Wednesday, July 29, 2009

সামু ব্লগারদের দরজায় আন্টিদের কাছে যে কথাগুলো শুনলাম

সামু ব্লগারদের দরজায় আন্টিদের কাছে যে কথাগুলো শুনলাম

(ইহা একটি কাল্পনিক রিয়েলিটি পোষ্ট)

১৯ শে জুন, ২০০৯ রাত ৮:২৬




বেশ ক' দিন কাজের চাপে ঠিকমতো ব্লগের আসা তো দুরের কথা খাওয়া দাওয়াও করতে পারছি না ... এর মাঝেই কয়েকদিন ধরে দাওয়াত খেতে মন চাইছে , কিন্তু সবাই আমার মতই ব্যাস্ত তাই কেউ দাওয়াত করছে না ... এমন সময় মনে আসলো আরেক চিন্তা ... যদি সামু ব্লগারদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাই তো মন্দ হয় না , মনে মনে যাওয়া শুরু করলাম একে একে তাদের বাড়িতে ( বিশেষ কারনে শুধু তাদের বাড়িতেই গেলাম যারা ছদ্দনামে ব্লগিং করেন...) ... অতঃপর যা শুনলাম .... সেগুলো সংক্ষেপে এইরকম --

(সকল আন্টিদের আর টারজান ভাইয়ার কাছ থেকে আগে থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি :| )



==========

নষ্ট মাথার দুষ্টু মেয়ে -- আপির বাসায় গিয়ে বেল দিতেই আন্টি দরজা খুললেন .... খুব সুন্দর করে জিজ্ঞেস করলেন --> কে তুমি ?
আমি বললাম --> আমি অনন্ত, নষ্ট মাথার দুষ্টু আপি আছে ?
উনি কিছউক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন --> বাসার ঠিকানা ঠিক আছে তো ? বাইরে গিয়ে বাড়ীর নং পড়ে দেখ ঠিক যায়গাতে এসেছ কি না

এর পরে দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সেখানে আর দাওয়াত খাওয়া হলো না :|

==========

জটিল ভাই এর বাসায় গিয়ে বেল দিতেই আন্টি দরজা খুলে বললেন --> কার কাছে এসেছ ?
আমি বললাম--> আমি অনন্ত, জটিল ভাই বাসায় আছে ?
আন্টি বললেন --> এখানে সবাই সরল সহজ মানুষ থাকে, কোন জটিল মানুষ এখানে থাকে না , তোমার কিভাবে মনে হলো এখানে জটিল কেউ থাকতে পারে ?
এর পরে কোন সদুত্তর প্রদান না করার ফলে দাওয়াত খাওয়া ছাড়াই সেখান থেকে নিষ্ক্রানত হতে হলো :|

============

চানাচুরের বাসায় গিয়ে বেল দিতেই আন্টি জিজ্ঞেস করলেন --> কাকে চাই ?
আমি বললাম --> চানাচুর আছে ?
আন্টি কয়েক মুহুর্ত আমার দিকে তাকিয়ে বললেন --> তোমার কি এই বাড়িটা মুদিখানার দোকান মনে হয় ?
আমি হতভম্ব হয়ে বললাম --> না মানে আন্টি আমি আসলে চানাচুর আপি কে খুজছিলাম, আপনি আউলাকে জিজ্ঞেস করেন সে ও আমাকে চিনে
আন্টি এবার আমাকে ভাল করে দেখে বললেন -- ঘটনা কি বলতো, এই বাড়িটা একবার তোমার কাছে চানাচুরের দোকান মনে হয় আবার মনে হয় আউলার বাড়ি... পাগলা গারদ থেকে তুমি কবে ছাড়া পেয়েছ মনে আছে ?

আন্টি এমন কেন বললো, আমি কি আসলেই পাগলা গারদ থেকে এসেছি নাকি ?? .... পাগলা গারদ থেকে কবে ছাড়া পেয়েছি চিন্তা করতে করতে ওখান থেকেও বের হয়ে আসলাম ... ওখানেও দাওয়াত খাওয়া হলো না :|

==============

শয়তান ভাই এর বাসায় গিয়ে বেল দিতেই আন্টি একই প্রশ্ন করলেন --> কে তুমি কার কাছে এসেছ ?
আমি বললাম --> আমি অনন্ত, শয়তান ভাই আছে ?
আন্টি আমার মুখের দিকে কয়েক সেকেন্ড স্হিরভাবে তাকিয়ে বললেন --> আমার সাথে কি ফাজলামি করো ? .... আমার এমন শান্তির ঘরকে কি তোমার জাহান্নাম মনে হয় যে শয়তান এখানে থাকতে যাবে ?
আন্টি হাতে মাইর খাওয়ার আগেই সেখান থেকে পলায়ন করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকলো না আমার :|

===============

এর পরে গেলাম কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টির বাসায়.... দরজায় নক করতেই আন্টি খুলে জিজ্ঞেস করলেন --> কে তুমি কার কাছে এসেছ ?
আমি বললাম --> আন্টি কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি আছে ?
আন্টি বার কয়েক আমার উপর নীচ পর্যবেক্ষন করে বললেন --> কার কথা বলছো ?
আমি বললাম --> আন্টি কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি
আন্টি এবার আমাকে বললেন --> আমার বাসাটাকে তোমার কি আবহাওয়া পর্যবেক্ষন কেন্দ্র বলে মনে হয় নাকি ?
অতঃপর দাওয়াত এর কথা মন থেকে ত্যাগ করে , বিনা মেঘে বজ্রপাতর আগেই সেখান থেকে পলায়ন করলাম ... :|

================

এবার গেলাম উদাসী স্বপ্নের বাসায়, সেখানেও সেইম কাহিনী , আন্টি জিজ্ঞেস করলেন --> কে তুমি কার কাছে এসেছ ?
আমি বললাম --> আমি অনন্ত, উদাসী স্বপ্ন আছে ?
আন্টি বললেন --> বাইরে কি কোন সাইনবোর্ড আছে যেখানে লেখা এখানে স্বপ্ন বিক্রি হয় ?
আমি বললাম --> না :|
আন্টি আবার জিজ্ঞেস করলেন --> আর কোন সাইনবোর্ড আছে যে এটা স্বপ্নের কারখানা ?
আমি বললাম --> না
আন্টি এর পরে আবার বললেন -- তাহলে এখানে উদাসী কেন , অন্য কোন ধরনের স্বপ্ন পাওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে ?
বাকরুদ্ধ আমি বলে দিলাম --> না, নাই :|
আন্টি বললেন -- তাহলে এখন ?
আমি বললাম -- আন্টি আমি যাই :|
অতঃপর সেখান থেকে নিরবে প্রস্হান করলাম ...

=================

এবার গেলাম মমমম১২ এর বাসায় , তার বাসায় গিয়ে বেল দিতেই আন্টি জিজ্ঙেস করলেন -- কে তুমি কাকে চাই ?
আমি বললাম --> আন্টি আমি অনন্ত, মমমম১২ আছে ?
আন্টি আবা জিজ্ঞেস করলেন --> কি নাম ?
আমি বললাম --> মমমম১২
আন্টি বললেন --> মমমম এর পরের অংশ কি বলা যায় না ? এর পরে আবার ১২ এর মানে কি ?
আমি বললাম -- > আমি তো উনাকে এই নামেই চিনি
আন্টি বললেন --> বাবা তোমার শরীর সুস্হ আছে তো ?
আমি বললাম --> জ্বি আন্টি সুস্হ আছে বলেই তো মনে হয় , কেন ?
আন্টি বললেন -- আমার মনে হয় তোমার বাসায় গিয়ে রেষ্ট করা প্রয়োজন
বুঝলাম এখানেও শিকে ছিড়বে না, সুতরাং মানে মানে কেটে পড়ি ... :|

=================

এর পরে গেলাম অন্যরকমের বাসায় , বিমর্ষ মনে ঘরজার টোকা দিতেই আন্টি এসে একই প্রশ্ন করলেন --> তোমার পরিচয় ? কার কাছে এসেছ ?
আমি বললাম --> আন্টি আমি অনন্ত, অন্যরকম আছে ?
আন্টি বললেন --> অন্যরকম কি ?
আমি বললাম --> অন্যরকম ভাই এর কথা বলছি
আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে আন্টি বললেন --> দেখ , তুমি যেই হও আমার বাসায় প্রথম এসেছ এমন কিছু কইরো না যাতে সমাদরের জায়গাতে অন্যরকম কিছু করা লাগে, এবার ঠিক ঠিক বলো তুমি কার কাছে এসেছ ?
আমি আবার বললাম --> আন্টি আমি আসলে অন্যরকম .....
আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে আন্টি বকা দিয়ে বললেন --> অন্যরকম বাদে আর কি বলতে চাও বলো ...
বুঝালাম আমার কপাল আজকে বড়ই খারাপ, তাই আর অন্যরকম কিছু না হওয়ার আগেই সেখান থেকে ভাগলাম

==================

এবার গেলাম বড় বিলাই আপুর বাসায়, বেল চাপতেই একজন রাশভারী মানুষ দরজা খুললেন --> জিজ্ঞেস করলেন -- কে তুমি কাকে চাই ?
আমি বললাম --> বড় বিলাই আপি আছেন ?
তিনি বললেন --> কি ?
আমি বললাম --> না মানে আমি বড় বিলাই আপির সাথে দেখা করতে এসেছিলাম
এবার তিনি থমথমে কন্ঠে বললেন --> এখানে আমি আর আমার ওয়াইফ থাকি, এখানে কোন বড় বিলাই নাই, তুমি অন্য কোথাও খুজে দেখ ..
আমি বললাম --> ওয়াও আপনি সেই টারজান ভাইয়া ?
এবার তিনি সত্যিকারে হুংকার দিয়ে বললেন --> তোমার সাহস তো কম না, একবার আমার ওয়াইফ কে বিলাই ডাকো এবার আমাকে টারজান, আজকে তোমার একদিন কি আমার একদিন , কৈ শুনছ আমার বন্দুকটা নিয়ে আস তো ...
বন্দুক হাতে উনার ছুটে আসা দেখে জানের মায়া বড় মায়া বলেই দাওয়াতের কথা ভুলে সেখান থেকে কোনরকমে জান নিয়ে পালাতে পালাতে সেদিনে মত দাওয়াত খাওয়ার প্ল্যান ক্যান্সেল করে বাস্তবে ফেরত আসলাম .....

