইউনিফর্ম পরা এক মাইয়া ঐ পোলার সাথে আইতাছে ... আমার সাথের এক দোস্ত (কলেজ লাইফের অল টাইম বাদরামী পার্টনার) কইলো --- শোন ওরে ঝাড়ি মারিস না , অন্যভাবে কিছু একটা করি চল ...
আমি কইলাম --- কি করবি ?
ও কইলো --- আসুক আগে এর পরে দেখা যাবে....

ঐ মেয়ে এসে দাড়াতেই আসকাইলাম --- তোমার নাম কি ?
সে বললো -- কঙ্কা
আমি বললাম --- ঘটনা কি ? তোমার ফ্রেন্ডরা আইসা কি কয় আমারে ? (একটু ফাপর নিয়া কইলাম) আমারে চিনো তুমি ?
সে হালকা থতমত খায়া কইলো -- ভাইয়া কিছু মনে করবেন না আমরা আপনার সাথে একটু ফান করতে চাইছিলাম .... প্লিজ ভাইয়া কিছু মনে করবেন না ...

আমার পার্টনার হাতের হালকা টোকা দিয়া বুঝাইলো সময় হইছে ওগোরে সাইজ করার ....

পার্টনার কইলো --- তুমগোরে কৈ জানি দেখছিলাম .... নিউমার্কেটে প্রিন্স মাহমুদের এ্যালবাম (নাম টা ভুলে গেছি, তখন হটকেকের মত চলতেছিল ঐটা) কিনতে গেছিলা তাই না ?
সবকয়টা একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে কইলো --- জ্বি, আমরা কয়দিন আগে গেছিলাম ক্যাসেট কিনতে ...
আমি কইলাম --- ঐখানে কি ঘটনা ঘটাইছিলা মনে আছে কিছু ?
ওরা কয় --- না ... মানে ... ওখানে তেমন কিছু হয়নি তো ...

ওদের মুখ দেখে বুঝতে পারছি, কিছু না হলেও মোটামুটি ভাল মাইনক্যাচিপায় পড়ছে আল্লার বান্দা গুলো ...

আমি পার্টনার রে কইলাম --- দোস্ত, ফার্মগেট থেকে আমগো কালা পাহাড়টারে ডাইকা আনতো ... ওরে দেখলেই এগোর সবকিছু মনে পড়ে যাবে ....

বলতে না বলতে দেখি ছেলেগুলো কেমন কেমন করছে আর সেইসাথে কঙ্কা নামের মেয়ের অবস্হা আসলেই খারাপ হয়ে গেছে ...সে পাংশুমুখে বললো --- ভাইয়া আমরা আসলেই ওখানে কিছু করিনি ...
আমরাও তখন হেসে দিয়ে বললাম --- জানি তোমরা কিছু করোনি, তোমরা শুরুতে যেমন মজা করছিলে , আমরা ও একটু দুস্টুমি করলাম ...

নিজেদের মাঝের দুস্টুমিগুলো একে অপরদের কাছে শেয়ার করতে করতে সবাই মিলে ঝাপিয়ে পড়লাম চটপটি আর ফুচকা ভক্ষন কর্মসূচীতে ...




আম্মুর চড়ের শব্দে একজন নির্বাক :| আরেকজনের ১০০ মিটার দৌড় B-)


আম্মুর চড়ের শব্দে একজন নির্বাক :| আরেকজনের ১০০ মিটার দৌড় B-)

১২ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৯





আজকাল কেন জানি আম্মুর সাথে ঘটে যাওয়া পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার ঘুরেফিরে সামনে আসছে একের পর এক ... এমনই একটা অঘটন ভরা ঘটনা ছিল এই রকম -------