আই ডোন্ট ড্রাইভ ফাস্ট বাট লাভ টু ফ্লাই লো.

আই ডোন্ট ড্রাইভ ফাস্ট

বাট লাভ টু ফ্লাই লো.

১৫ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:০৩





মধ্যরাতে ঘড়ির কাটা ১২টা ছুতেই হাইওয়ের স্ট্রিট লাইট নিভে গেল ... রাস্তার দু পাশে খালি পতিত জমি আর ফসলের ক্ষেত ... এর মাঝে দিয়ে অন্ধকারের বুক হেডলাইটের আলোর উজ্জলতায় ঝলসে দিয়ে হাইওয়েতে ছুটে চলেছে ৪টা গাড়ি একটার পিছে আরেকটা ... স্পিড সবকটারই আজকে নরমালের চেয়ে একটু বেশী ... যদিও ১৬০ কিমি/ঘন্টা এদের কারো জন্য এমন কোন স্পিড না তবুও অপরিচিত রাস্তা আর হাইওয়ের এখানে সেখানে সিসি ক্যামেরায় স্পিড কন্ট্রোল না করলে হয়তো সবকজন আজকে উড়ে চলতো ... সবার মাঝেই একটা রেসের ইচ্ছা থাকলেও প্রায় প্রতি ৫ - ১০ কিমি পর পর ক্যামের কারনে সে ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলনা ...এভাবেই চলছিল এই উইক এন্ডে ৪ গাড়িতে আমাদের উড়ে চলা ... সকাল ১০টা থেকে সবাই গাড়ি দাবড়িয়ে চলেছি মধ্যরাত পর্যন্ত ক্লান্তিতে কিছুটা অবসন্ন আর চরম ক্ষিদায় পেটে বিভিন্ন শব্দ করতে থাকলেও সবাই একসাথে না থামলে আর খাওয়া যাচ্ছিলো না ... আর এমনভাবে অনেকদিন পরে উড়ছি সবাই একসাথে, সময়টা খাবার খেয়ে নষ্ট করতেও কারো মন চাইছিলো না ...

সাড়ে ১২ টার দিকে হঠাৎ চোখে পড়লো রাস্তার পাশে পুলিশের গাড়ি লাইট জ্বালিয়ে দাড়িয়ে আছে, সিগন্যাল দিচ্ছে এক কিলোমিটার সামনের পেট্রোল পাম্পে সব গাড়িকে পার্কিং করতে ... স্পিডের গলা চেপে বাকি পথটুকু চালিয়ে পাম্পের সামনে যেতেই দেখি পুরা রাস্তা ব্লক করে শুধু একটা রাস্তা দিয়ে এক সারিতে ঢুকতে বলছে সবাইকে ... সেখানে ঢুকে দেখি আমাদের মতো আর সব গাড়ি ঢুকছে এক এক করে , আর পুরো পাম্প স্টেশন পুলিশ ঘিরে রেখে এ্যালকোহল কন্ট্রোল (চেক) করছে ... আমাদের ৪গাড়ীতে বসা অনেকেই চেইন স্মোকার হলেও কেউ এ্যালকোহল পান না করায় কোন ঝামেলা হবে না বুঝেই একসাথে সবাই পাশাপাশি গাড়ি লাগালাম .... এর পরে এক মামা ইশারায় বললো ড্রাইভার ৪জন ঐদিকে যাও বলে হান্টারওয়ালী এক মামীকে দেখিয়ে দিলো .... আমরা চারজন একে একে নেমে ঐদিকে একসাথেই হাটতে লাগলাম ... তার কাছে পৌছুনোর আগেই দেখি আমাদের বাকী লোকজন সব কয়জন আমাদের সাথে সাথেই আসছে ... এর পরে ১৩ - ১৪ জনের একটা দল যখন এ্যালকোহল টেষ্টের জন্য দাড়ালাম তখন হান্টারওয়ালীর একটু ভ্রু কুচকে বলে -- সবাই না , শুধু যারা ড্রাইভ করছে তারা টেষ্ট দিবে .... প্রতিউত্তরে আমাদের বাকীরা বলে - সবার কাছেই লাইসেন্স আছে তাই ওরাও টেস্ট দিতে চায়
এবার হান্টারওয়ালী আমাদের একজনকে টেষ্ট করিয়ে সেইফ সিগন্যাল পেয়েই বললো যাও তোমরা তোমাদের পরীক্ষা করবো না ... কিন্তু কন্ট্রোলে এসে পরীক্ষা না করিয়ে গেলে কেমন হয় এ জন্য দেখি আমাদের কেউ আর ওখান থেকে নড়ে না , এর পরে হান্টারওয়ালী শুধু আর একজন কে টেষ্ট করিয়ে বাকী সবাইকে বিদায় কর দিলো
আমরা আবার গাড়ি স্টার্ট দিবো এমন সময় পিছন থেকে এসে আমাদের একজনকে বললো -- তোমরা একসাথে বের হয়েছ আজকে রাতে, সাবধানে স্পিড লিমিটে রেখে ড্রাইভ করো ... শুভ যাত্রা ...
এবার আমাদের মাঝের একজন জবাব দিলো আমরা কেমন ড্রাইভ করি তা আমাদের গাড়ির পিছনেই লেখা আছে ... উৎসাহী এক হান্টারওয়ালী গাড়ির পিছনে গিয়ে দেখে সুন্দর ফন্টে বড় বড় করে লেখা আছে -- আই ডোন্ট ড্রাইভ ফাস্ট বাট লাভ টু ফ্লাই লো ... B-)

ভাবনার ছন্দপতনে হারিরে যাওয়া এক বিকেল

ভাবনার ছন্দপতনে

হারিরে যাওয়া এক বিকেল

১২ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৭





দুর থেকে রক্তাক্ত ছেলেটার দিকে তাকিয়ে কেমন জানি অনুশোচনায় দগ্ধ হতে লাগলো শীলা ...আনমনেই ভাবতে লাগলো -- ব্যাপারটা এমন কেন হলো ? এমন তো নাও হতে পারতো ... সবকিছু যদি অন্যরকম হতো তবে কি খুব একটা খারাপ হতো ? ...

ঘটনার শুরুটা খুব সাধারন ভাবেই ...

কলেজের খুব ছটফটে, দুরন্ত আর সেই সাথে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে শীলাকে সবাই চিনে। যে কোন কাজের, যে কোন অনুষ্ঠানে তাকে সামনের সারিতে পাওয়া যাবেই যাবে ... সুন্দর মুখশ্রীর আর বন্ধুবৎসল হওয়ার কারনেই হয়তো অনেকেই তার পাশে সবসময় মৌমাছির মতো ঘুরঘুর করে থাকে । বন্ধু বান্ধবের তার অভাব নেই, নেই কারো প্রতি তার ব্যক্তিগত দ্বন্দ ... অবশ্য এখানে তেমন কেউই নেই যে ওর সাথে পাঙ্গা নিতে আসতে সাহস করবে ... সেটা অবশ্য ওর জন্য না, বরং ওকে ঘিরে থাকা বন্ধুদের জন্য। ও যেমন অন্যের সব দরকারের সময়ে হাজির থাকে ঠিক তেমনি ওর প্রয়োজনের সময় না ডাকতেই সবাই হাজির হয়ে যায় ... কেউ কেউ এ জিনিসগুলো ঈর্ষা করলেও কখনো মুখ ফুটে বলতে পারে না ... জিনিসগুলো শীলাও বুঝে, কিন্তু সেও ব্যাপারগুলো বেশ উপভোগ করে থাকে ... যে কারনে কখনো এ বিষয়গুলো নিয়ে কোন রকম মাথা ব্যাথা ওর নেই ...

ওদের ক্লাসের কয়েক রকমের স্টুডেন্ট আছে ... কিছু আছে বেশ উৎসাহী যারা সব ধরনের কাজে , পড়ালেখায় সব সময়ে আগে থাকে ... কিছু আছে যারা নিজেদেরকে অন্যদের থেকে একটু দুরে রাখতে পছন্দ করে ... কেউ কেউ আছে যারা অন্যের খুত ধরতে পছন্দ করে অথচ নিজেরা কিছু করতে চায় না, কোন দায়িত্ব নিতে চায় না ... এ সবের মাঝেও একটা ছেলে আছে যে নিজেকে সবকিছু থেকে দুরে রাখে , একলা একলা থাকে .... একটা ড্যাম কেয়ার ভাব তার চোখে মুখে থাকলেও সবার সাথে সহজভাবে মেলা মেশা করে থাকে ... কেউ তার কাছে কোন সাহায্য চাইলে কখনো না করে না ঠিকই তবে কেউ যেন তার কাছে আসতে পারে না .... কাছে থেকেও সে যেন অনেক দুরের একজন মানুষ ... তার সম্পর্কে মিম একদিন বলছিলো -- ও যেন এক পর্দার আড়ালের মানুষ ... দুর থেকে ওকে যত দেখবে ততই মনে হবে ও অনেক পরিচিত একজন .... অথচ যত কাচে যাবে , ততই সে নিজেকে এমনভাবে আড়াল করে ফেলবে যেন মনে হবে অচেনা আগন্তুক ... মিম কথাগুলো বলেছিলো তার অভিজ্ঞতা থেকে ... একদিন ভোরবেলা বড় নোটের ভাংতি রিক্সা ওয়ালাকে দিয়ে ওকে ছেলেটা সাহায্য করেছিল, তবে এর বিনিময়ে সে মিমের কাছ থেকে কিছুই নেয়নি ... মিম চেয়েছিলো ওকে অন্তত এক কাপ চা খাওয়াতে , একটু বন্ধুত্ব করতে ... জবাবে ছেলেটি বলেছিলো -- আমরা তো বন্ধুই, তাই না ? আর আমি এমন কিছু করিনি যার কারনে তুমি এমনভাবে আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাবে ... যদি কখনো এমন কিছু উপকার করি তবেই আমাকে চা খাওয়ায়ো, ঠিকাছে ?

কথাগুলো শীলার মনের কোনে এক অন্যরকম অনুভুতির জন্ম দিয়েছিলো... সে নিজেও কখনো ঐ ছেলের সাথে কথা বলেনি , আসলে কোন দরকার পড়েনি বলেই বলা হয়নি ....... তবে মীমের কথাগুলো শুনে কেন জানি ওর দিকে তাকিয়ে অল্প করে হাসতে ইচ্ছে হতো ... বিনিময়ে ছেলেটাও দুর থেকেই মুচকি হাসি উপহার দিতো তবে কখনোই কাছে এসে বলেনি কেমন আছো ... সে নিজেও কখনো জিজ্ঞেস করে নি তুমি কেমন আছ ... ব্যাপারটা শীলার বন্ধু মহলের অনেকের চোখে পড়লেও শীলা কিছু না বলায় ওরাও ছেলেটিকে কিছু বলতো না ... এমন করতে করতে একসময় কৌতুহল রাখতে না পেরে কেউ কেউ বলেই ফেলতো--- ছেলেটার হাসি কি বিশ্রী, আর কেমন আনসোশ্যাল, কারো সাথে মেশে না ... জবাবে শিলা সহজাত ভঙ্গিতে একগাল হাসি দিয়ে উত্তর দিতো -- সময় আসুক ওরে দেইখা নিমু নে .....

হঠাৎ কয়েকদিন দেখা গেল ছেলেটি আর ক্লাসে আসে না, তার কি হয়েছে সহপাঠীদের কেউ তা জানেও না ... মনে মনে কয়েকদিন ধরেই শীলা ওকে খুজে ফিরছে ... কিন্তু কোথাও ওর দেখা নেই .... একদিন বন্ধুদেরকে বলেই ফেললো -- কিরে তোরা ঐ আনসোশ্যাল ছেলেটাকে দেখেছিস কোথাও ? ... সবাই বলে -- নাহ দেখিনি তো .. ক্যান কি হইসে ?
শীলা দুষ্টিমির ভঙ্গিতে উত্তর দেয় --- নাহ কিছু হয়নি, ওরে কেন জানি একটু সাইজ করতে মন চাইতেসে ... এমন সময় ওরে হাতের কাছে পেলে মনের সুখ মিটায়ে মাইর দিতাম ......
ওর অতি উৎসাহী বন্ধুরা এগিয়ে এসে বলে ঠিকাছে দাড়া ও আসুক একদিন সেদিনই তোর মনের ইচ্ছা পূরন করে দেয়া হবে ........ শীলা মনে মনে হাসে , বলে -- ঠিকাছে সেদিন আচ্ছা মতো প্যাদানী দিস ঐ বোকা ছেলেটা কে ...

কয়েকদিন পরে , ক্লাস শেষে শিলারা সবাই একসাথে মাঠের কোনে আড্ডায় বসেছে , এমন সময় ছেলেটি ওদের কাছে হাজির হলো ..... ওকে আসতে দেখেও সেদিন ওরা কেউ কথা বলছে না দেখে বেশ কিছুক্ষন সে অপেক্ষা করলো, এর পরে আস্তে আস্তে একটু পিছিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো সময় সুযোগ হলে বলবে সে কথাটা ... ব্যাগের ভিতর থেকে সুন্দর খামটা বের করে হাতে নিয়ে কিছুক্ষন অপেক্ষা করলো সে .... এর পরেও কেউ ওর দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না দেখে আস্তে আস্তে শীলার কাছে এসে সুন্দর খামটা এগিয়ে দিয়ে হাসিমুখে বললো -- এটা রাখ

শীলা একটু গম্ভীর হয়ে বলে -- কি আছে এতে ?
ছেলেটি উত্তর দেয় -- দেখই না ভিতরে সব লেখা আছে
শিলা এবার দুষ্টুমি করে বলে উঠলো -- প্রেমপত্র কি এভাবে দিতে হয় নাকি ? একটু রোমান্টিক হয়ে কি দেয়া যেত না ?

শিলার কথা শেষ হতে না হতেই ওর অতিউৎসাহী বন্ধুরা চড়াও হয়ে গেল ছেলেটির উপরে ...মূহুর্তের মধ্যে কিল ঘুসি আর হাতে যে যা পেল সবকিছু দিয়ে বেদমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেললো ওকে ,অথচ ছেলেটি একটা বারের জন্যই কারো গায়ে হাত তুললো না , মুখ আর চোখ ছাড়া আর কোথাও মারলেও কেন জানি সেইভাবে নিজেকে রক্ষাও করলো না ... ছেলেটার এমন অবস্হা দেখে শীলার চিৎকারে ওরা একসময়ে থামলেও ততক্ষনে বেশ ভালভাবেই আহত হয়েছে ছেলেটা ... ব্যাথায় কোঁকাতে কোঁকাতে উঠে দাড়িয়ে ঠোটের কোনে একটা বিদ্রুপের হাসি দিয়ে শিলাকে সে বললো -- ভেবেছিলাম তোমরা আমার বন্ধু হবে অথচ তোমরা তো আমার শত্রু হওয়ারও যোগ্যতা রাখ না ..

কথাটা শুনতেই কেমন জানি খটকা লাগলো শীলা আর তার বন্ধুদের, রক্তাক্ত ছেলেটার চলে যাওয়া দেখতে দেখতে থমথমে মনে ওরা সবাই বুঝতে চেষ্টা করলো ছেলেটা কি বলতে চেয়েছে .... হঠাৎ করে শীলা ওর হাতে ধরা খামটা খুলে দেখলো ওতে একটা বিয়ের কার্ড আছে আর সেইসাথে একটা ছোট্ট চিরকূট , আর তাতে লেখা -- আমার একমাত্র বোনের বিয়েতে তোমাদের সবাই কে দাওয়ার দিচ্ছি, আমার কোন বন্ধুনেই যাদেরকে আমি এই আনন্দের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে পারি , তোমাদেরকে আমার বন্ধু মনে হয়, তাই তোমাদের সবাইকে দাওয়াত দিচ্ছি .... কথাগুলো মুখে বললে তোমরা যদি আমাকে ফিরিয়ে দাও সে দুঃখ আমি সইতে পারবো না তাই কথাগুলো এখানে লিখে দিলাম .... ইতি - তোমাদের সবসময়ের শুভাকাংখী

অভিমানের মেঘ পেরুনো এক পরীর গল্প

অভিমানের মেঘ পেরুনো

এক পরীর গল্প

০৯ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮





ঘাড়ে বাধানো ব্যাগটার একটা হালকা ঝাকুনি দিয়ে অনুভব করলাম জিনিসটা আছে .... কলিং বেলে হাতটা রেখে কয়েক সেকেন্ড কিছু একটা চিন্তা করে এর পরে ডোর বেল বাজালাম --

ডিং ডং .... ডিং ডং
(ভিতর থেকে আন্টির গলা শোনা গেল) -- কে ?
একটু অপেক্ষা করে উত্তর দিলাম -- আন্টি আমি অনন্ত ,

এবার দরজা খুলে আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিয়ে বললেন, তোমাদের নিয়ে আর পারা গেল না , মনের মধ্যে কি যে খচখচ করতে থাকে তোমাদের বুঝিনা বাপু ... ঢুকতে না ঢুকতেই এমন কথা শুনে থতমত খেয়ে উঠলাম। বললাম -- ক্যান আন্টি কি হইসে ?