কোন এক ছুটির দিন দুপুর বেলার ঘটনা ... তখন (খুব সম্ভব) ক্লাস ৩ তে পড়তাম ... এমনিতেই ছোটবেলা থেকে কম ঘুমাই ... এ জন্য সেদিন আম্মু আমাকে তার সাথে জোর করে শুইয়ে ঘুম পাড়াতে গিয়ে একসময় ক্লান্ত হয়ে নিজেই ঘুমিয়ে পড়লেন ..... কিছুক্ষন পরে আম্মুর নড়াচড়া নেই দেখে আমিও চুপচাপ ঘটনা পর্যবেক্ষন করে আস্তে আস্তে নেমে পড়লাম বেড থেকে ... পা টিপে টিপে ঘরের বাইরে গিয়ে ভাবলাম আম্মু ঘুমিয়ে আছে এই সুজোগে আপুনির সাথে খেলা করলে মন্দ হয় না ... এবার ওর ঘরে গিয়ে দেখি সে ও ঘুমে একেবারে পানি হয়ে আছে ... কি করা যায় ভাবতে ভাবতে বারান্দার গ্রিল ধরে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকলাম ... ৩ তলার উপরে থাকতাম বলে আমার খেলাধুলা মোটামুটি ঘরের ভিতরেই সীমাবদ্ধ থাকতো ... বিকেলে সবাই মিলে যেতাম ছাদে ... এছাড়া ছাদে যাওয়া আমার জন্য নিষেধ ছিল ... প্রথমে ভাবলাম একলা একলা ঘরে ফুটবল খেলি , কিন্তু একদিকে ঘুমিয়ে থাকা আম্মু জেগে গেলে বকা দিতে পারে অন্যদিকে আমাদের বাড়ীওয়ালা (২য় তলায় থাকতেন) আবার হাই প্রেশারের রোগী ছিলেন, উনি চিল্লালে তো বাসায় আগুন ধরে যাবে ... এ জন্য চুপচাপ কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকলাম আকাশের দিকে তাকিয়ে .... কি করি কি করি করতে করতে একসময় চোখ পড়লো আব্বুর সাইকেলের উপরে ... এই সেই সাইকেল যেটা তখন আব্বু ব্যবহার করতেন না কিন্তু ঘরে এনে রেখে দিয়েছিলেন ... একসময় এইটাতে চড়ে আমি আব্বুর সাথে সারা শহরে ঘুরে বেড়াতাম ... অনেকটা আনমনেই গ্রিলের সাথে হেলান দেয়া সাইকেলের উপরে চড়ে বসতেই নিজের মাঝে কেমন আব্বু আব্বু ভাব এসে গেল .... পা ঝুলিয়ে চেষ্টা করলাম প্যাডেলে ছুতে , কিন্তু না পেয়ে হাতের কাছে পেলাম সাইকেলের বেল .... আর কৈ যাবে ... শুরু হলো ক্রিং ক্রিং ক্রিং ....

একটু পরে ঐ শব্দে আম্মুর ঘুম ভেঙ্গে গেলে আম্মু বেডরুম থেকেই বলে উঠলেন -- এ্যাই অনন্ত সাইকেলের বেল বাজায়ো না ...

আম্মুর কথা একবারে আমার কখনোই শুনতে ইচ্ছা হয় না (এখনো) বলেই সেবার কোনো উত্তর না দিয়ে আমি আমার মত বেল বাজাচ্ছিলাম, ক্রিং ক্রিং ক্রিং ...

আম্মু আবার বললেন --- এই অনন্ত শব্দ কোরো না ....
আমি আবারো উত্তর না দিয়ে আম্মুর রাগ আরো বাড়ানোর জন্য মনের খুশিতে আরো জোরে জোরে আর যত দ্রুত সম্ভব ক্রিং ক্রিং ক্রিং বাজিয়ে চললাম ...

এবার আম্মু সত্যি ভীষন রেগে বলে উঠলেন --- অনন্ত শব্দ বন্ধ না করলে কিন্তু মাইর দিবো

কথাটা তখন আমার এমন মজা লেগেছিল যে আম্মুর গলা নকল করে বার বার বলতে লাগলাম --- অনন্ত শব্দ বন্ধ না করলে কিন্তু মাইর দিবো .... অনন্ত শব্দ বন্ধ না করলে কিন্তু মাইর দিবো .... অনন্ত শব্দ বন্ধ না করলে কিন্তু মাইর দিবো

এর মধ্যে আপুনির ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল, ও এসে দাড়িয়েছে আমার পাশে ... হঠাৎ দেখি আম্মু গটমট করে হেটে আসছেন আমাদের দিকে ... বুঝলাম আজকে আমার মাইর আছে কপালে ... সুতরাং পালাবার জন্য আমি অন্য বারান্দার সাইডে আস্তে করে সরে যেতে থাকলাম .... ওদিকে আম্মু চরম রাগে আমাদের কাছে আসতেই আপুনির গালে বসিয়ে দিলো এক রাম-থাপ্পড় .... আর রাগী রাগী গলায় বললেন --- আমার গলা নকল করে ভেঙচি দিচ্ছিলা কেন ? X(