এর পরে যা শুনলাম তার সংক্ষেপ হলো -- আমার দোস্ত কয়দিন আগে আন্টির একটা খুব শখের শাড়ি পরে বাইরে গিয়েছিলো এর পরে যখন বাসায় ফিরেছে তখন শাড়ীটার কয়েক জায়গায় ময়লা আর এক জায়গাতে ছেড়া ছিলো ... আজকে সে চায় আরেকটা শাড়ি পরে মেলায় যাবে ... তাই আন্টি তাকে সাফ সাফ মানা করে দিয়েছেন যে তিনি কোন শাড়ি দিবেন না আজকে ... আর নাকি বলেছেন -- শাড়ি চুড়ি তোর জন্য না , তুই শার্ট আর জিন্স পরে বাইরে যেমন যাস এমনেই যাবি সবসময়, আর ভুলেও আমার কোন শাড়ি ধরবি না ... এ জন্য তার অভিমানী কন্যা সকাল খায়নি আর কান্না করতে করতে চোখ ফুলায়ে ফেলেছে ... আন্টিকে একটা জিনিস জানানোর দরকার মনে করে বলতে গিয়েও কেন জানি চুপ করে গেলাম ... বললাম -- ও কৈ আন্টি ?
আন্টি >> ওর ঘরে আছে, যাও ওখানে ....

ঘরে ঢুকেও দেখলাম ঠিক তাই , এলোমেলো চুলে দোস্ত আমার ফোলা ফোলা গোলাপী চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে ... ঘরে অনেক জিনিস ই এলোমেলো পড়ে আছে ... সামনে রাখা ল্যাপটপে দেখলাম ম্যাসেন্জারে লগ ইন করা অথচ স্ট্যাটাস - অফলাইন ... সকাল থেকে আমার দেয়া শ দুই তিন বাজ এখনো তার সামনে খুলে রাখা ... অথচ একটারও উত্তর দেয়নি ... সেল ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম আটান্নটা মিসকল ... এর মাঝে শুধু আমার ই চৌত্রিশ টা ... দেশ বিদেশের অনেক ফ্রেন্ডের কলের মাঝে একটাও সে রিসিভ করেনি । বেডের পাশের টি টেবিলে এখনো সকালের নাশতা পড়ে আছে ... পানিতেও একটা চুমুক ও দেয়নি ... এ সব দেখে মনে মনে খুব কষ্ট লাগলো ... এত সবকিছুর মূল দোষটা তো আমার , ঐদিন খোলা মাঠে দৌড় প্রতিযোগীতাটা না করলেই হতো ... তাহলে আজকের এই অবস্হা দেখতে হতো না আমাকে ... বললাম -- স্যরি দোস্ত, আমার জন্যই .... কথার মাঝেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে ও বললো -- আমিই তো তোকে চ্যালেন্জ করেছিলাম, তুই না না করলি এর পরেও আমি শুনিনি ... দোষ সবটা আমার... এক কাজ কর, তুই যা মেলায় আমি যাব না আজকে ...

আমি জিজ্ঞেস করলাম -- এক কাজ কর, তোর নিজের একটা শাড়ি পর আর এর পরে চল যাই মেলায়
ও বললো -- নাহ ! আম্মা বকা দেবে আজকে আমি কোন শাড়িতে হাত দিলে ... আজকে প্ল্যান করেছিলাম শাড়ি পরে যাব, এখন যখন শাড়ি পরতে পারব না তখন যাবই না , তুই যা তো ... বিরক্ত করিস না ।
আমি বললাম -- দেখ , তুই যদি না যাস তাহলে ....
ও ক্ষেপে গিয়ে বলে উঠলো --- চুপ ! আর একটা কথাও বলবি না , ভাগ আমার সামনে থেকে ....
আমি সমানে রাগ দেখিয়ে উঠে দরজার দিকে যেতে যেতে ঘাড়ের ব্যাগটা ছুড়ে দিলাম ওর উপরে ... বললাম -- আচ্ছা যাচ্ছি যাচ্ছি ... আমার রাগটা এই ব্যাগের উপরে দেখা, ছিড়ে ফেলতো দেখি এইটা .... সেও সমান রাগে কাপতে কাপতে দু হাতে কাপড়ের ব্যাগটা ছিড়তে চেষ্টা করলো, শেষে না পেরে ব্যাগের চেইন খুলে ভিতরে দেখলো একটা একটা চারকোনা প্যাকেট , ওটা বের করে ছিড়ে ফেলতেই এলোমেলো হয়ে বেরিয়ে এল মিষ্টি সবুজ রং এর একটা শাড়ি আর ছড়িয়ে পড়লো তার ভিতরে রাখা কাচের চুড়িগুলো .... কয়েক মূহুর্তে সে সবের দিকে তাকিয়ে এর পরে বলে উঠলো --- তুই অসম্ভব একটা ....
আমি বললাম -- কি ?
ও বলে -- নাহ ! কিছু না
আমি বললাম -- নে এইবার শাড়ি পরে নে চল যাই .... বলেই ওর ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম ...

আন্টিকে দেখলাম পিয়াজু বানাচ্ছেন রান্নাঘরে , উনার সাথে খানিক্ষন হালকা গল্প করতে করতে পিয়াজু খেয়ে সময় কাটানোর পরেও যখন দেখি ওর খবর নেই তখন ওর ঘরের দরজান নক করলাম ---- কিরে হলো ?
ভিতরে থেকে জবাব এলো -- একটু আয় তো ...
ভিতরে ঢুকে যা দেখলাম ... তা দেখে আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি ... দেখি জনাবা ঐ ১২ হাতের শাড়িকে তার শরীরে কমপক্ষে সাড়ে তের বার পেঁচিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে আছেন .... আমার হাসি দেখে যেন ওর পিত্তি জ্বলে গেল , চিৎকার করে বলে উঠলো --- এতে হাসির কি আছে , তুই নিজে কি আমার চেয়ে ভাল পরতে পারিস নাকি যে এমন করে হাসছিস ?
এর পরেও আমার হাসি আর কমে না দেখে রান্নাঘর থেকে আন্টি চলে আসলেন .... উনি ও ওর এই অবস্হা দেখে হেসে দিলেন ... বললান -- নে , অনেক অভিমান হইসে এবার আয় তোকে শাড়ি পরায়ে দিচ্ছি ...

আন্টি ওকে শাড়ি পরায়ে দিচ্ছে আর আমি বের হয়ে ড্রইংরুমে রাখা পিয়াজু আর চা খাচ্ছি ... কিছুক্ষন পরে দেখতে পেলাম ওর ঘরের ভিতর থেকে এক অদ্ভুত সুন্দর মানুষ বের হলো ... মিষ্টি সবুজ রং এর শাড়িটার সাথে ম্যাচিং করে পরা চুড়ি, সেই সাথে তার খুব পছন্দের হাই হিল ... দুষ্টু হাসিতে মুখরিত, পরিপাটি বাধা চুলের সাথে বড় বড় চোখে দেয়া কাজলে সেই খুব পরিচিত মানুষটাকে দেখে মনে প্রশ্ন জাগলো -- এ কি আফ্রোদিতি, ভেনাস নাকি ফ্রেয়া ? ..... অতঃপর, অপরূপ সেই পরীর বাচ্চাটাকে নিয়ে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে দিলাম অনন্ত দিগন্তে ...

অভিমানী মেঘের পরে রংধনুর কোমল পরশ

অভিমানী মেঘের পরে

রংধনুর কোমল পরশ

০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১১:৩৯






অনেক রাতে টিপু ভাই এর বিয়ে থেকে ফেরার পরে সকালে আর ঘুম ভাঙ্গে না ... আম্মু কতক্ষন ডাকাডাকি করে চলে যখন দেখে লাভ নাই তখন নিজের কাজে চলে গেল ... কিন্তু আমার এমন মজার ঘুম মনে হয় সবার সহ্য হয় না ... আর তাই হঠাৎ করেই বেজে উঠলো টেলিফোন ---- ক্রিং ক্রিং ক্রিং

> হ্যালো
>> কিরে শালা এখনো ঘুমাস ?

কন্ঠটা শুনেই এক মুহুর্তেই আমার এতো আরামের ঘুম বাপ বাপ করে পালিয়ে গেল ... কারন আমার ঘুমও জানে, ওর সাথে ঠিকমতো কথা না বললে নির্ঘাত আমার কপালে মাইর আছে

> না মানে , এই তো, উঠে গেছি
>> তোর গলা শুনে তো মনে হয় না উঠে গেছিস , রেডি হতে কতক্ষন লাগবে ?

> কি ? (তখনো আমি বুঝিনাই ও আসলে কি বলতে চাইছে)
>> (একেবারে কঠিন আর ঠান্ডা কন্ঠে ছেড়ে ছেড়ে বললো) আমি বলেছি তোর রেডি হয়ে ঘর থেকে বের হতে কতক্ষন সময় লাগবে

> (মনে মনে হিসাব করে নাশতা সহ টাইম বললাম) এই মনে কর ঘন্টাখানেক ...
>> তুই কি মেয়ে নাকি যে ঘন্টাখানিক ধরে মেকাপ করে বেরুবি ? তোকে আমি ১ ঘন্টা সময় দিলাম এর মধ্যে কি করবি না করবি জানি না, শুধু জানি এখন থেকে ১ ঘন্টার মধ্যে আমার সামনে তুই হাজির হবি ....

> কিন্তু তোর বাসায় যেতে তো ৪০ মিনিটের মতো লাগে , আমি কেমনে কি করুম ?
>> এতো কিছু তো জানি না , এখন ৭.৪৫ বাজে ৮.৪৫ এর আগে তোরে আমি আমার বাসায় দেখতে চাই , ব্যাস .... (বলেই লাইন কেটে দিলো)

ফোন হাতে কিছুক্ষন বসে থাকলাম .....এতক্ষনের কি হলো, সবটা মাথার উপর দিয়ে গেল বলেই মনে হলো ... আবার মনে করি -- ধুর, কি হইসে না হইসে তা পরে চিন্তা করে দেখবো আগে ওর বাসায় যাই সময় মতো, না গেলে কপালে আজকে মাইর আছে .... যত দ্রুত সম্ভব রেডি হয়ে , একটা গিফট প্যাকেট ব্যাগে ঢুকিয়ে একরকম দৌড়ে বাইরে বেরিয়েই দেখি সকাল বেলার জ্যাম ... রিক্সা না নিয়ে জ্যামটা হেটে পার হয়ে এর পরে রিক্সা নিয়ে রিক্সাওয়ালাকে জোরে চালাতে বলতে বলতে একরকম তাড়িয়ে নিয়ে যখন ওর বাসায় পৌছুলাম তখন বেজে গেছে ৮.৪৬ ... লিফটে উঠে ওর ঘরে বেল দিতে দিতে ৮.৫০ ... দেখি বেল দেয়ার সাথে সাথে বের হয়ে বললো -- চল যাই ...
আমি জিজ্ঞেস করলাম -- কৈ যাবি ?

মুহুর্তের মধ্যে পিঠের উপরে একটা হাতুড়ির বাড়ির মতো কি জানি পড়লো, সেই সাথে ওর কন্ঠস্বরে ভেসে উঠলো -- একে তো লেট করেছিস আর উপরে প্রশ্ন করিস ? তোর তো সাহস কম না ... চুপচাপ যা করতে বলি কর ... চল বেরুই ।
আমি বললাম > আচ্ছা

ওর বাসা থেকে বের হতেই রিক্সা ডেকে বলে -- চিড়িয়াখানা যাবেন ?
আমি একটু আস্তে করে জিজ্ঞেস করতে গেছিলাম -- ঐখানে কি করুম আজকে ? কিন্তু ওর চোখের আগুন দেখে আর কিছু বলার সাহস পেলাম না ...

এর পরে সারাটা পথ সে আমাকে খালি দেখে আর রাগ রাগ করে তাকায় ... আমি কিছু বলতে গেলেই হাইহিল দিয়ে পায়ে খোঁচা মেরে ঠান্ডা গলায় বলে -- চুপ থাকতে বলসি? ... আমিও আর কথা না বাড়িয়ে চললাম ওর সাথে ... সেদিন দেখি সে নিজেই চিড়িয়াখানার ২টা টিকিট কেটে বাদামওয়ালার কাছ থেকে এত্তোগুলো বাদাম কিনে আমাকে সাথে নিয়ে ঢুকলো ভিতরে ...

একটু হেটেই সামনে পড়লো বান্দরের বিশাল খাচাটা, সেখানে গিয়ে আমার ও বললো --- নে ধর, তুই আর বান্দর রা মিলে বাদাম খা, আমি দেখবো
আমি বললাম > আমি, বান্দর, বাদাম ... মানে কি ?
ও বললো >> তুই তো মানুষ না , তুই একটা বান্দর , কালকে রাতে আন্টি তোকে সবার সামনে বান্দর বলে পরিচয় করায়ে দিসে তাও আবার কার সাথে , টিপু ভাই এর বৌ আর শালীদের সাথে ... শালা তুই এক বান্দর ওরাও সব বান্দর ... আমি কালকে যেতে পারিনি তাও তুই গেছিস ঐখানে , সকালে বেলা তুহিনের কাছ থেকে শুনেছি তো .... বর হওয়ার খুব শখ জাগছে না ? ওদের দিকে কেমনে তাকায়ে ছিলি সেটাও আমি শুনেছি ... ওদের থেকে এই বান্দরগুলো অনেক সুন্দর আছে , এ জন্যই তোকে এনেছি ... এইবার নে ... এই খাচার থেকে একটারে বেছে নে , ঐটার সাথেই তোর বিয়ে দেব আমি ... জলদি কর ।

আমি বলি > আরে কি বলিস না বলিস , তুহিন বললো আর তুই বিশ্বাস করলি ?ওখানে তো আমরা মজা করছিলাম ... নাথিং সিরিয়াস দোস্ত ... টেক ইট ইজি
ও বলে >> তুই শালা টাংকী মারবি ক্যান ওদের সাথে ... দুনিয়ায় আর কাউরে চোক্ষে দেখিস না ?

আমি বলি > আরে কি যে বলিস আমি কিছু করলে সবার আগে তো তুই জানবি
ও বলে >> থাক আর চাপাবাজি করিস না আমার সাথে .... আমি কালকে রাতে ঘুমুতে পারিনি সারা রাত, আজকে আমার টার্ম পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার কথা, তুই তো জানিস এটা আমার জন্য কত ইম্পর্টেন্ট এর পরে ও তোকে এমনটা এই সময়ে করতে হবে ? আমার রেজাল্ট দেখার কথা ছিল তোর তার দেখিসনি ফর শিউর ... তুই আমার কেমন দোস্ত রে ? দুর হয়ে যা আমার চোখের সামনে থেকে , আমি চাইনা তোর মুখ দেখতে ... এক মূহুর্ত দাড়াবি না আমার সামনে ... ভাগ

আমি বললাম > চল বাসায় পৌছে দেই তোকে
ও বলে >> তুই জাহান্নামে যা, আমি তোর সাথে যাব না
আমি বললাম >> বুঝিস কিন্তু ... আমি চলে যাচ্ছি
ও বললো >> যা না , তোকে আটকে রেখেছে কে ?

একটা ছোট্ট হাসি মুখে নিয়ে এর পরে বললাম > টার্ম পরিক্ষায় বেষ্ট গ্রেড নিয়ে কেউ এমন করে বকা দেয় কাউকে ? এবার আয় তো দেখি তোর মুখটা --- বলে দু হাতে ওর মুখটা ধরতেই চোখের কোনে মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে কিছু কিছু ধরা পড়লো ...

আঙ্গুল দিয়ে ওটাকে দুর করতে করতে, ব্যাগ থেকে গিফট প্যাকটা বের করে ওর হাতে দিতেই বলে উঠলো >> কি আছে এতে ?
বললাম >> খুলেই দেখ না , কি আছে

প্যাকেটটা খুলতেই মাঝারী সাইজের একটা তুলতুলে বিয়ার বের হতেই নিজেকে আর ও ধরে রাখতে পারলো না , শক্ত করে দুহাতে বিয়ারটার জড়িয়ে ধরে গাল ফুলিয়ে বললো -- কিরে, ওদের সাথে টাংকি মারা জন্য আমাকে তোর সাবস্টিটিউট দেয়া হচ্ছে বুঝি ?

বুঝলাম, অভিমানের বরফ গলা শুরু করেছে, কিন্তু কিছু বলে আর নতুন করে ওকে না রাগিয়ে ঠোটের কোনে ছোট্ট একটা হাসি দিলাম ...

ঐ দেখে সে হালকা একটা অভিমানের ঝাড়ি দিয়ে বলে -- এমন সবজান্তার মতো হাসতেছিস ক্যান, জানিস না এখন আমার আইসক্রিম খেতে মন চাইছে ?

আমি বললাম -- রেইনবো ?
ও বললো -- হু

এর পরে ওর নরম কোমল আংগুলের মাঝে আমার আংগুল গুলোকে ঢুকিয়ে রংধনুর সাত রং এ ভাসিয়ে দিলাম নিজেদেরকে ... একসাথে, পাশাপাশি ....

বৌ এর সাথে আম্মু আমাকে পরিচয় করায়ে দিলো ... এবং

বৌ এর সাথে আম্মু

আমাকে পরিচয় করায়ে দিলো ... এবং

০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ৯:১৬







আলো ঝলমলে কমিউনিটি সেন্টারে লোক জনের আনাগোনা শুরু হয়েছে অনেক আগেই। ভিতরে লোকজনের ভিড় থেকে দুরে যাওয়ার লক্ষ্যেই একটু বাইরে পা রেখেছিলাম, অমনি আংকেল ডাক দিলো -- অনন্ত, এই দিকে আসো তো ... উনার কাছে যেতেই বললেন -- তুমি এইখানে কি করো ... এখানে যারা গেস্ট আসছে ওদেরকে তোমরাই তো রিসিভ করবে , ভিতরে নিয়ে যাবে , তারা ঠিক মতো খাচ্ছে কি না তদারকি করবে ... আমি বললাম -- আংকেল, ভিতরে তো অনেক মানুষ, এ জন্য একটু বাইরে বাতাস খেতে বের হয়েছিলাম, এক্ষুনি যাচ্ছি ভিতরে ... গেটের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভাইয়া টা ঘেমে একাকার অবস্হা ...

আসলে বিয়ে টা ছিল আমার আব্বুর বন্ধুর ছেলের , ওদের সাথে তেমন একটা যোগাযোগ না থাকার কারনে বলতে গেলে কাউকেই চিনতাম না ... বৌ ভাতের আগের কোন অনুষ্ঠানেও আমার তাই যাওয়া হয়নি ... এমন কি বৌ কে ও তখনো আমি দেখিনি ... তবে আমাদের "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর" গ্রুপের কথা তাদের জানা থাকায় বৌ ভাতে আমাদের সবাইকে বিশেষ ভাবে দাওয়াত করেছিলেন, অবশ্য তার পিছনে অন্য একটা কারন ও ছিল ... সে না হয় অন্য দিন বলবো ...