আমার আপুনিটা চড় খাওয়া গালে হাত দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলো ঘটনা কি হইছে :|

আর ততক্ষনে আমি দাত কেলিয়ে :P ১০০ মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ন হতে দৌড় শুরু করতেই আম্মু একটু থতমত করে আপুনিকে জিজ্ঞেস করলেন -- কিরে , ঐ বান্দর এমন করে হেসে দৌড় দিলো কেন ?

অতঃপর ......

সাদা পান্জাবীতে রহস্যময় লিপস্টিক চিহ্ন

সাদা পান্জাবীতে

রহস্যময় লিপস্টিক চিহ্ন

১১ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪১





আজকে আম্মুর সাথে ফোনে এটা সেটা নিয়ে কথা বলছিলাম, এমন সময় হঠাৎ আম্মু জিজ্ঞেস করলো - সামনের ঈদে কি পান্জাবী পরবা ? ... আমি বললাম - এখানে যে শীত তাতে করে পান্জাবী পরে ঈদ করা সম্ভব না , আর অনেক দিন না পরার কারনে এখন কেমন জানি পরার ইচ্ছাটাও হারিয়ে গেছে ... আম্মু বললেন - যদি ইচ্ছা হয় তাহলে বলো, একটা পাঠিয়ে দিবো ... আমি বললাম -- আচ্ছা ... আবার আম্মু বললেন -- কি রং এর চাও সেটাও জানিয়ে দিও ....... এইবার পড়া গেল মহা ফ্যাসাদে ...যখন ছোট ছিলাম তখন পরতাম রং বেরং এর পান্জাবী, একটু বড় হয়ে পরতাম শুধু সাদা, আবার কখনো কখনো শখ করে অন্য রং এর পান্জাবীও পরেছি, কিন্তু এখন তো মাথায় ই আসছে না কি রং এর কথা বলি ... ঘুরে ফিরে মাথায় খালি সাদা রংটির নাম ই আসছে ... সেই সাথে কতশত স্মৃতি .... এর মাঝে একটি ছিল একটু অন্যরকম :| .....

একবার এক খুব কাছের বন্ধুর বড় ভাই বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম সেদিন .... আমরা সবাই একসাথে বিয়ে বাড়ি পৌছে দেখি বিশাল আয়োজন, চরম এলাহী কান্ড ... গেটে পৌছে যথারীতি দেখি উনার শালা শালীরা সব গেট ধরে দাড়িয়ে আছে .... টাকা না দিলে নাকি গেট ছাড়বে না .... আমরা গেট মানি হিসেবে ২৫,০০০ এর মতো ধরে রেখেছিলাম... প্রথমে ওরা ডিমান্ড করছিল ২০,০০০ না দিলে কোন মতেই ছাড়বে না ... আমাদের আইডিয়া থেকে ওদের ডিমান্ড কম দেখে আরো কমানোর জন্য আমার বন্ধুরা সবাই চাপাচাপি শুরু করলো কত কম টাকা দিলে গেট ছাড়বে ..... একসময় সেটা কমতে কমতে ১০,০০০ এ নামলেও আমাদের ফ্রেন্ডরা আরো কমানোর জন্য চাপাচাপি করছিল ...

বেশ খানিক্ষন এমনে চলতে থাকলে, এক পর্যায়ে আমি ওদেরকে জিজ্ঞেস করলাম --- টাকা দিলে আপনারা কি করবেন ?
উত্তর এলো -- আমরা এই কেঁচি জামাই বাবুর হাতে দিবো এর পরে উনি ফিতা কেটে ভিতরে ঢুকবেন,
আমি বললাম --- কেঁচি দিয়ে ফিতা কাটলেই সব ঝামেলা শেষ তো ?
ওরা বললো --- হ্যা ... এর পরেই আপনাদেরকে আমরা ভিতরে ঢুকতে দিবো, এর আগে না ...