যাই হোক, ভাইয়াটার কাছে গিয়ে বললাম -- ভাইয়া আপনার তো চরম খারাপ অবস্হা , এক কাজ করেন ভিতরে গিয়ে একটু রেষ্ট নেন আমরা গেস্ট দেরকে রিসিভ করছি ... তখনো একে একে অনেক গেস্ট আসছে আর আমরা তাদেরকে ওয়েলকাম জানিয়ে ভিতরে পাঠাচ্ছি ... এর মাঝে একজন বেশ রাশভারী লোক তার ফ্যুল ফ্যামিলি নিয়ে এসেছেন, উনাদেরকে রিসিভ করে ভিতরে পাঠাচ্ছি এমন সময় উনার এক মেয়ে আরেকটা কে বলে উঠলো রিসিভ করার কথা টিপু ভাই এর, এইটা আবার কে ? কথাটা শুনে পাশে দাড়ানো আমার এক দোস্ত ফিসফিসায়ে উত্তর দিলো -- টিপু ভাই তো "গন" কেস, এর আগে পিছে কেউ নাই একে হবু বর বলতে পারেন ... তাইতো একে দিয়ে প্র্যাকটিস করানো হচ্ছে ... ফিসফিসায়ে বললেও কথাটা ওদের কানে চলে গেছে -- আংকেলটা ঘুরে গিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে আমার দিকে তাকাতেই এমন একটা নিষ্পাপ হাসি উপহার দিলাম যে উনি আর কিছু না বলেই ভিতরে চলে গেলেন। এভাবেই কেটে গেল আরো কিছুক্ষন সময় ... একসময় দেখি টিপু ভাই বাইরে এসে আমাকে এই চরম ঝামেলার কাজ থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে বললেন -- সবাই খেতে বসেছে তোমরাও খেতে যাও ...

আমরা সব বন্ধু একসাথে খেতে বসবো এমন সময় একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলো -- অনন্ত বৌভাত খেতে এসেছিস, কিন্তু তুই কি বৌ দেখেছিস ? ... আমি ও বলি -- আরে তাই তো, বৌ না দেখেই বৌভাত খাই ক্যামনে ... যেই চিন্তা সেই কাজ ... ৪ - ৫ জনের আমাদের গ্রুপ চলে গেলাম বৌ দেখতে ... স্টেজটা ছিল একটা আলাদা কামরায় ... ওখানে যেতেই সামনে পড়লো আম্মু ...আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন -- তোমরা খেয়েছ ? ... বললাম -- উহু , বৌ না দেখে খাবনা আমরা, এ এখন জন্য বৌ দেখতে এসেছি তো , আগে বৌ এর সাথে পরিচয় হই, এর পরে খাব ... আম্মু বললেন -- স্টেজের দিকে অনেক ভীড়, একটু অপেক্ষা করো ...
আমি বললাম -- টিপু ভাই এর বৌ যতক্ষন না দেখতে পাই ততক্ষন নিজের টা তো দেখি কি বলেন ? B-)
আম্মু বলেন -- কি ? X(
আমার সাথে দোস্ত বলে -- আন্টি , টিপু ভাই এর বৌ তো স্টেজে বসা, আমাদের গুলো কৈ দেখি না যে ... সব তো বুড়ি দেখা যায় :P

এই শুনে আম্মু বলে -- বান্দর গুলোকে এইখানে ঢুকতে দিসে কে ? ভাগ তোরা এখান থেকে ... একটু আগেও নাকি তোমরা বৌ এর বড় মামাদের সাথে বান্দরামী করসো শুনেছি X(
আমরা বলি -- আমরা কখন আবার কি করলাম, কে যে কি শুনাইসে আপনাদের কে জানে :| ...

এমন সময় জড়োয়া গহনা পরে একজন তার সেই মামতো বোনদের নিয়ে আমাদের কাছে এসে আম্মুকে বললো -- আন্টি , এইটাই অনন্ত ?

আম্মু হেসে দিয়ে আমাকে বলে --- দেখে নাও ভালো করে , এইটা তোমাদের টিপু ভাবী .... এর পরে বৌ এর দিকে তাকায়ে বললো --- আর এইটাই হলো আমার সেই বান্দর ....

অতঃপর জানতে পারলাম স্বল্পবসনা সুন্দরীর আসল পরিচয়

অতঃপর জানতে পারলাম

স্বল্পবসনা সুন্দরীর আসল পরিচয়

০২ রা জুন, ২০০৯ রাত ১১:৪১






শীতের কোন এক দুপুর বেলা, কলেজের পিছনের দেয়াল ঘেষে কয়েকটি বড় বড় সিমেন্টের ব্লক দিয়ে সিড়ি বানিয়ে আমরা কয়জন দেয়ালের উপরে পা ঝুলিয়ে বসে ধোঁয়া উৎসব করছি ... সচরাচর এ সাইডে কেউ আসেনা বলেই আমরা বেশ নিশ্চিন্তে বসে রেগুলার এ উৎসব করতাম ... সেদিন ২ - ৩ টা পিরিয়ড গ্যাপ থাকার কারনে বেশ লম্বা সময় পাওয়া গিয়েছিল .... কি করি , কি করি করতে করতে আমরা কয়জন ওখানেই চলে গিয়েছিলাম আড্ডা দিতে ... আড্ডার মাঝেই হঠাৎ একজন বললো - চল ক্যান্টিনে যাই, আজকে কলিজা সিংগাড়া আর চা খাব, যেমন কথা তেমন কাজ ... হৈ হৈ করতে করতে চলে গেলাম ক্যান্টিনে ... মামুর কাছ থেকে তার অবশিষ্ট সব সিংগাড়া নিয়ে টাকা দিচ্ছি ... এমন সময় দেখি ক্যান্টিনে এক স্বল্প বসনা সুন্দরীর আগমন হয়েছে ... ডানে বায়ের পোলাপাইন গুলো দেখি তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকায়ে আছে ...


এমন ভাবে দেখছে যেন এমন ড্রেসে কোন মেয়েকেই ওরা কোনোদিন দেখেনি, অবশ্য সেই সময়ের জন্য ওটা ছিল একটু বেশী খোলামেলা তাই হয়তো অমন করে দেখছিল ...তবুও ওদের এমন আচরনে বিরক্ত হয়ে ওদেরকে বললাম তোরা কি সিংগাড়া খাবি নাকি অন্য কিছু , যদি সিংগাড়া খেতে চাস তো চল ... নাইলে একটাও পাবি না বলে দিলাম ... এমন সময় সুন্দরী এসে ক্যান্টিন মামু কে বললো -- সিংগাড়া আছে কি না ... মামু আমাকে দেখায়ে বললো -- কেবল মাত্র অনন্ত মামা যা ছিল সব নিয়ে গেল, আর নেই যে ... ক্যান্টিন মামুর পাংশু মুখে উত্তর শুনে মেজাজটা আরো গেল খিচড়ে, আরে সুন্দরী হলেই কি তারে এমনে আদরে গদগদ উত্তর দিতে হবে নাকি ? /:) ... আমার সাথের একজন বলে উঠলো -- আপনি মনে হয় নতুন এসেছেন, অসুবিধা নাই আপনি আমাদের সাথে খেতে পারেন , আসেন .... আমার হাতে সিংগাড়া দেখে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাতেই আমি বললাম -- একসাথে খেতে সমস্যা নেই, কিন্তু আমরা সবাই চেইন স্মোকার ... পরে আবার ধোঁয়ায় সমস্যা হলে আমাদের দোষ দিতে পারবেন না ... কথাটা বলার সময় ভেবেছিলাম সে পিছিয়ে যাবে, আসবে না আমাদের সাথে ... কিন্তু আমার সে আশার গুড়ে বালি ছিটিয়ে হাসি মুখে পোংটা মাইয়া তার দন্ত উন্মুক্ত করে বললো -- আমার কোন সমস্যা হয় না, চলেন।

কি আর করা, তাকে নিয়ে চলে গেলাম কলেজের চিপার আমাদের সেই আড্ডাখানায় ... আমাদের দেখাদেখি সেও দেয়ালে পা ঝুলায়ে বসলো, একসাথে আড্ডা দিয়ে সিংগাড়া খেল ... ফাঁকে দিয়ে সে আমার অর্ধেকটা বেনসনেও ভাগ বসালো :| .... তাই দেখে আমি মনে মনে বলি, লে হালুয়া ... ওরে আমি না আরো ধোঁয়ার কথা বলে ভাগাতে চাইছিলাম এখন সে তো দেখি আমার স্টিক ধুমসে টানতেছে :|

যাই হোক এমন করতে করতে ব্রেক শেষ হলে পরে আমরা সবাই যার যার ক্লাসে ঢুকছি এমন সময় দেখি সুন্দরী গেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে আর গেটের মামু তারে সালাম দিচ্ছে ... অনেক ভেবেও বুঝলাম না সে আসলো ই বা কেন ... আর গেল ই বা কেন ... গেটের মামু তারে সালাম দিলো ই বা কেন ... এরাম নয় ছয় চিন্তা করতে করতে শেষ হলো আমাদের ক্লাস ... বিকেলে আপুনির বাসায় গিয়ে খাওয়ার পরে ও বললো ভাইয়া আজকে একটু পার্লারে যাব (হাবি জাবি কি না কি করবে সে), ঐ পর্যন্ত চলো একসাথে যাই ... এর পরে আমি আপুনি আর আমার ভাগ্নী একসাথে বের হতেই দেখি ও যাবে আমাদের কলেজের পাশের এক পার্লারে ... যাই হোক, আমরা সবাই একসাথে গেলাম সেখানে ... এবার আপুনিকে বিদায় দিয়ে বাসার দিকে রওনা হবো ভাবছি, এমন সময় হঠাৎ কোনখান থেকে শুনতে পালাম -- আরে অনন্ত তুমি এখানে ?
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি দুপুরের সেই সল্প বসনা সুন্দরী দাড়ায়ে হাসতেছে ... তার দিকে তাকিয়ে কোন উত্তর দেয়ার আগেই আরেকবার রাম ধাক্কা খেলাম ওর পিছনে দাড়ানো দু জন কে দেখে ... তারা আর কেউ না, আমাদের কলেজের খোদ প্রিন্সিপ্যাল আর তার বউ :-/ .... অতঃপর জানতে পারলাম - এটি তাদের একমাত্র মেয়ে, লন্ডনে পড়ালেখা করে ... কয়েকদিনের ছুটিতে বেড়াতে এসেছে বাংলাদেশে ..... :| :|

বৌ এর চেহারা দেইখা নাকি আমার বন্ধু বারবার কনফিউজড হয়ে যায়


বৌ এর চেহারা দেইখা নাকি

আমার বন্ধু বারবার

কনফিউজড হয়ে যায়

২৯ শে মে, ২০০৯ রাত ৮:৪৯





বছর খানেক আগে এক দিন এক দোস্ত ফুনায়া কইলো -- দোস্ত, বিয়াটা তো কইরাই ফালাইলাম , এখন বৌ এর চাঁদ মুখটা দেখলেই জীবনে কেমন শান্তি শান্তি লাগে ... তোর বউ নাই, জীবনটা এক্কেরে পাইনস্যা কইরা ফালাইসস , জলদি বিয়া কর ...
আমি তারে কইছিলাম -- ধীরে বন্ধু , কয়টা বছর যাক এর পরে বলিস আমারেএই কথা ...

শেষ পর্যন্ত বছর না, কয়েক মাস পরেই সেদিন আমারে ফুনাইয়া কইলো -- দোস্ত এমুন হবে তা তো আগে ভাবিনাই ...
আমি আসকাইলাম -- কেন, কি হইসে ?

দোস্ত কইলো -- হানিমুনে গেছিলাম সমুদ্র সৈকতে, সারা রাত জাগনার পরে সকালে যখন ঘুমাইসি আম্মা ফোন করে বলে কিরে এমন সময় ঘুমাস ক্যান , আমি কইসি আম্মা সারা রাইত ঘুমাই নাই, এখন একটু ঘুমাই পরে কল ব্যাক কর্তাছি .... এই কথা শুইনা আম্মা আবার ফোন দিসে ওর সেলে ... এর পরে কইলো বৌ মা পোলাডা ঠিকমতো ঘুমাইতে পারে নাই সারা রাইত, তুমি কি একটু খেয়াল রাখতে পারো নাই ? এখন থেকে ওর দিকে সবসময় খেয়াল রাখবা ... এই কথা শুনার পরে বৌ এর মুখ দেইখা বুঝতারিনাই সে হাসে না কান্দে ...

আমি কইলাম -- আর কি হইসে?

দোস্ত কইলো -- বৌ আমার মুরগী ফ্রিজ থেকে বের করে রাখসিলো রোষ্ট করবে বলে, কাজের থেকে আসার পরে দেখে আম্মা সেইটা লাউ দিয়া রান্না কইরা ফালাইসে ... আমি ও একসাথে ঢুকসিলাম ঘরে, ঐ মুহুর্তে ওর চেহারা দেইখা বুঝতে পারতেসিলাম না ও কানবো নাকি হাসবো :|

আমি কইলাম -- বিয়ার আগে যার প্রতিটা ম্যুভমেন্টে তুই সব বুইঝা ফালাইতি আজকাল এমন হইতেসে ক্যান ?

দোস্ত কইলো --- বুঝতাসি না রে, ঘটনা কোনখানে প্যাচ খাইতেসে ... সেইদিন তারে রান্নায় সাহায্য করতে গিয়া তরকারিটা মোটামুটি পুড়ায়া ফেলছিলাম, বিয়ার আগে হইলে তো সে এমন অবস্হায় কইতো - থাক যা হওয়ার হইছে, আরেকবার রান্না করুম নে, এখন দেখি কয় এইটা পুড়াইসো নিজে নিজে আবার রান্না করো ... তখনো তার চেহারা দেইখা বুঝি নাই সে রাগ কইরা কইলো নাকি ফান করলো :|

আমি কইলাম -- জটিল অবস্হা দেখি তোর , তা - শুনছি বিয়া করলে নাকি মানুষের ওজন বাড়ে , তোর কি অবস্হা ?

বন্ধু কইলো --- আর কইস না সেই দুঃখের কথা ..... কয়দিন আগে আমরা একলা আছিলাম বাসায়, আব্বা আম্মা গেছিলো গ্রামের বাড়ীতে ...ছুটির দিন আছিলো, তাই দুইদিন দুই জনে মিল্যা খালি রান্না করলাম, খাইলাম, টিভি দেখলাম আর ঘুমাইলাম ...২ দিন পরে বৌ আমারে কইলো তুমি যেমনে খাইতাসো আর ঘুমাইতাসো আম্মা গ্রামের বাড়ী থেকে আইসা তো দেখবো তুমি আর তার পোলা নাই একখান বাচ্চা হাতি হইয়া গেছ ... একটু এক্সারসাইজ করো ... আমি ভাবলাম কথা মন্দ না, আম্মা আসার পরে তারে বুঝাইতে ঝামেলা হইবো ক্যান ওজন বাড়ছে সেই সাথে তার ইন্টারভিউ এর প্রশ্নের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে কি কি খাইসি কতটুকু খাইসি, তেল বেশী খাইসি কি না .... এর চেয়ে ওয়ার্ক আউট করি ... ওয়ার্ক আউট করার আগে ভাবলাম নিজের ওজনটা একটু মেপে নিলে ভাল হয় ... খাটের নিচে থেকে ওজন মেশিনটা বাইর করে ওর উপরে যখন উঠলাম বৌ এর চেহারা দেইখা বুঝতাছিলাম না ও হাসে না কান্দে ....

আমি কইলাম -- ক্যান ?

ও কইলো --- আমি নাকি কয়েক দিন আগে মাপছিলাম আমার ওজন, তখন আছিলাম ৭৬ কিলো আর ঐ সময় মেশিনে কয় আমার ওজন নাকি ৭২ কিলো ...

আমি কই -- হয় তোর মেশিন খারাপ নাইলে ভাবীর চোখ খারাপ হয়ে গেছে ঠিকমতো দেখতারে নাই কত ওজন হইসে ... সারাদিন বাসায় কি হিন্দি চ্যানেল দেখে নাকি ?

বন্ধু কইলো -- যতক্ষন বাসায় থাকে ততক্ষন তো একটানা টিভি (এর পরে একটু চুপ করে বলে ) ... দোস্ত রাখি রে এখন ...

আমি আসকাইলাম --- আবার কি তার চেহারা দেইখা কনফিউজড হইসোস নাকি যে সে কান্দে না হাসে ?

দোস্ত কইলো -- না মানে ... আজকের মতো রাখি রে ...

আমি হাসতে হাসতে কইলাম --- ভাবী কি সামনে দাড়ায়ে আছে নাকি শুনতেসে সবকিছু .... তাইলে তো আইজকা নিশ্চিত তোর কপালে মাইর আছে ...

দোস্ত কইলো --- দোস্ত .....

সেই মুহুর্তে ফোনে শুনলাম ভাবীর গলা -- ঠিকই বলেছ অনন্ত, ভালো থেক

এর পরে একসাথে দুটো ফোন রাখার কড়কড় শব্দ পেয়ে আমিই কনফিউজড হয়ে চিন্তা করতে শুরু করলাম ... কাহিনীটা ঠিক কোন যায়গাতে প্যাচ খাইলো ? :|

মেরেছ কলসির কানা, তবুও কি প্রেম দেবে না ?

মেরেছ কলসির কানা,

তবুও কি প্রেম দেবে না ?

২৭ শে মে, ২০০৯ রাত ১১:০৬





বহুদিন পরে আনিসের বাশঝাড়ে যেন কদম ফুল ফুটিলো, তাইতো বহু কষ্টের সময় পার করার পরে জরিনা তার সাথে আজ প্রথম ডেটে যাইতে সম্মতি প্রকাশ করেছে , সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সাজুগুজু করিয়া বৈকালে তাহার সাথে দেখা করতে গেলে পরে জরিনা কহিলো আনিস আমাকে চাইনিজ খাওয়াও ... বেচারা আনিস, গতকল্য মাত্র বাবার পাঠানো পুরো মাস খরচের চেকটি পাইয়াছিল আজকে জরিনার চাইনিজ খাওয়ানোর খরচ বাবদ নিজের পকেটের সর্বস্ব খরচ করিবার পরে, বাড়ি ফেরার পথে সে রিক্সা ভাড়া দেয়ার জন্য করুন চোখে জরিনার তাকাইতেই জরিনা বলিয়া উঠিলো -- এমুন হাভাইত্যার লগে প্রেম করিয়া মজা নেই ...... তখন আনিস বেচারার পাংশু মুখ থেকে একটাই কাতর মিনতি উচ্চারিত হইলো -- আজকের মতো আমাকে রক্ষা করো প্রভু ...