আমি এক হাতে টাকা নিয়ে আরেক হাত পকেটে ঢুকায়ে , আগে থেকে পকেটে রাখা একটা কেঁচি বের করে বললাম বড় ভাইয়াকে বললাম --- নেন ভাইয়া, ঝামেলা শেষ করেন, ফিতা কাটেন তো ....
অমনি শুরু হলো হট্টগোল --- না না না .... জামাইকে ঐ কেঁচি দিয়ে ফিতা কাটতে দেয়া হবে না ....
আমি বললাম -- আচ্ছা ঠিকাছে, জামাই এর পক্ষ থেকে আমি কেটে দিচ্ছি ....

এটা বলেই আর দেরি না করে হাতে ধরা কেঁচি দিয়ে দিলাম ঘ্যাচ করে ফিতা কেটে .... ব্যাস আর কৈ যায় ... রিতিমত কুরুক্ষেত্রের মত অবস্হা তৈরী হয়ে গেল .... ওদিকের ভিতরে থাকা মুরুব্বিরা এত দেরী আর হট্টগোল শুনে এসে দেখে এই কান্ড, উনারা হাসতে হাসতে আমাদের ভিতরে নিয়ে গেলেন, আর আমরা ভাইয়ার শালা শালীদের অগ্নি দৃষ্টির উপরে ভেংচি কেটে বীর দর্পে ঢুকে পড়লাম বিয়ে বাড়ীতে ...একদিকে এই কান্ড তার উপরে বরের ছোটভাই এর ক্লোজ ফ্রেন্ড হিসেবে আমি সবটুকু সময় বেশ সমাদর আর নিরাপত্তা দুটোই পেয়েছিলাম ও বাড়ীর মুরুব্বিদের কাছে ...

যাই হোক, রাতের খাবার দাবারের পর আমরা আবার একটু ধোয়া উৎসব করার জন্য ওই বাড়ীর ছাদে উঠে একটু অন্ধকার কোনে গিয়ে বন্ধুরা সবাই একসাথে মশাল জ্বালিয়ে নিজেদেরকে গরম করে নিচ্ছি ... এমন সময় দেখি আমাদের চারপাশে বড়ভাই (জামাই) এর কয়েকজন শালা শালীর হাজির হয়েছে ...সামনে পিছনে সব জায়গাতেই ওরা আর আমরা মাত্র কয়েকজন .... এদের সাথেই সেই সময় ঝামেলা করার কারনে বাটে পেয়ে কিছু করে কিনা চিন্তা করছি, এমন সময় দেখি তারা চরম ভাল ব্যবহার করছে , হাসি মুখে মজার মজার কথা বলছে , আনন্দ করছে ..... ব্যাপারটা কেমন জানি খটকা লাগতেই সেখান থেকে কেটে পড়লাম আবার আলো ঝলমল স্টেজের দিকে ... এরপর থেকে ওখান থেকে ফেরা পর্যন্ত অনেকেই দেখি আমার দিকে তাকায়ে কেমন একটা মুচকি হাসি দিচ্ছে ... ঘটনা কিছু না বুঝেই এক দোস্তরে আসকাইলাম ঘটনা কি রে ? .... হারামজাদা নিজেও মুচকি হেসে বলে কিছু না দোস্ত, এভরিথিং ইজ ওকে ....


আসল ঘটনা বুঝতে পারলাম পরের দিন যখন আম্মু আমার রুম থেকে পান্জাবী নিয়ে যাচ্ছিলেন ধোয়ার জন্য ... ঘর থেকে বেরোনোর সময় হঠাৎ উনি জিজ্ঞেস করলেন --- কিরে পান্জাবীর পিছনে এত গুলো লম্বা লম্বা চুল ক্যান ?

আমি বললাম -- কৈ ?

আম্মু বললো -- এই যে এত্তোগুলো ...

আমি আরো ম্যুডের সাথে বললাম -- নিজের চুল সব মাথা থেকে ঝরে আমার পান্জাবীতে ফেলে এখন আমাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে এগুলো কার চুল ?

আম্মু খানিক্ষন পরে পান্জাবীটার পিছনের সাইড উঁচু করে ধরে বললেন --- তাইলে কি এই লিপস্টিকের দাগ গুলোও আমি দিসি নাকি ? X(

:| :| :|