========================================

কালাম আজকে বড়ই খুশী, কারন আজকে সে এমন এক জিনিস কিনিয়াছে যাহা দেখিয়া সখিনা তাহাকে আজকে নিশ্চিতভাবে আনন্দে জড়াইয়া ধরিয়া মনের মাধুরী মিশাইয়া আদর করিবে ... পিছনের ঘটনা সংক্ষেপে এই রকম - একদিন নিউমার্কেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সখিনার বড় আমসত্ব খাইতে মন চাহিয়াছিলো, কিন্তু মার্কেট বন্ধ হইয়া যাওয়ায় সেদিন আর তা কেনা সম্ভব হয়নি .... আমসত্ব না খাইতে পারিয়া সেদিন সখিনার মুখমন্ডলে যে আমাবশ্যার ছায়া সে দেখিয়াছিল আজকে অফিস থেকে ফেরার পথে তাই সে মনে করিয়া নিউমার্কেট থেকে আমসত্বের বড় একটি টুকরা কিনিয়া আনিলো। বাসায় ঢুকার পরে সখিনার হাতে সেটা দিতে দিতে কালাম বলিলো -- আমার জানের জান পরানের পরান তোমার জন্য দেখ আমসত্ব আনিয়াছি .... এই খবর শুনিয়া বড়ই পুলকিত হইয়া সখিনা আমসত্বের প্যাকেট খুলিতে না খুলিতেই চিচিং ফাকের মতো হঠাৎ তার মেজাজ তিরিক্ষি হইয়া উঠিলো ... মুহুর্তের মধ্যে হাতের আমসত্বের প্যাকেট টি দুরে ফেলিয়া দিয়া বলিলো -- না জানি কোন খান থেকে মরা মাছি সহ আমসত্ব আনিয়াছ, আমাকে এই জিনিস খাওয়াইয়া মারিয়া ফেলিতে চাও ? হায় খোদা আমাকে তোমার কাছে নিয়া চলো, এই মানুষের সাথে আর এক মুহুর্ত না ... আমি চললাম বাপের বাড়ি। মুহুর্তে কাপড় চোপড়ের ব্যাগ গুছাতে শুরু করতেই কালাম বলিলো -- আজকের মতো মাফ করিলে হয় না, কালকে তোমাকে একেবারে ফ্রেস আমসত্ব আনিয়া দিবো ... সখিনা অগ্নিচোখ হইতে ঠিকরানো আগুন কালাম পর্যন্ত পৌছাইতে পারিলে নিশ্চিতভাবে সে ততক্ষনে ভষ্ম হয়ে যেত .... উপায়ন্তর না দেখিয়া বিড়বিড় করিয়া কাতর স্বরে সে বলিতে লাগিলো -- আজকের মতো আমাকে রক্ষা করো প্রভু ...

===================================

বছর পাঁচেক ঘোরাঘুরির পরে আশিক যখন নিলীমার হাত ধরতে পারিয়াছিল তখন তাহার যেন মনে হইতেছিল আকাশে চাঁদ হাতে পাইয়াছে .... নিলীমার নরম তুলতুলে হাতে নিজের হাত রাখিতে না রাখিতেই সে কতশত স্বপ্নে বিভোর হইয়া পড়িলো ... নিলীমার হাতের অনু পরমানুর মধ্যে দিয়ে তার হৃদয়ের বন্ধ কুঠুরীতে কষাঘাত করার নিমিত্তে হালকা চাপ দিতেই তাহার শক্ত আঙ্গুলগুলো নীলিমার নরম হাতে বসে গিয়ে রক্ত জমাট বাধিয়া গেল ... পরক্ষনেই সে তাহার গন্ডদেশে টের পাইলো এতক্ষন যে নরম হাত সে ধরিয়া রাখিয়া ছিল তাহা সময় সময় বেশ শক্তও অনুভুত হইতে পারে .... তখন থেকেই আশিক মনে মনে প্রার্থনা করিতে লাগিলো -- আজকের মতো আমাকে রক্ষা করো প্রভু ...

ভালবাসায় ঘেরা কাঁচের ছোট্ট কুড়ে ঘর

ভালবাসায় ঘেরা

কাঁচের ছোট্ট কুড়ে ঘর

২৭ শে মে, ২০০৯ সকাল ৯:২১





প্রতিদিন বাচ্চাটাকে স্কুলে দিয়ে শপিং মলে একটু এ জিনিস সে জিনিস দেখে একেবারে ওকে নিয়ে ঘরে ফেরাটা যেন অনন্যার প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে, অথচ আজকে সেই অতি পরিচিত জায়গাতে ঢুকতেই কেমন জানি অন্যরকম অনুভুতি জেগে উঠেছিল মনের কোনে, মলের ভিতরে কি আজকে যেন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী মানুষের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে নাকি তার আজকে এত মানুষের ভিড়ভাট্টা ভালো লাগছে না। অনেক দিন পরে কেন জানি কোন এক অতি পরিচিত বকুলতলা তাকে দুর থেকে হাতছানি দিয়ে বলছে - অনেক দিন তুমি আসোনি আমার কাছে, বসোনি আমার ছায়ায়, বলোনি দুটো মিষ্টি কথা অথবা গাল ফুলিয়ে অভিমান করোনি আমার সাথে ... তোমার সে সব টুকরো টুকরো ভালবাসাকে আমি যে অনেক বেশী মিস করছি, তুমি কি বুঝতে পারছ ?

ফিসফিসিয়ে অনন্যা উত্তর দেয় -- তোমাকে আমি আর স্মরন করতে চাই না, চাইনা পেতে নতুন করে আর কোন দুঃখের দেখা, খরা চৈত্রের তৃষ্ণার্ত পাখির মতো জলের খোঁজে দিশেহারা হতে চাইনে আর কখনো , এইতো আমি বেশ আছি, সুখে আছি, ভাল আছি ... আমি আর নতুন করে কাউকে কষ্ট দিতে চাই না ... তুমি আর কাছে এসোনা আমার, দুরে আছ দুরেই থাক ....

যন্ত্র মানবীর মতো আবেগহীন পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে লিফটে উঠে বাটনে হাত রাখতেই বন্ধ হতে থাকা দরজার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো অনন্যা -- এ কে ? কাকে দেখতে পাচ্ছে সে তার সামনে ? এ কি চোখের ভুল, নাকি তার উষ্ম মস্তিষ্কের কল্পনার ফল ?
মানুষটি নির্বিকারভাবে লিফটের ভিতরে ঢুকে খুব সুন্দর করে বললো -- ধন্যবাদ আপনাকে। দ্বিতীয়বারের মতো চমকে উঠলো অনন্যা -- ওমা, এ তো সেই কন্ঠস্বর ... তবে কি, এ সেই মানুষ টা..... ?

একটু পিছিয়ে যেতেই লোকটি দিকে দরজার দিকে মুখ করে দাড়ালো, ওদিকে মুখটা ফিরিয়ে না রাখলে মুখটা ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যেত কিন্তু বেয়াড়া মানুষটা এমন ভাবে দাড়িয়েছে যেন তার মুখটা কোনোভাবেই দেখতে পাচ্ছে না অনন্যা ... ক্রীম কালারের স্যুট অনন্যার সবসময়েই ভালো লাগে, তাই মানুষটিকে তার মনের মতো রং এর স্যুট পরতে দেখে মনের অজান্তেই যেন আনন্দে আপ্লুত হয়ে উঠলো সে । আবার আকষ্মিকভাবেই ও আবিষ্কার করলো - একি ব্যাপার লোকটি দেখি তার এক সময়ের খুব প্রিয় ম্যান'স বডি স্প্রে মেখে এসেছে ... প্রিয় বডি স্প্রের মিষ্টি আবেশে অনন্যা যেন আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে এক অন্য মায়াময় জগতে, তিল তিল করে যাকে গড়ে তুলেছিল নিজের হাতে, প্রতিটি দিন , প্রতিটি ক্ষনের বিন্দু বিন্দু ভালবাসাকে এক করে বানিয়েছিল নিজেদের ভালোবাসায় কুড়ে ঘর, অথচ সে কোন এক কালবৈশাখি ঝড়ের রাতে নিজের হাতে গড়া সেই ছোট্ট কুড়ে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছিল এক ইট পাথরের বন্ধ কারাগারে, এর পরে ......

ভাবনাটাকে আর বাড়তে দিলো না লিফটের "বিপ বিপ" সিগন্যাল টি , নিজের ভাষায় সে যেন জানান দিলো, চলে এসেছে অনন্যার গন্তব্য .... যন্ত্রচালিত ঘরটা থেকে যেন আজ বেরোতেই ইচ্ছে হচ্ছে না তার, তবুও গন্তব্যে পৌঁছে কেউ কি আর থেমে থাকতে পারে ? তাই অগত্যা একসময় সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দকে পাশ কাটিয়ে, তাকে নেমে যেতেই হলো .... ধীর পদক্ষেপে কিছুদুর এগিয়ে চলতে চলতে মনের মাঝে খুব একটা ইচ্ছে জাগছে মানুষটাকে আর একবার দেখতে ,কিন্তু এ যদি সেই মানুষটা না হয় তবে এমন করলে লোকটাই বা কি মনে করবে তাকে, অথচ আজ তাকে যে ওর দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে ....

এক সময় আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে পিছনে তাকে ফিরতেই হলো , কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে .... ভালবাসায় ঘেরা কাঁচের ছোট্ট ঘরটি তার দরজা বন্ধ করে চলে গিয়েছে অনেক উপরে ... তার নাগালে বাইরে ...